বই
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাংস্কৃতিক পটভূমি
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক প্রভাবও ছিল ব্যাপক। পাকিস্তানি শাসকদের বাংলা ভাষার বিরোধীতা, রবীন্দ্রবিরোধীতা, পত্রপত্রিকায় হস্তক্ষেপ, বাংলা একাডেমী ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার মত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়ে রচিত হয়েছে এই গ্রন্থ।
-
বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের পশ্চাতে সাংস্কৃতিক অনেক কারণ ছিলো, সন্দেহ নেই। বাঙালি সংস্কৃতিকে স্বাধীনতার পর থেকেই নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছেন পশ্চিমে পাকিস্তানি কায়েমি স্বার্থবাদীরা। কেননা পূর্ব ও পশ্চিমের অতি দুর্বল সাংস্কৃতিক যোগসূত্রকে তাঁরা মজবুত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই প্রসঙ্গে সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণের কারণস্বরূপ অন্য একটি কথাও বিশেষভাবে মনে রাখা আবশ্যক যে পশ্চিম পাকিস্তানি শোষণকে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের পথে পূর্ব বাংলার জনগণের কাছে সহনীয় করে তুলতে চেয়েছিলেন শাসক সম্প্রদায়। সম্মানজনক শর্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন জাতির সঙ্গেও বোধহয় সহাবস্থান সম্ভব, এবং তেমন অবস্থায়, একাত্মতা বোধ না করলেও, পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তান একটি ঢিলে কনফেডারেশনের অধীনে হয়তো বাস করতে পারতো। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের অব্যবহিত পর
-
বহু শতাব্দী থেকে এ দেশের পল্লীতে হিন্দু ও মুসলমানরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেছে। সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রে তো বটেই, এমন কি, ধর্মীয় চেতনায়ও তারা সমন্বয় সাধন করেছেন। বৈষ্ণব দর্শনের পশ্চাতে সূফী প্রভাব ঠিক কতখানি আজো তা গবেষণার বিষয়। কিন্তু পণ্ডিতগণ অনুমান করেন, সে প্রভাব যথেষ্ট গভীর। তা ছাড়া বৈষ্ণবদের সাম্যবাদী আদর্শও ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও মৈত্রীর দ্বারা প্রভাবিত। সহজিয়াদের সাধনার অথবা কবীরের ধর্মেও ইসলামের মানবিক আদর্শ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। কবীরের সদগুরু ও সত্যপীর এক কিনা অথবা সত্যপীরের কল্পনায় কবীরের সমন্বয়ধর্মী মনোভাব কাজ করেছে কিনা জানিনে; কিন্তু সত্যপীর হিন্দু-মুসলমানের যুগল আদর্শের সংশ্লেষিতরূপ। হিন্দু ও মুসলমানের এই ভাবের সমন্বয় অত্যুজ্জ্বলভাবে বিধৃত আছে এ দেশের সাহিত্য, সঙ্গীত,
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
আর্কাইভ
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.