- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
পালক পিতা
মূল রুশ থেকে অনুবাদ: হীরেন্দ্রনাথ সান্যাল
অনুবাদ সম্পাদনা: অর্দ্ধেন্দু গোস্বামী
তিনটি অনাথ ভাই। বাপও নেই, মাও নেই। না আছে বাড়ি, না আছে ঘর। দিনমজুরের কাজের আশায় তাঁরা ঘুরে বেড়াতে লাগল গাঁয়ে গাঁয়ে, জোতদারদের বাড়িতে বাড়িতে।
ঘুরতে ঘুরতে ভাবছে, ‘ভালো মনিবের কাছে যদি কাজ পেতাম!’ এমন সময় দেখতে পেল এক বুড়ো যাচ্ছে—খু-উ-ব বুড়ো, পেট পর্যন্ত লম্বা তার সাদা দাড়ি।
ভাইদের কাছে এসে বুড়ো জিজ্ঞেস করল, ‘বাছারা কোথায় চলেছ?’
তারা জবাব দিল, ‘মজুরের কাজের খুঁজে চলেছি।’
‘তোমাদের নিজেদের বুঝি জায়গা-জমি নেই?’
তারা বলল, ‘না। যদি ভালো মনিব পেতাম, সৎভাবে তাঁর কথামতো কাজ করতাম, আর তাঁকে নিজেদের বাপের মতো ভক্তি-শ্রদ্ধা করতাম।’
বুড়ো একটু ভেবে নিয়ে বলল, ‘তা বেশ তো, তোমরা আমার ছেলে হও, আমি হব তোমাদের বাবা। শুধু আমার কথা মেনে চল, আমি তোমাদের মানুষ করে তুলব, সৎভাবে ভালোমন্দ বুঝে চলতে শেখাব।’
ভায়েরা রাজি হয়ে সেই বুড়োর পিছু পিছু চলল।
তারা চলেছে গহন বনের মধ্যে দিয়ে, তেপান্তরের মাঠ পাড়ি দিয়ে। চলেছে...চলেছে...এমন সময় দেখতে পেল—রং-বেরঙের ফুলে ঘেরা সাজানো-গোছানো সাদা কুটির আর তার কাছেই চেরি ফুলের বাগান। সেই বাগানে দাঁড়িয়ে একটি মেয়ে—ঐ ফুলের মতো প্রফুল্ল, সুন্দর।
মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বড় ভাই বলে উঠল, ‘আহা! এই মেয়েটির সঙ্গে যদি আমার বিয়ে হতো! সেই সাথে কয়েকটা গরু আর ষাঁড়ও যদি আমার থাকত!’
বুড়ো তাকে বলল, ‘এই কথা, তা বেশ তো, চল তোমার বিয়ের ব্যবস্থা করে ফেলি। তোমার একটি বউ হবে। গরু আর ষাঁড়ও তুমি পাবে। সুখে থেকো, কিন্তু ধর্মকে ভুলো না যেন।’
তারা সেখানে গেল, হৈ-হুল্লোড় করে বিয়ে হল। তারপর বড় ভাই মালিক হয়ে তার বউয়ের সঙ্গে ঘর করতে সেই কুটিরেই রয়ে গেল। বুড়ো ছোট ভাইদের নিয়ে এগিয়ে চলল।
তারা চলেছে গহীন বনের মধ্যে দিয়ে, তেপান্তরের মাঠ পাড়ি দিয়ে। চলেছে...চলেছে... মন সময় দেখতে পেল—সুন্দর ঝকঝকে একখানা কুটির, আর তার পাশেই পুকুর, পুকুরের কাছে একটা গম-ভাঙানো কল। সুন্দর একটি মেয়ে কুটিরের পাশে দাঁড়িয়ে কী যেন করছে। দেখে মনে হয়, মেয়েটি বেশ পরিশ্রমী। মেজো ভাই তার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আহা, এই মেয়েটির সাথে যদি আমার বিয়ে হতো! আর সেই সাথে যদি এই গম-ভাঙানো কল আর পুকুরও পেতাম! কলে বসে গম পিষতাম—আমার মন ভরে উঠত তৃপ্তিতে, আমি সুখী হতাম!’
বুড়ো তাকে বলল, ‘বেশ বাবা, তোমার ইচ্ছাই পূর্ণ হোক।’
তারা সেই কুটিরে গেল। পাকা দেখার পর মেয়েটির সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেল। বিয়ের পর মেজো ভাই তার বউয়ের সঙ্গে ঘর করতে সেই কুটিরেই রয়ে গেল।
বুড়ো তাকে বলল, ‘সুখে থেকো, কিন্তু দেখ বাবা ধর্মকে ভুলো না যেন।’
ছোট ভাই আর পালক পিতা এগিয়ে চলল। যেতে যেতে দেখতে পেল এক পুরনো ভাঙা কুটির। কুটিরের ভেতর থেকে বেরিয়ে এল একটি মেয়ে। দেখতে ভোরের আলোর মতোই সুন্দর। কিন্তু পোশাক তার খুবই ছেঁড়া—তালির ওপর তালি।
ছোট ভাই বলে উঠল, ‘এই মেয়েটির সঙ্গে যদি আমার বিয়ে হতো! আমরা দু জনে মিলে কাজ করতাম—আমাদের ভাত-কাপড় জুটে যেত। গরিব লোকদেরও তখন ভুলতাম না। আমরা নিজেরাও খেতাম, তাদেরও ভাগ দিতাম।’
তখন বুড়ো বলল, ‘বেশ বাবা! তাই হবে। শুধু দেখ, ধর্মকে যেন ভুলো না।’
সেখানে মেয়েটির সঙ্গে ছোট ভাইয়ের বিয়ে দিয়ে বুড়ো আবার পথ ধরল। এভাবে তিন ভাই থাকতে লাগল।
বড় ভাই এত বড়লোক হয়ে উঠল যে, কেবল বাড়ির পর বাড়ি তৈরি করছে আর মোহর জমাচ্ছে। তার একমাত্র চিন্তা কেমন করে আরও বেশি মোহর জমাবে। গরিব লোকদের সাহায্য করার কথা উঠলেই
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments