- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
ওস্তাদে ওস্তাদে
দারুণ গরমে বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক বজ্রেশ্বর গড়গড়ির ঘুম ভাঙল।
ঘরে ইলেকট্রিক পাখা ঘুরছিল, সেটা কখন থেমে গেছে। একট পাঁচ পাওয়ারের নীল বেড-সাইড ল্যাম্প জ¦লে, সেটাও নিবে রয়েছে, বাইরের জানালায় গুমোট মেঘে ঢাকা থমথমে ভাদ্রের আকাশ চারিদিকে নীরেট অন্ধকার, ঘরের ভেতরে যেন সারি সারি কষ্টি পাথরের দেওয়াল তুলে দিয়েছে কেউ। তার মানে, আজও ইলেকট্রিক ফেল করেছে। প্রায়ই এই কাণ্ড হচ্ছে আজকাল। জ্বালাতন করে মারল। তবু দেখা যাক একবার। বিছানা ছেড়ে উঠতে গেলেন বজ্রেশ্বরবাবু।
তখন কে যেন কর্কশ খসখসে গলায় বললে, বিছানা থেকে নাববেন না, যেমন আছেন তেমনি থাকুন।
বজ্রেশ্বর বুঝলেন, অন্ধকারে যদিও তিনি কাউকে দেখছে পাচ্ছেন না, কিন্তু ঘরে আর একজন কেউ আছে, যে তাকে দেখছে এবং লক্ষ্য করছে। সে যে কে হতে পারে, চালাক-লোক গড়গড়ির সেটা বুঝতে একটুও দেরী হল না। তবু ভদ্রতা করে জিজ্ঞেস করলেন? মাঝরাতে আমার ঘরে ঢুকে আলো-ফালো নিবিয়ে ভূতের মতন বসে রয়েছেন কে আপনি?
উত্তর এল: আমি ভূত।
—তা, ভূত। তা গরম-টরম লাগছে না আপনার! আলো না হয় না-ই জ্বাললেন, কিন্তু পাখাটা খুলতে আপত্তি আছে কি?
—আপত্তি ছিল না, কিন্তু নীচের মেইন সুইচ অফ করে, দিয়েছি।
—ভালোই করেছেন। গড়গড়ি বিরক্ত হলেন: তা হলে গরম আর ঘামে হালুয়া হোন বসে বসে।
—বেশিক্ষণ বসতে আসিনি। একটু দরকার আছে আপনার সঙ্গে সেটা মিটলেই চলে যাব।
—কী, ঘাড় মটকাতে চান?—গড়গড়ি গম্ভীর হয়ে বললেন, তাতে সুবিধা হবে না। আমার বয়েস হয়েছে বটে, কিন্তু ছেলে-বেলায় মশাই জাপানী ওস্তাদের কাছে যুযুৎসু শিখেছিলুম, তার একটা প্যাঁচও আমি ভুলিনি। ওসব চালাকির চেষ্টা করবেন না। আবাার যদি ভেংচি টেংচি কেটে ভয় দেখাতে চান, তা হলে আলোটা জ্বালুন, নইলে চাঁদমুখ দেখব কি করে! অন্ধকারে আপনার ভ্যাংচানি শ্রেফ বাজে হয়ে যাবে।
ভূত জবাব দিলে না। ঘুর-ঘুর-ঘুঙ-ঘুঙ করে খানিকটা কাশল।
—কি রকম বিচ্ছিরি করে কাশলেন আপনি। হুপিং কাশি আাছে নাকি?
—কী বকছেন পাগলের মতো? ভূত বিরক্ত হল: আপনি না একজন সাইন্টিস্ট? বুড়ো বয়েসে কারো হুপিং কাফ হয়?
—ভূতের খবর কী করে জানব মশাই? কোঁচার খুঁটে হাওয়া খেতে খেতে গড়গড়ি বললেন, কখনো তো রিসার্চ করার সুযোগ পাইনি। আপনিই হচ্ছেন আমার জীবনের প্রথম ভূত। অবিশ্যি আমার এক ভাইপো ছিল—তার নাম ভূতো, ছেলেবেলায় গায়ে কালি-ঝুলি মেখে থাকত বলে আমি তাকে ডাকতুম ভূত। কিন্ত এখন সে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছে—লোকে বলে কমলাক্ষবাবু—ভূত কিংবা ভূতো নামে তাকে যদি আপনি ডাকেন সে রেগে গিয়ে আপনাকে জেল দিতে পারে।
শুনে, ভূত একটা হাই তুলল। বললে, আপনার সেই কমলাক্ষকে আমি ভূত বা ভূতো কোনো নামেই ডাকতে চাই না; ডাকবার কোনো দরকার দেখছি না। আমি আপনার কাছে এসেছি।
—আমার কাছে এসেছেন তো সুইচ-টুইচ বন্ধ করে দিয়ে অন্ধকারে হুতুম-থুমোর মতো বসে রয়েছেন কেন? কী বলতে চান চটপট বলে ফেলুন। আপনারা নয় রাত্তিরে চরে বেড়ান, কিন্তু আমাদের যে এটা ঘুমোবার টাইম সে-কথা ভুলে যাবেন না কথাবার্তা শেষ করে তাড়াতাড়ি উঠে পড়ুন, কাল সকালে আবার আমার গোটাকয়েক শক্ত শক্ত অঙ্ক কষতে হবে।
উত্তরে ভূত আবার ঘুঙ ঘুঙ করে কাশল।
—এঃ, এ কাশি তো আপনার ভালো নয়। ক্রনিক বলে মনে হচ্ছে। ভালো ডাক্তার দেখান মশাই, শেষকালে আবার একটা টি-বি ফি-বি হয়ে যেতে পারে।
—দেখুন, ওসব অলক্ষুণে কথা বলে কু-ডাক ডাকবেন না শুনলেই বুক কেঁপে ওঠে। টি-বি আমার হবে কেন? আমার শত্তুরের হোক।
—তা হোক। কিন্তু আপনার শত্তুর কে? ভূতের রোজা বুঝি?
—শুধু ভূতের রোজা কেন? অনেকেই আছে। তার মধ্যে আপনিও একজন।
—আমিও? বজ্রেশ্বর গড়গড়ি
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments