-
সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে মনে হচ্ছে বাসায় আমার জন্য যে পরীক্ষা অপেক্ষা করছে, সেই পরীক্ষার কোনো প্রশ্নের উত্তরই আমি জানি না। কারণ, এইমাত্র পারিবারিকভাবে ঠিক করা এক পাত্রের সঙ্গে আলাপ করে এলাম আর অবজেকটিভ পরীক্ষার মতো এখনই ওই পাত্রের প্রাপ্ত মার্কস আমার পরিবারের কাছে বলতে হবে, যার উত্তর আমার জানা নেই। আপন মনে এসব ভাবতে ভাবতে শিলা পৌঁছে গেল দরজার কাছে, কিন্তু বেল আর বাজাতে পারছিল না আসন্ন পরীক্ষার ভয়ে।
এ ধরনের অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় বহু মেয়েকেই তার জীবনে এবং সে সময় তার পাশে দাঁড়ানোর কেউ থাকে না। জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তের সামনে এসে অসহায়ের মতো একাকী দাঁড়িয়ে
-
হঠাৎ চিৎকার দিয়ে সুমির ঘুম ভেঙে যায়। স্বপ্নে সুমি দেখেছে এক মরুভূমিতে সে হারিয়ে গেছে। হাঁটছে আর হাঁটছে, কিন্তু ফেরার কোনো পথই খুঁজে পাচ্ছে না। তার স্বামী অস্ট্রেলিয়ায় থাকে। পরদিন সে আবার অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যাবে। সুমির বিয়ে হয়েছে দুই মাস। অচেনা ঘরে ঘুম থেকে উঠেই তার মন খারাপ হয়ে যায়। তার মনে হচ্ছে এ কোন ভুবনে সে এসে পড়েছে! বিয়ের পর বাবার বাসায় গিয়েছে, তবে খুব কম। ওদের বিয়ে পারিবারিকভাবেই ঠিক করা। শ্বশুরবাড়ির অচেনা অনভ্যস্ত পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে সময় লাগে। এই নতুন জায়গায় তাকে স্বামীবিহীন একাই দিন কাটাতে হবে, যত দিন না ভিসা হয়। অনার্স, মাস্টার্স পরীক্ষাকেও এমন কঠিন
-
সুমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। সুমির বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন প্রায় শেষের দিকে। পড়াশোনায় বেশ ভালো। ফলাফলের দিক থেকে প্রথম কয়েকজনের মধ্যেই তার অবস্থান। তার সঙ্গের ছেলেরা এরই মধ্যে জিআরই, টোফেল দেওয়া শুরু করে দিয়েছে। তাদের সবারই লক্ষ্য উচ্চশিক্ষা। সুমির ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন পিএইচডি করা। পদার্থবিজ্ঞান বিষয়টিও তার খুব প্রিয়। বন্ধুদের দেখাদেখি সুমিও জিআরইর একটি বই কিনেছে নীলক্ষেত থেকে। বাড়িতে সেই বই নিয়ে আসার পর থেকে তার ওপর ঝড় বয়ে চলছে। বাবা-মা দুজনেরই এক কথা, কেনোভাবেই তাকে একা বিদেশে যেতে দেওয়া হবে না। এ আদেশের সুর এতই কঠিন যে, এর কারণ জানতে চাওয়ার সাহসটুকুও সুুমির নেই। বাবার কথা, যদি
-
‘খুব অস্বস্তির সঙ্গে এক ডেস্ক থেকে আরেক ডেস্কের সামনে যাচ্ছি আর ব্যাংকের ম্যানেজার আমাকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। সব সময়ই নিজেকে এ জায়গায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথি হিসেবে অনুভব করছি। মনের মধ্যে এক অস্বাভাবিক জড়তা তৈরি হচ্ছে। নতুন শাখায় নতুন লোকদের মাঝে এক ধরনের ভীতিই অনুভব করছি।’ এভাবেই ব্যাংককর্মী নিপা (ছদ্মনাম) বদলি হয়ে নতুন শাখায় যোগ দেওয়ার সময়ের মনের অবস্থার কথা বলছিলেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকের চাকরিজীবনে অনেক জেলার নানা শাখায় বদলি হয়েছি। এক জায়গায় দুই কি তিন বছরের বেশি কখনও থাকিনি। একটি শাখার সবাইকে বুঝে, চিনে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার পরই বদলি হতে হয় অন্য শাখায়, এটাই নিয়ম আমাদের ব্যাংকের। অবাকভাবে
-
বর্তমান যুগ প্রতিযোগিতার যুগ। এই যুগে টিকে থাকতে হলে শুধু পুঁথিগত জ্ঞানই যথেষ্ট নয়। জীবনে প্রতি মুহূর্তে আমাদের বাধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ভালো স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে চাকরিজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বহু পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। চাকরির পরীক্ষায় লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্যে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের মধ্যে দিয়ে প্রথম শতজনের মধ্যে স্থান করে নিতে পারলে তবেই একটা চাকরি পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেও অনেকে বেকার ঘরে বসে রয়েছে, চাকরি নেই। দিন দিন এই প্রতিযোগিতা আরও বাড়ছে।
নারীদের জন্য সুযোগ কম—এই অজুহাতে বসে না থেকে নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে
-
সোমার বয়স একত্রিশে পড়ল। আজকে তার জন্মদিন। নিজের জীবনের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে এভাবে আর কতদিন? বিশ বছর বয়সে সংসারজীবনে প্রবেশ। তাদের তিনজনের পরিবার। মেয়ের বয়স আট। সংসার করতে গিয়ে পড়াশোনা আর হয়ে ওঠেনি। সারাদিন কাটে কখন স্বামী বাড়ি আসবে, তার সেবা করবে, সে অপেক্ষায়। পাড়া-প্রতিবেশীদের সাথে গল্প-আড্ডায় আর বাড়িতে বসে মেয়েকে পড়াতে পড়াতেই জীবন পার হয়ে যাচ্ছে। পাশের বাড়ির মেয়েটি রোজ সকালে অফিসে চলে যাচ্ছে সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে; সন্ধ্যায় এসে বাচ্চাকে পড়ানোসহ সব কাজই করছে। তার মনে হয় সে-ও কি নিজের ইচ্ছেমতো কিছু করতে পারে না? নিজ টাকায় চলার স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে না? তার মন চাইলেও মেয়েটির
-
‘সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই বুকটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। এক বছর ধরে এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছি, নিজের মনকে প্রস্তুত করেছি, তারপরও পঁয়ত্রিশ বছরের অভ্যাস। যতই বোঝাই মন কি বুঝতে চায়? গতকালও কলেজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম, এই বারান্দায় আর আসা হবে না। তরুণীদের প্রাণচঞ্চল জীবনের স্বতঃস্ফূর্ততাকে আর উপলব্ধি করা হবে না। ভেবে খুব একা লাগছিল। কারণ, ছাত্রীরাই ছিল আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।’ বলছিলেন ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষিকা মমতাজ বেগম।
বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে মমতাজ বলেন, ‘অবসরে যাওয়ার পর আনন্দেই আছি। এখন চাকরিজীবনের চাপগুলো আর নেই। সব ধরনের চাকরিতেই একটি চাপ থাকে। অবসরে যাওয়ার আগে যে শূন্যতা, একাকিত্বের ভীতি ছিল,
-
নতুন অফিসে চাকরি নেওয়ার পর ছয় মাস পেরিয়ে গেছে লিনার (ছদ্মনাম)। এখনও পরিবেশের সঙ্গে কেন যেন নিজেকে ঠিকমতো মানিয়ে নিতে পারছে না। এর আগে দুইবছর এক এনজিওতে চাকরি করার পর এটি তার দ্বিতীয় কর্মক্ষেত্র। এনজিওর পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এত বড় কোম্পানিতে চাকরির অভিজ্ঞতা এই প্রথম। নতুন সহকর্মীরা বেশ বন্ধুবৎসল। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশও খারাপ নয়, তবু কোথায় যেন একটা প্রশ্ন। অফিসে তার বসার টেবিল একেবারে কোনায়। সহকর্মীদের টেবিল থেকে বেশ বিচ্ছিন্ন। তার সঙ্গে আলাপের সময় সব সহকর্মীই যেন আলাদা সৌজন্য আর অফিসিয়াল সম্পর্ক রক্ষা করে চলে। এমনি খুব মিশুক নয়। এই আনুষ্ঠানিকতার সম্পর্ক তাকে আরও চাপা স্বভাবের বানিয়ে দিয়েছে। নিজের যতক্ষণ
-
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই তৃণার (ছদ্মনাম) চোখ চলে যায় পত্রিকার দিকে, দিনের খবর জানতে। পত্রিকায় একেক দিন ছাপা হয় বাংলাদেশি নারীর প্রথম এভারেস্ট জয়, সিনজিনি সাহার আন্তর্জাতিক ফিজিকস অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জ পদক পাওয়ার মতো বহু অর্জনের খবর। এসব জয়ের খবর পড়তে পড়তে তৃণার মনটা ভরে ওঠে আনন্দে। বুকটা ফুলে ওঠে গর্বে। সামাজিক ও পরিবেশগতভাবে নারীদের জীবনে চলার পথ যতই বন্ধুর হোক না কেন, তা তাদের এগিয়ে যাওয়া থেকে আটকাতে পারেনি। একথা ভেবে নিজের চলার পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শক্তি পায় সে।
পাশাপাশি পত্রিকায় নানা দিন ছাপা হচ্ছে গৃহবধূর ওপর স্বামীর অমানুষিক অত্যাচার, রাস্তায় বাসে নারী ধষর্ণের শিকার এসব খবর। যা দেখে
-
বয়সের ভারে নুয়ে পড়া রোকেয়া উদাস দৃষ্টি মেলে ধরেন তার জীবনের আলোকোজ্জ্বল প্রভাতের দিকে। শৈশবের সেই বালিকা রোকেয়া ঈদের রাঙা প্রভাতে আনন্দের সাগরে ভাসছে। কিন্তু আজ জীবনসায়াহ্নে দাঁড়িয়ে তিনি রিক্ত, শূন্য, জীবনযুদ্ধে পরাজিত এক নারী। বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিয়েছেন। ঈদের দিনটি তার কাছে বিশেষ কোনো তাৎপর্য বয়ে আনে না। শৈশবের আনন্দের কিছু স্মৃতিই তার সম্বল। আজ তার কাছে ঈদ মানে আনন্দের স্মৃতি, আর বাস্তবের বেদনার মিশ্রকাব্য মাত্র!
সবার কাছে ঈদ মানেই আনন্দ। এদিন ছোট-বড় সকলে মেতে ওঠে গল্প, আড্ডায়। ঈদের দিনসহ তিন-চার দিন ধরে চারদিকে বিরাজ করে এক উৎসবের আমেজ। গ্রামের বাড়িতে মায়েরা তাদের সন্তানদের দেখা পাওয়ার আশায় বছর ধরে অপেক্ষায়
-
ছোটবেলায় বহু রহস্যময় অভিযানের গল্প পড়ে আমাদের সবারই ইচ্ছা হয় সেসব অভিযানে অংশ নিতে। বিদেশে কিশোর-কিশোরীদের সে ধরনের অভিযানের জন্য রয়েছে নানা সুযোগ। সামার ক্যাম্প থেকে শুরু করে পর্বতারোহণ, রোমাঞ্চকর আরও অনেক ধরনের অভিযানের ব্যবস্থা। কিন্তু আমাদের দেশে কিশোর-কিশোরীদের সে সুযোগ নেই। স্কুল থেকে বাসা, আর বাসা থেকে স্কুলের মাঝেই তাদের জীবন সীমাবদ্ধ। তবে এর মাঝেও ব্যতিক্রম আছে। এ দেশের পর্বতারোহীরা তাদের সেই অভিযানের শখ পূরণ করছেন পর্বতারোহণের মতো এক রহসম্যয় ও কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মধ্য দিয়ে। তাদের অভিজ্ঞতা জানার জন্য আমাদের দেশের প্রথম নারী পর্বতারোহী সাদিয়া সুলতানা ও বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টজয়ী নারী নিশাত মজুমদারের সঙ্গে আলাপ হচ্ছিল।
সাদিয়া
-
দেশে নারী চাকরিজীবীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তারপরও বহু নারী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করে আজ গৃহিণী। নারীদের এ অবস্থানের পেছনে অন্যতম কারণ-সন্তান। বিয়ের পর অনেক নারী পারিবারিক বাধাবিপত্তি জয় করে চাকরি চালিয়ে গেলেও সন্তানের দেখাশোনা ও লালন-পালনের জন্য চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। ইচ্ছা থাকলেও চাকরি করতে পারেন না। কারণ, শহরে একা বাসায় নবজাতককে রেখে কোনো মায়ের পক্ষে চাকরি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আগে যৌথ পরিবারের কারণে অনেক সময় নারীরা সন্তানকে নানি বা দাদির কাছে রেখে চাকরি করতে পারতেন। বর্তমানে একক পরিবারে থাকার কারণে তা-ও সম্ভব নয়। অনেক নারী মনে করেন সন্তানের বয়স নয় বা দশ
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.