গ্রামের এক স্কুলশিক্ষক
অনুবাদ: আশিস মুখোপাধ্যায়
আমিও তাদের মধ্যে একজন, যারা এমনকি একটি সাধারণ আকৃতির মূষিককেও বিরক্তিকর বলে মনে করে। সম্ভবত, তারা বিরক্তিতে মারা যেত, যদি তারা সেই বড়ো আকারের মূষিকটিকে দেখত; যেটি আমাদের প্রতিবেশী একটি গ্রামে কয়েক বছর আগে দেখা গিয়েছিল। এবং স্বভাবতই যেটি একরকম অল্পকালস্থায়ী প্রসিদ্ধি অর্জন করেছিল। তারপর অনেকদিন হল ঘটনাটি বিস্মৃতিতে ডুবে গেছে। এ ব্যাপারে কেবলমাত্র কিছু অস্পষ্টতা থেকে গেছে যা ব্যাখ্যা করা একেবারেই অসাধ্য। কিন্তু স্বীকার করা উচিত, সেটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য সাধারণ মানুষ খুব একটা কষ্ট স্বীকার করেনি। এবং তাই, যে বিষয়টি নিয়ে তাদের ভাবা উচিত ছিল, যেহেতু তারা অনেক বেশী তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে ইতিপূর্বে প্রচুর আগ্রহ দেখিয়েছে, সেইসব বিশেষ এলাকার মানষদের এ সম্বন্ধে দুর্বোধ্য উদাসীনতার ফলাফল হিসেবে, যথেষ্ট অনসন্ধান ছাড়াই এই মূষিকঘটিত কেচ্ছাটি ভুলে যাওয়া হয়েছে।
যাই হোক না কেন, এটা কোনো কাজের কথা নয় যে রেলগাড়িতে চেপে সেই গ্রামটিতে পৌঁছনো যায় না। বহু লোক গ্রামটিতে পৌঁছেছিলেন খাঁটি অননুসন্ধিৎসাতাড়িত হয়ে। যাদের মধ্যে এমনকি কিছু বিদেশীও ছিলেন। তাঁরাই শুধু এসে উঠতে পারেননি অনুসন্ধিৎসা ছাড়া যাঁদের আরো বেশী কিছু দেখানোর কথা ছিল। প্রকৃতপক্ষে, যদি কয়েকজন একেবারেই সাধারণ মানুষে, দৈনন্দিন কাজকর্ম যেসব মানুষদের কদাচিৎ এক মহূর্তের অবসর দেয়, যদি এই সমস্ত লোকেরা একেবারে কৌতূহলশূন্যভাবেও ঘটনাটিকে না নিতেন, তাহলে এই প্রাকৃত ঘটনার গুজবটি কখনই গ্রামের এলাকা ছাড়িয়ে বাইরে ছড়িয়ে পড়তো না। আসলে গুজব জিনিসটা এমনই, যাকে সাধারণত সীমানার ভেতর ধরে রাখা যায় না। যা আসলে এক্ষেত্রে, খুব মন্থরগতিতে ছড়াতে শুরু করেছিল। আক্ষরিক অর্থে বলতে গেলে, তাতে যদি কোনো ধাক্কা না দেওয়া হত, তাহলে তা মোটেই ছড়াতো না। কিন্তু, তবুুও, এটাও কোনো টেকসই কারণ নয়, যার জন্য ঘটনাটি অনসন্ধানের ব্যাপারে অসম্মত হওয়া যায়। তার বদলে বলা যায়, এই দ্বিতীয় অবস্থাটিকেও অনসন্ধান করে দেখা উচিত ছিল। যদিও তা হয়নি। গ্রামের সেই বুড়ো শিক্ষকমশায়ই একমাত্র ঘটনাটির খাতায় কলমে একটা দলিল রেখেছিলেন। নিজের পেশায় তিনি ছিলেন একজন চমৎকার লোক। তবুু তাঁর দক্ষতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা কখনোই এমন ছিল না যাতে তিনি ঘটনাটির একটা সামগ্রিক বর্ণনা গড়ে তুলতে পারেন যা অন্যের কাছে এ ব্যাপারে একটা ভিত্তি হিসেবে রাখা যাবে। তাই এটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ঘটনার প্রকৃত ব্যাখ্যার চেয়ে অন্য জাতের একটা কিছু। তাঁর ছোট পুস্তিকাটি ছাপা হয়েছিল। আর সেইসময়ে গ্রামে বেড়াতে আসা কিছু দর্শকের কাছে বেশ কিছু সংখ্যক পুস্তিকা বিক্রিও হয়েছিল। পুস্তিকাটি জনসাধারণের কাছে সামান্য স্বীকৃতিও পায়। কিন্তু শিক্ষকমশায় একথা বোঝার মতো যথেষ্ট বুদ্ধিমান ছিলেন যে, তাঁর এই খণ্ডিত পরিশ্রম, যার জন্য কেউ তাঁকে সমর্থন করেনি, শেষ পর্যন্ত মূল্যহীন। তবুুও তিনি হাল ছেড়ে দেননি। এবং তাঁর সারাজীবনের কাজ হিসেবে ব্যাপারটিকে নিয়েছিলেন। যদিও বছরের পর বছর এটা স্বাভাবিকভাবেই আরও নিরাশাব্যঞ্জক হয়ে উঠছিল। তা থেকে অন্তত এটুকু বোঝা যায় যে, একদিকে ঐ বৃহৎ মূষিকটির আবির্ভাব কি প্রবল প্রভাব বিস্তার করেছিল এবং অপরদিকে এও লক্ষণীয় যে, নিজের বিশ্বাসে কতটা পরিশ্রমী অভিনিবেশ আর সততা একজন বৃদ্ধ ও অখ্যাত গ্রাম্য স্কুলশিক্ষকের মধ্যে থাকতে পারে। কিন্তু তিনি যে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষের নিরুত্তাপ আচরণে গভীরভাবে বেদনাহত হয়েছিলেন একথা প্রমাণ হয় একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা থেকে। যার বহু বছর পরে তাঁর আলোচ্য পুস্তিকাটি প্রকাশ পায়। এতোদিনে প্রায় কারুরই মনে থাকার কথা নয় আসল ব্যাপারটা কি ছিল। এই ক্ষুদ্র পুস্তিকায়, তিনি মানুষের মধ্যে যে বোঝাপড়ার অভাব লক্ষ্য করেছিলেন, তার জন্য অভিযোগ করেন। এই অভাবগুলি ঐসব লোকেদের মধ্যে একেবারেই আশা করা যায় না। তাঁর এই দৃঢ়প্রত্যয়ী অভিযোগে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments