-
এই বইখানির নাম যদি দেওয়া হত 'রবীন্দ্রনাথের ভারতচিন্তা', তা হলেও অসংগত হত না। কারণ এই গ্রন্থে যে প্রবন্ধগুলি সংকলিত হল তার প্রায় সবগুলিই রবীন্দ্রনাথের ভারতচিন্তা-বিষয়ক। কিন্তু তাঁর ভারতচিন্তা চিন্তামাত্রই নয়। তাতে প্রেরণা আছে, পথের নির্দেশও আছে। যে পথের নির্দেশ পাওয়া যায় তাঁর ভারতচিন্তায়, তাকে তিনি নিজেই বলেছেন 'ভারতপথ'। তিনি নিজেও ছিলেন সে পথের পথিক, আর তাঁর স্বজাতিকেও সে পথে প্রেরণা দেবার সাধনাই করে গিয়েছেন সারাজীবন। তাই বইটির নাম দেওয়া গেল 'ভারতপথিক রবীন্দ্রনাথ'। দৃশ্যতঃ প্রথম প্রবন্ধের নাম-অনুসারেই গ্রন্থের নামকরণ হয়েছে। কিন্তু ভেবে দেখলে বোঝা যাবে, সর-প্রবন্ধেরই মূলে রয়েছে ওই একই কথা।
রবীন্দ্রনাথের ভারতচিন্তার দুটি প্রধান দিক্। এক দিকে ভারতসত্তার মহাভাষ্য, অপর
-
উপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদী শৃঙ্খলে আবদ্ধ উপমহাদেশে সকল ভাষাভাষী জনগণের সম্মিলিত জাতীয় মুক্তির অভ্যুদয়ে সমাজতান্ত্রিক ভাবধারা ও শ্রমজীবী শ্রেণীর আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্বের প্রসার সাধনে, কমিউনিস্ট সংগঠন গড়ে তোলার কাজে এবং প্রগতিবাদী লেখক-লেখিকাদের সমবায়ী প্রয়াসে সাজ্জাদ জহীরের বহুমুখী অবদান রয়েছে। তিনি অবশ্য প্রধানতঃ ১৯৩৫ থেকে সত্তরের দশকের শুরু পর্যন্ত প্রগতি সাহিত্যের কর্ণধার হিসাবে পরিচিত। তিনি একাধারে একদিকে যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও প্রেমচাঁদের মতো দিকপাল প্রবীণদের গণমুখী সাহিত্যের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্রতী নবীন লেখক-লেখিকাদের দলবাঁধা প্রয়াসের মধ্যে নিয়ে এসেছিলেন, তেমনি এই ঐক্যের ধারাকে প্রত্যক্ষভাবে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দেশীয় তাঁবেদার কায়েমী স্বার্থবাদীদের বিরুদ্ধে বিরাট বিরাট গণ-অভ্যুদয়ে শরিক করে বিপর্যয়ের অগ্নিপরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ করেছিলেন।
১৯৭৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ৬৮ বছর
ক্যাটাগরি
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.