মৎস্য পুরাণ
বিশ্বাস করে না। খুকুর ভাল নাম কথায় কথায় ঠোঁট খুকুর বিয়ের গল্প, সে এক অদ্ভুত গল্প। বললে কেউ তোমাদেরও বলছি, দেখ তোমরা বিশ্বাস করতে পার কি না। মানকুমারী। মানের মরাই একটি, নামের মর্যাদা ও রেখেছে। ফুলে ওঠে, নাকের ডগা কাঁপতে থাকে, তারপর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। এখন তার বয়স ষোল, এখনও অমনি।
তার এই আশ্চর্য' বিয়ের গল্প বলতে হলে শুরু করতে হবে তার ছেলেবেলা থেকে।
যখন তার বয়স তিন কি চার তখন তার মাসী তাকে একটি বড় পুতুল উপহার দিয়েছিল তার জন্মদিনে। বেশ বড় পুতুল, যেন বড়সড় খোকা একটি। নীল চোখ, মাথার চুল চমৎকার কোঁকড়ানো, ঠোঁট দুটি টুকটুকে লাল, আর কি মিষ্টি হাসি তাতে। খুকু পুতুলটিকে দিনের বেলা তো কাছ-ছাড়া করতই না, রাত্রেও কাছে নিয়ে শূত। কিন্তু এক আপদ জুটল দিন কয়েক পরে, ফতি মাসীর বায়নাদার মেয়ে মনু। ভালো নাম মনোরমা কিন্তু ওই নামেই মনোরমা, কাজের বেলায় ঠিক উলটো। একবার গলা ছেড়ে কাঁদতে আরম্ভ করলে আর রক্ষে নেই, কাঁদছে তো কাঁদছেই, বাড়িতে কাক চিল বসবার উপায় নেই, বাড়ির লোকদের প্রাণান্ত হবার উপক্রম। আর কথায় কথায় বায়না, এটা চাই, ওটা চাই। এই মেয়েকে নিয়ে ফতি মাসী এল শরীর সারতে। খুকু জানত না তখন যে মনুটি কি 'চিজ', তাহলে কি আর তাকে পুতুল দেখায়? আগেই লুকিয়ে ফেলত। কিন্তু তা হল না। মনু আসতেই খুকু এক মুখ হেসে এগিয়ে গিয়ে বললে—"আমার পুতুল দেখ। চল্ একে নিয়ে খেলি গিয়ে। একে আজ বর সাজাই আয়। পাশের বাড়িতে মানুণ্ডুর খুকীপুতুল আছে, তার সঙ্গে বিয়ে দেব। মানতুর বাড়ি যাবি?" মনু কিন্তু লুব্ধদৃষ্টিতে চেয়েছিল পুতুলটার দিকে। কিছু না বলে ঘাড় বেকিয়ে চেয়েই রইল মিনিটখানেক। তারপর বলল, "ও পুতুল তোমার নয়, আমার—"
"ইস তোমার বই কি। মাসী আমাকে জন্মদিনে কিনে দিয়েছে—"
যুক্তি মানবার মেয়ে মনু নয়। সে আরও খানিকক্ষণ পুতুলটার দিকে তির্যক দৃষ্টিতে চেয়ে থেকে লাফিয়ে এগিয়ে গেল খুকুর দিকে, ছোঁ মেরে পুতুলটা কেড়ে নিয়ে বললে—"আমার পুতুল—তোমার নয়। আমার—"
এ রকম জবরদস্তি সহ্য করা শক্ত। খুকু এক ধাক্কায় মনুকে ধরাশায়ী করে কেড়ে নিলে পুতুলটা। তারপরেই শুরু হল মনুর আকাশ-ফাটানো চিৎকার। হাঁ হাঁ করে বাড়িসুদ্ধ সবাই ছুটে এল। কুটুমের মেয়ে দু'দিনের জন্য বেড়াতে এসেছে, কি হল তার। খুকু এক ছুটে আগেই চলে গিয়েছিল চিলে কোঠার ঘরটাতে। সেখানে শ্রীমন্ত মালীর খোলা কাঠের বাক্সটাতে লুকিয়ে ফেলেছে পুতুলটাকে। যখন জানা গেল সামান্য একটা পুতুলের জন্য এই কাণ্ড তখন খুকুর মা বললেন, কে'দো না মনু, লক্ষ্মীটি, তোমাকেও আমি আনিয়ে দিচ্ছি ঠিক অমনি পুতুল। পুরীর সমস্ত দোকান খুজেও কিন্তু ঠিক অত বড় দ্বিতীয় পুতুল আর পাওয়া গেল না। মনু ছোট পুতুল নেবে না, ঠিক অত বড় পুতুলই চাই। কিছুতেই কান্না থামে না তার। খুকুর মা শেষে খুকুকে বললেন দিয়ে দাও তোমার পুতুলটা মনুকে। তোমার ছোট বোন হয়, কোলকাতা থেকে তোমাকে আনিয়ে দেব একটা পুতুল। এখন ওটা দিয়ে দাও ওকে, ছোট বোনকে কি কাঁদাতে আছে?—মায়ের কণ্ঠস্বরে আদেশের আমেজ পেয়ে খুকু আর আপত্তি করতে সাহস করলে না। দিয়ে দিলে পুতুলটা। কিন্তু বুক ফেটে গেল তার। মালী শ্রীমন্তর কাছে গিয়ে দুঃখে ভেঙে পড়ল সে একেবারে। বৃদ্ধ শ্রীমন্ত মালীই তার মনের কথা বোঝে, বিপদে আপদে আশ্রয় দেয়, প্রশ্রয়ও দেয় নানাভাবে। কোলে-পিঠে করে মানুষ করেছে কিনা, তাই যত আবদার তার কাছেই। সে ওড়িয়া ভাষায় তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললে, এতে কাঁদবার কি আছে। ওর চেয়ে ঢের ভালো পুতুল তাকে সে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments