মরুভূমিতে মুক্তি
আশ্চর্য, এমন একটা ছবি রানির ভালো লাগল না। অর্ধেকও হয়নি, তখনি সে অস্বস্তি বোধ করছিল। আগে, পেছনে ও পাশের দর্শকগুলো তন্ময় হয়ে দেখছে, কিন্তু রানি তার চোখদুটি যদিও পর্দার দিকে রেখেছে, ভালো লাগছে না তার। অথচ এখানে আসতে তারই আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি।
সে বিমলকে চুপি চুপি বললে, চলো বাড়ি যাই।
—কেন, ভালো লাগছে না?
—না, তুমি চলো।
বিমল বললে, দাঁড়াও ইন্টারভ্যালটা তো হোক।
হলের ভেতরের হাওয়া যেন ভারী হয়ে উঠেছে, রানি নিশ্বাস ফেলতে পারছে না।
বিশ্রাম হল, কিন্তু বিমল যা মনে করেছিল তা হল না, রানি আর থাকল না। সে আর কী করে, নীল আলোর নীচ দিয়ে বাইরে এসে গাড়িতে উঠল।
কনকনে শীত। চলতি গাড়িতে বাতাসও লাগছে। রানি আরও ঘন হয়ে বসল।
বাসায় চাকর রামলোচন অপেক্ষা করছিল। রানি গিয়ে তাকে বিদায় দিয়ে দিলে। তারপর ওপরে গিয়ে একেবারেই বিছানায় শুয়ে পড়ল। যেন এই শীতের রাতেও অনেক ক্লান্ত। ওর এই এক দোষ, একটা সামান্যতম কিছু অসংগতি ঘটলে, সে তা চেপে রাখতে পারে না, প্রকাশ করে ফেলে। কিন্তু ওদিকে আবার কী যে অসংগতি ঘটেছে তাও সহজে জানাবে না, এখন যদি কেউ তার অনুভবের তীক্ষèতায় জানতে পারে।
বিমল একটা চেয়ারে বসেছিল। ঘরের জানালাগুলো বন্ধ। টেবিলের ওপর আলো জ্বলছে। কিছু পরে রানি জানালাগুলো খুলে দিয়ে খাটের ওপর বসল।
—বাইরে ভয়ানক হিম পড়ছে, জানালা খোলার কী দরকার ছিল?
—থাক-না খোলা, পরে বন্ধ করে দেব।
বিমল একটা সিগারেট ধরাল।
কথায় কথায় রানি বললে, আচ্ছা মেয়েটি যে ওরকম অবৈধভাবে ভালোবেসে চলল, এর শেষ কোথায় জান?
—শেষপর্যন্ত দেখলেই তো জানা যেত, বিমল বললে, কিন্তু আমি জানি, বই পড়েছি, অহহধ আত্মহত্যা করল!
—আমিও তাই ভাবছিলুম। ওরকম জীবন কখনও ভালো নয়। তার শেষ কখনও ভালো হতে পারে না।
—কিন্তু মানুষের ভুল বলে একটা জিনিস আছে, এটা তো স্বীকার কর!
—করি, কিন্তু এও জানি, সে ভুল আমরা জেনে-শুনেই করি। তাই তার ফল কখনও ভালো হয় না। কেবল দুঃখ আর দুঃখ। তার পরের জীবন একটা কান্নার সমুদ্র। ওর জন্যে দুঃখ হয়, কিন্তু সেজন্যে তুমি আর কী করতে পার বল? যে মেয়ে স্বামী আর ছেলে থাকতে আর একজনকে ভালোবাসে, সে ভালোবাসার, ধরো তোমার কাছেই যদি ওরকম কোনো ঘটনা ঘটে, তার পক্ষে তুমি কি তাহলে সাক্ষী দিতে পারবে? পারবে না। কেবল দুঃখই হয়।
—তাছাড়া আর উপায় কী বল? কিন্তু যা বললে তা না-করতে পারলেও নিজের দিক থেকে প্রশান্ত মনে ক্ষমাও তো করতে পারি?
—তা পার। রানি আবার শুয়ে পড়ল।
কতক্ষণ কাটল চুপচাপ বিমলের সিগারেটটা শেষ হয়ে গেছে। সে হাত-পা গুটিয়ে বসেই রইল। পাশের বাড়ির বাসন মাজার শব্দ কানে আসছে।
—ঘুমুলে?
—না।
—হঠাৎ অত মনমরা হয়ে গেলে কেন? বিমল যেন অনেক সাহসে বললে।
—কী হবে অত পরেরটা ভেবে? রানির স্বর ভারী হয়ে এল।
বিমল লক্ষ করছে, তবু বললে, তা ঠিক। তবে শুধু নিজের ভাবনাই তো সার নয়।
—এও ঠিক, কিন্তু সার নয় কখনও, যখন নিজের ভাবনা বলে একটা কিছু অন্তত থাকে।
বিমল আবার জিজ্ঞেস করলে, সে কি একেবারেই নেই?
—আছে কি নেই তা কি তুমি নিজেই জান না? রানি উষ্ণ হয়ে উঠল, কেন আবার আমাকেই জিজ্ঞেস করছ? তুমি আমার চেয়ে অনেক বুদ্ধিমান, এটুকু বোঝবার শক্তি আমার থাকলে তোমারও নিশ্চয়ই আছে। ভাবনা! সে কার থাকে? যার ভাবনার বিষয় আছে, আছে উপকরণ। আমাদের কি তা আছে? তুমি বলো। তুমিই খুঁজে বের করো।
—আমি তো অনেক খুঁজে দেখেছি,
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
৳৯৯
এক মাস
৳৩০
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments