মওদুদী থেকে গোলাম আযম
আমাদের ধর্ম ইসলামের ভিত্তি হচ্ছে একত্ববাদ (তৌহিদ)। আমাদের এক আল্লাহ, এক রসূল, এক কেতাব (কোরআন), এক কাবা এবং বলা হয় উম্মা হিসেবেও আমরা এক। কিন্তু ইসলামের দেড় হাজার বছরের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, আত্মঘাতী বিরোধ, রক্তপাত এবং অনৈক্য ছাড়া মুসলমানদের ইতিহাসে পুরো একটি শতাব্দীরও শান্তি ও ঐক্যের নজির খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রথম যুগের চার খলিফার মধ্যে তিনজনকেই হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তী যুগে আব্বাসীয় ও উমাইয়াদের মধ্যে বিরোধে যে নৃশংসতার রেকর্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, তার তুলনা সে যুগেও বিরল। এ যুগেও দেখা যাচ্ছে মুসলমান দেশগুলোর মধ্যে কোন ঐক্য নেই। একই দেশের মুসলিম উম্মার মধ্যেও শান্তি ও পারস্পরিক সম্প্রীতি নেই। এজন্য গালফ্ যুদ্ধ, পাকিস্তানে শিয়া-সুন্নী বিরোধ বা বাংলাদেশে জামাতে ইসলামী ও তাদের বিরোধীদের মধ্যে রক্তারক্তির দিকে তাকাবার দরকার নেই। এই লন্ডন শহরে বাঙ্গালী মুসলমান অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনেও আমরা একইদিনে রোজার ঈদের উৎসব পালন করতে পারিনি। এ বছরেও একদল করেছেন শুক্রবার (৩ এপ্রিল), আরেকদল করেছেন শনিবার (৪ এপ্রিল)। ঈদ উৎসব পালন নিয়ে এই ধরনের অনৈক্য ও সংঘাতও চলছে বছরের পর বছর ধরে। আমার প্রশ্ন, বছরের এই একটি দিনেও একটি দেশের একই শহরে আমরা এক হয়ে ঈদের উৎসব যদি পালন করতে না পারি; তাহলে ইসলামের নামে শান্তি ও ঐক্যের বড় বড় বুলি আওড়িয়ে লাভ কি?
কারবালার যুদ্ধ মুসলমান ও অমুসলমানদের মধ্যে হয়নি। হয়েছিল দু'দল মুসলমানের মধ্যে। রসূলুল্লাহর (দঃ) এক সাহাবার ছেলে এজিদই ধ্বংস করেছে নবী বংশ। কোন খৃষ্টান ইহুদীদের দ্বারা এই কাজটি হয়নি। ভারতবর্ষে বৃটিশ সাম্রাজ্য স্থাপনে যিনি সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, মহিশূরের সেই টিপু সুলতানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন হায়দ্রাবাদের মুসলমান শাসক নিজাম। বাংলাদেশে বৃটিশবিরোধী সিপাহী বিদ্রোহ ব্যর্থ হয় ঢাকার নবাব বংশের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল গনির বিশ্বাসঘাতকতায়। তার দেওয়া গোপন খবরের ভিত্তিতে ঢাকার তৎকালীন আন্টাঘরের ময়দানে (বর্তমান বাহাদুর শাহ পার্ক) হাজার হাজার সিপাহীকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।
বর্তমান যুগেও মুসলমান দেশগুলোর দুঃখ-দুর্দশার বড় কারণ আত্মঘাতী বিরোধ ও অনৈক্য। গালফ যুদ্ধের এতবড় নৃশংসতা থেকেও সউদী আরবসহ প্রতিক্রিয়াশীল আরব রাজাদের কোন শিক্ষা হয়নি। তারা এখনও ইরানের ইসলামী বিপ্লব এবং ইরাকের সাদ্দাম হোসেন ও লিবিয়ার গাদ্দাফীর বিরুদ্ধে খৃষ্টান সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে মদত ও সাহায্য যুগিয়ে চলেছে, তাদের পদলেহন করছে। ফলে শক্তি, ক্ষমতা ও ঔদ্ধত্য বাড়ছে ইসরায়েলের। পাকিস্তানে কোন সাম্প্রদায়িকতা ছিল না। পঞ্চাশের দশকে কাদিয়ানীবিরোধী আন্দোলন সৃষ্টি দ্বারা এই বিরোধ তৈরী করেন জামাতে ইসলামীর নেতা মওলানা মওদুদী। সে সময় পাকিস্তানে কাদিয়ানীবিরোধী দাঙ্গায় ৫০ হাজার মুসলমান নিহত হয়। দাঙ্গা এত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল যে, সেনাবাহিনীকে মসজিদে ঢুকে গুলি চালাতে হয়েছিল। এই দাঙ্গা সম্পর্কে তদন্ত প্রকাশ হয়ে পড়ে যে, কাদিয়ানীবিরোধী ইস্তাহারগুলো জামাত সউদী আরবের অর্থে প্রকাশ করে; এমন কি এই প্রচারকার্যে করাচীস্থ আমেরিকার দূতাবাসেরও যোগসাজশ ছিল। বর্তমানে যেমন বাংলাদেশে জামাত নেতা গোলাম আযমের বিরুদ্ধে '৭১ সালের গণহত্যা ও বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ফাঁসির দাবি উঠেছিল। বাংলাদেশের বর্তমান বিএনপি সরকারের সঙ্গে তৎকালীন পাকিস্তানের আইয়ুব সরকারের পার্থক্য এই যে, আইয়ুব সরকর সেকালে এই দাবি মেনে নিয়েছিলেন এবং মওলানা মওদুদী ও তার সাগরেদদের বিচারে সোপর্দ করেছিলেন। বিচারপতি মনির এই বিচার শেষে তার নাতিদীর্ঘ রায়ে মওলানা মওদুদীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন। এই ফাঁসির আদেশ রদ করার জন্য তৎকালীন জামাতে ইসলামীর আন্দোলন ব্যর্থ হয় এবং মওলানা মওদুদী প্রেসিডেন্ট আইউয়ুবের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানান। সেই পঞ্চাশের দশকেও সউদী আরব ও আমেরিকার চাপে প্রেসিডেন্ট আউয়ুব মওলানা মওদুদীর প্রাণভিক্ষার আবেদন মঞ্জুর করেন। পাকিস্তানে পঞ্চাশের দশকের এই কাদিয়ানীবিরোধী আন্দোলনই
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments