সাংবাদিকতার এক অধ্যায়
“That in the year 1921 the said Communist International determined to establish a branch organisation in British India, and the accused Sripad Amrit Dange, Shaukat Usmani and Muzaffar Ahmad entered into a Conspiracy with certain other persons to establish such branch Organisations with a view to deprive the King Emperor of his sovereignty of British India.”
১৯২৯ সালের মার্চ মাসে মিরাটের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ভারত গভর্নমেন্ট মিরাট কমিউনিস্ট ষড়যন্ত্র মোকদ্দমা দায়ের করতে গিয়ে যে দরখাস্ত দাখিল করেছিল ওপরের উদ্ধৃতি তা থেকে নেওয়া হয়েছে। ১৯২৪ সালের মার্চ মাসে কানপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে কানপুর কমিউনিস্ট ষড়যন্ত্র মোকদ্দমা দায়ের করতে গিয়েও ভারত গভর্নমেন্ট অনুরূপ ভাষায় নালিশ জানিয়েছিল। সত্যই ১৯২১ সালেই ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু হয়েছিল এবং তৃতীয় কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের কার্যাবলী হতে উদ্যোক্তারা প্রেরণাও লাভ করেছিলেন। পার্টি গড়ার কাজে শ্রীপাদ অমৃত ডাঙ্গে, শওকত উসমানী, মুজফ্ফর আহ্মদ এবং অন্যরা যে যোগ দিয়েছিলেন একথাও মিথ্যা নয়।★
কমিউনিস্ট পার্টির মতো একটি বিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা এদেশের জনগণের আন্দোলনের ভিতর দিয়ে অবশ্যই সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু তবু কমিউনিস্ট মতবাদের তত্ত্ব ও ভাবধারা প্রচারের জন্য মুখপত্রের প্রয়োজন অপরিহার্য। তাই, শুরু হতেই কমিউনিস্টদের মুখপত্র প্রকাশের চেষ্টা করতে হয়েছে। সে চেষ্টায় তাঁরা বারে বারে বাধা পেয়েছেন, কিন্তু চেষ্টা কখনো ছাড়েন নি।
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম মুখপত্র বার হয়েছিল ইংরেজি ভাষায় ১৯২২ সালে। এ-কাগজখানা ভারতের বাইরে জার্মানির বার্লিন নগরে ছাপা হত। নানান গোপন ঠিকানায় ডাকযোগে কাগজ আসত। এই কাগজের নাম ছিল ভারতীয় স্বাধীনতার অগ্রদূত (The Vanguard of the Indian Independence)। কিন্তু গোপনীয়তা বেশিদিন টিকিয়ে রাখা যায়নি, পোস্ট অফিসেই পুলিস খোঁজ পেয়ে গেছে যে বিদেশ থেকে কাগজখানা আসছে। তাই নিয়ে পুলিসের ছোটাছুটি বড়ো বেড়ে গেল। তখন কাগজের নাম পালটে দিয়ে শুধুই অগ্রসৈনিক (Advanced Guard) করা হল। কিন্তু পুলিসের হাঙ্গামা বেড়েই চলল। অবস্থা যখন এই রকম দাঁড়াল তখন স্থির করা হল যে প্রথম নামেই ফিরে যাওয়া যাক। তাতেও বাধার সৃষ্টি হলো। কারণ, ইতোমধ্যে অ-কমিউনিস্ট ভারতীয় নির্বাসিতেরা অধ্যাপক বিনয়কুমার সরকারের সম্পাদনায় ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেস (Indian Independence) নাম দিয়ে একখানা কাগজ বার করে ফেলেছিলেন। অগত্যা আমাদের কাগজ শুধু ভ্যানগার্ড নামেই প্রকাশিত হতে থাকল। অনেক পরে বিদেশে ছাপা আমাদের শেষ কাগজের নাম হয়েছিল মাসেস অফ ইন্ডিয়া (Masses of India)। আমাদের এই প্রাথমিক কাগজগুলির পরিচালনা করতেন মানবেন্দ্রনাথ রায়। তবে মাসেস অফ ইন্ডিয়া-র পরিচালনার সাথে সবসময় তাঁর যোগ ছিল না। রায়ের আসল নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। তিনি কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। পার্টি বিরোধী কাজ করার জন্য ১৯২৯ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টি হতে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।
১৯২২ সালে দেশের ভিতরেও কয়েকখানা কাগজ বার হয়েছিল। তার মধ্যে এস.এ. ডাঙ্গের (শ্রীপাদ অমৃত ডাঙ্গের) সম্পাদনায় প্রকাশিত সোস্যালিস্ট-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এখানা ইংরেজি ভাষায় সাপ্তাহিক কাগজ ছিল। দুর্ভাগ্যবশত এ-কাগজের একখানা সংখ্যাও আজ আর পাওয়া যাচ্ছে না। ডাঙ্গের সম্পাদিত সোস্যালিস্ট-এর আগে সোস্যালিস্ট নাম দিয়ে ভারতবর্ষে আর কেউ কখনও কাগজ বা বই বার করেননি।
১৯২২ সালে লাহোর হতে উর্দু ভাষায় একখানা মাসিক পত্রিকা বার হয়েছিল। তার নাম ছিল ইনকিলাব (বিপ্লব)। গোলাম হোসায়ন এ-কাগজ [কাগজখানা] সম্পাদনা করতেন। তিনি একটি সরকারি কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। সে চাকুরি ছেড়ে দিয়ে তিনি কমিউনিস্ট পার্টি গড়ার কাজে লেগে যান। মজুর আন্দোলনে যোগ দিয়ে তিনি তখনকার দিনের বিখ্যাত এম ডবলিউ রেলওয়ে মজুর ইউনিয়নের সম্পাদক হন। ১৯২৩ সালে ১৮১৮ সালের তিন নম্বর রেগুলেশন অনুসারে গ্রেফতার হয়ে তিনি রাজবন্দী হলেন। পরে ১৯২৪
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments