শরণার্থী বিষয়ক কিছু কথা
জাতিসংঘের শরণার্থী সংক্রান্ত হাই কমিশনার মি. অনটোনিও গুটারেস, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন বিশ্বে ৬০ মিলিয়ন জনগণ এখন হচ্ছে শরণার্থী। এতো অধিক সংখ্যক শরণার্থীর সংখ্যা আগে আর কখনো দেখা যায়নি। হাই কমিশনার মনে করেন বর্তমান বিশ্বে প্রতি ১২২ জনের মধ্যে একজন ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছেন এবং শরণার্থী হিসেবে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। সিরিয়ার যুদ্ধে কমপক্ষে ২০.২ মিলিয়ন লোকজন গৃহহীন হয়েছে। ইয়েমেনের যুদ্ধে ৯,৩৩,৫০০ জন ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র নিরুদ্দেশে যাত্রা করেছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ চলাকালে শুধুমাত্র ২০১১ সালে মোট ৭.৬ মিলিয়ন অধিবাসী গৃহহীন হয়েছে। ইউক্রেনের বিছিন্নতাবাদীদের সাথে সংঘাতে ২০১৪ সালে প্রায় ৪.১৪ লক্ষ লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। এছাড়া কয়েকেটি দেশের দেশত্যাগী ও শরণার্থীদের পরিসংখ্যান থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে দিনের পর দিন বিশ্বব্যাপী শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ২০১১ থেকে ২০১৫ সালে কত লোকজন দেশত্যাগ করেছে তার একটি হিসেব নিম্নে দেয়া হলো:
আফগানিস্তান ২৫.৯৩ লক্ষ
কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ৫.১৭ লক্ষ
ইরিত্রিয়া ৩.৩০ লক্ষ
ইরাক ৩.৬৯ লক্ষ
পাকিস্তান ৩.১৬ লক্ষ
সোমালিয়া ১১.০৬ লক্ষ
সিরিয়ান আরব রিপাবলিক ৩৮.৬৬ লক্ষ
এমন একটি হিসেব উপস্থাপন করা হলো শুধুমাত্র একটি ধারণা দেয়ার জন্যে যে বিশ্বে যে সকল দেশে যুদ্ধ বিগ্রহ, অভ্যন্তরীণ সংঘাত, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব, রাষ্ট্রীয় বৈষম্য ও নির্যাতন অব্যাহত আছে, সে সকল দেশের অপশাসন এবং নির্যাতন থেকে রক্ষা পাওয়ার লক্ষ্যে কীভাবে জনগণকে নিজের জন্মস্থান ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য করে তার একটি চিত্র বা ধারণা দেয়ার জন্যে। বিশ্বের প্রায় ৭২৯ কোটি লোকের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১০.৪ কোটি লোক দেশত্যাগী, গৃহহীন, নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে দেশ থেকে দেশান্তরে, একস্থান থেকে অন্যস্থানে, সর্বস্ব হারিয়ে ভয়ভীতিহীন আবাসস্থলের সন্ধানে ছুটে বেড়াচ্ছে অগনিত মানুষ।
এ সকল জনগণের কথা ভেবে জাতিসংঘ ২০০০ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৫৫/৭৬ সভায় স্থির করেন যে, প্রতিবছর জুন মাসের ২০ তারিখ বিশ্ব শরণার্থী দিবস উদ্যাপন করা হবে। এ দিবসটি ঠিক করা হয় আফ্রিকান শরণার্থী দিবসকে অনুসরণ করে, যা ১৯৫১ সাল থেকে চলে আসছে এবং আফ্রিকান ইউনিটি সংস্থা বা ওএইউ (Organization of African Unity) দিবসটি উদযাপন করে আসছে। এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার তার এক বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে,
("Forced displacement is now profoundly affecting our times. It touches the lives of millions of our fellow human beings-both those forced to flee and those who provide them shelter and protection. -Never has there been a greater need for tolerance, compassion and solidarity with people who have lost everything). Mr. Antonio Guterres, High Commissioner for Refugees."
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে কীভাবে বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক কোটি মুক্তিকামী মানুষ দেশত্যাগ করেছে, তার সামান্য চিত্র তুলে ধরলে মনে হবে অবিশ্বাস্য কিন্তু তা সত্য ও বাস্তব। পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দোসরদের আক্রমণে ছিন্নমূল জনগণ ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উড়িষ্যা, অন্ধ্র প্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্য এবং অঞ্চলে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল নিজেদের বাস্তুভিটা ছেড়ে, অজানা এক গন্তব্যের সন্ধানে, সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে। দণ্ডকারণ্য, আন্দামান নিকোবর এবং এমন সব প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ সকল শরণার্থীদেরকে আশ্রয় দেয়া হয়েছিল যে তাদের জীবন এবং পেশার সাথে কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই। এ সকল শরণার্থীর মধ্যে আছে উচ্চমধ্যবিত্ত বনেদি বংশের লোকজন এবং অনেক শিক্ষিত, মেধাবী সুদর্শন ছেলে মেয়েরা। জীবনযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে তারা অজানাকে আপন করে নিয়েছে, প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে জীবনের সাথে সংগ্রাম করেছে, শুধু একটি আশা নিয়ে তাদের দেশ স্বাধীন হবে এবং অত্যাচারীরা

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice