স্বপ্ন নেবে এসেছিল
কখনো স্বপ্ন গড়িয়ে আসে। অদ্ভুত কথা, তবু সত্যি। মনের উচ্চতম শিখরে স্বপ্ন যেন জমাট বেঁধে রয়েছে বরফের মতো, হঠাৎ কখন কিসের উত্তাপ এসে পড়ে তার শীর্ষে, সে-জমাট-বাঁধা স্বপ্ন গড়িয়ে আসে মন বেয়ে। গড়িয়ে আসে হয়তো লাভার মতো, হয়তো স্নিগ্ধ শীতল পানির মতো, কখনো-বা হয়তো পর্বত-দেহে আঘাত পেয়ে ফিরে আসা হাওয়ার মতোই আসে। সব জীবন-তো আর এক নয়।
আকবরের স্বভাব শান্ত। শান্তভাবে চলে শান্তভাবে কথা কয়ে সে আই. এ. পাস করেছে এবং শান্তভাবেই বাপের মৃত্যু সহ্য করে শান্তভাবে কেরানিগিরি করতে শুরু করেছে। কথা সে এত কম কয় যে কখনো মনে হয় তার যেন মন নেই, সে যেন ভাবে না; অথচ এ-কথা যখন মনে পড়ে যে প্রত্যেক মানুষ প্রতিটি জাগ্ৰত মুহূর্তে কিছু-না-কিছু ভাবেই, তখন ওকে চেয়ে দেখে আরো বিস্ময় লাগে।
তার সংসার ছোট। আম্মা, একটি ছোট ভাই ও সে। ভাইটি বেশ ছোট, তার সাথে কথা কওয়া যায় না; আম্মা অতি বড়, তাঁর সাথে কথা কওয়া যায় না; সংসারে তার নীরবতার ব্যাখ্যা হয়তো এই-ই। এবং এই-ই থাকত যদি না হঠাৎ তার মনে স্বপ্ন গড়িয়ে আসত।
যুদ্ধের হিড়িকে কত ওলটপালট হচ্ছে রাতদিন। আকবরের পরিবারে তেমন কিছু হল না বটে, তবে তার ধাক্কা এসে লাগল। বর্মামুলুক থেকে তিনটি প্রাণী—তাদের কেমন দূরসম্পর্কীয় আত্মীয়—তার সংসারে এসে আশ্রয় নিল। একজন আকবরের চাচা, আরেক-জন চাচি আর তৃতীয়-জন তাঁদের মেয়ে। তাঁরা আশ্রয় চাইল, যা আসলে দাবি, যে-দাবির কোনো অর্থ নেই, কিন্তু শান্ত আকবর শান্তভাবেই তাদের আশ্রয় দিলে, তার মন কিছু বললে কি না সে-কথা কে জানে।
এবং এখন সে যখন বাগানে এসে তার সাথে কথা কইতে এবং হাসতে শুরু করলে, তখন তার কেমন যেন মনে হতে লাগল, দেয়ালে-টাঙানো ফোটোটা হঠাৎ নিচে নেবে এসে রক্তমাংসের মানুষের মতো কথা কইছে।
বেশ ভালো। অসহায় তারা, আশ্রয় দেয়া ভালো। এবং তারপর কিছুদিন কেটে গেল। কাটল তেমনি শান্তভাবে এবং সামনেও কাটত ঠিকভাবেই যদি-না হঠাৎ আকবরের মনে স্বপ্ন গড়িয়ে আসত।
একদিন সকালে আকবর খবরের কাগজ পড়ছে। পড়তে-পড়তে হঠাৎ এক সময়ে কাগজ নাবিয়ে জানলা দিয়ে বাইরের পানে তাকাল। ভেতরের উঠোনে রোদ ঝকমক করছে, সেদিকেই প্রথমে দৃষ্টি পড়ল। তারপর হঠাৎ নজরে পড়ল ওই যে মেয়েটি-চাচা-চাচির মেয়েটি—সে বাঁশে কাপড় শুকোতে দেবার চেষ্টা করছে। বাঁশটা বেশ উঁচু, ও চেষ্টা করছে হাতের শাড়িটা ওপরের দিকে ছুড়ে দিয়ে বাঁশে আটকাতে, কিন্তু বারবার সে ব্যর্থ হচ্ছে। মেয়েটিকে এতদিন সে ভালো করে দেখে নি, আজ দেখলে, অর্থাৎ দেখবার ভয়ানক ইচ্ছে হল বলে দেখলে। আগে সে একে তো ভালো করে চেয়ে দেখে নি, তার ওপর দেখেছে ঘরের ছায়াতে, আজ প্রথম চেয়ে দেখলে সূর্যালোকের মধ্যে এবং অসহায়তার মধ্যে। আগে তাকে সজীব পদার্থ বলে মনে হয় নি, মনে হয়েছে সে কিছু-একটা, অথচ আজ কড়া সূর্যালোকে প্রথমে চোখে পড়ল তার শীর্ণ দেহ, এবং তার হাত-পা, যা নড়ছে। এবং বর্তমানে নড়ছে এমন কাজে যে কাজে সে বারেবারে ঠকছে।
অবশেষে শাড়িটা বাঁশে আটকাল, বিছানার চাদরটাও, তারপর সে সরে গেল ওর দৃশ্যপথ হতে। আকবর তেমনি চেয়ে রইল বাইরের পানে; এবং চেয়ে থেকে হঠাৎ কখন তার মনে হল রোদদীপ্ত উঠোনটা যেন ফাঁকা: সেখানে কী যেন ছিল যা এতক্ষণ সমস্ত দৃশ্যটা আড়াল করে রেখেছিল এবং না-থাকা সে-জিনিসটার কথা মনে হচ্ছে বারেবারে।
ঝড় যখন জাগে তখন হঠাৎই জাগে। মেয়েটির নাম রাবেয়া এবং এ-নাম হঠাৎ বড় জাঁকালো বিজ্ঞাপনের মতো ওর অন্তরে ভাসতে লাগল। তার নাম ও দেহ ছাড়িয়ে আরো কী যেন একটা অস্পষ্ট থেকে-থেকে ধোঁয়ার
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
৳৯৯
এক মাস
৳৩০
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
[কুইজে অংশ নিয়ে জিতে নিন এক মাসের ফ্রি সাবক্রিপশন]
-
ফররুখ আহমদের গ্রন্থ কোনটি?
-
ক. হরফের ছড়াখ. বর্ণশিক্ষাগ. বর্ণপরিচয়ঘ. সহজ ছড়াLogin
Please login first to Answer.
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments