পণ্যোৎপাদন

পুঁজিতন্ত্রী উৎপাদনের দুইটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রথমত, পুঁজিতন্ত্রের অধীনে পণ্য উৎপাদিত হয় বাজারে বিক্রয়ের জন্য; এইরূপ উৎপাদনকে আমরা বলি পণ্যোৎপাদন; দ্বিতীয়ত, পুঁজিতন্ত্রে মানুষের শ্রমদ্বারা উৎপাদিত দ্রব্যই শুধু পণ্য নয়; শ্রমশক্তি নিজেই একটি পণ্য হইয়া দাড়ায়।

পণ্যোৎপাদন ব্যতীত পুঁজিতন্ত্রের অস্তিত্ব কল্পনাই করা যায় না। কিন্তু পুঁজিতন্ত্রের উৎপত্তি এবং বিকাশের বহু পূর্ব্বেই পণ্যোৎপাদন বিদ্যমান ছিল। যাহা হউক, পুঁজিতন্ত্রের অধীনেই শুধু পণ্যোৎপাদন। সার্বত্রিক হইয়া দাঁড়াইয়াছে। অতএব, পুঁজিতন্ত্রের আলোচনার পূর্বে পণ্যোৎপাদনের বৈশিষ্ট্য এবং নিয়মগুলি জানা আবশ্যক।

পুঁজিতন্ত্রী সমাজে কোনরূপ পরিকল্পনা ব্যতীতই উৎপাদন পরিচালিত হয়। কারখানা, কলকব্জা সবই পুঁজিপতির। সব কারখানায়ই পণ্য উৎপন্ন হয় বাজারে বিক্রয়ের জন্য। কোন্ দ্রব্য এবং কি পরিমাণ দ্রব্য উৎপাদন করিতে হইবে, মালিক তাহা নিজেই স্থির করে। মালিক ইচ্ছামতো উৎপাদন কমায় কিংবা বাড়ায়, অথবা কারবার গুটাইয়া লয়। জনসাধারণের জীবনধারণের সামগ্রী যথেষ্ট উৎপাদিত হইতেছে কি না, মালিক সে দিকে লক্ষ্য করে না। কি ভাবে মোটা মুনাফা সংগ্রহ করা যাইতে পারে, একমাত্র তাহাই মালিকের দেখিবার বিষয়। যে-দ্রব্য উৎপাদন করিলে অধিক মুনাফার সম্ভাবনা, সে সেই দ্রব্যই উৎপাদন করে; যাহাতে মুনাফার সম্ভাবনা কম, তাহার কাছেও সে ঘেঁষে না।

আমরা পূর্বেই দেখিয়াছি, পণ্যাৎপাদন ধীরে ধীরে অগ্রসর হইয়া স্বাভাবিক উৎপাদনকে স্থানচ্যুত করিয়াছে। নিজের উপভোগের জন্য যে-উৎপাদন তাহাই স্বাভাবিক উৎপাদন। বহু যুগ ব্যাপিয়া এইরূপ উৎপাদনের অস্তিত্ব ছিল। দাস প্রথা, ভূমিদাস প্রথা প্রভৃতি পুঁজিতন্ত্রের পূর্ব্ববর্ত্তী উৎপাদন ব্যবস্থাগুলিতে ছিল স্বাভাবিক উৎপাদন : কিন্তু পুঁজিতন্ত্র প্রথমাবধিই বিনিময় প্রথার সঙ্গে জড়িত।

“যে-সব সমাজে পুঁজিতন্ত্রী উৎপাদন প্রথা প্রচলিত, সেখানে তাহাদের ধনদৌলত পণ্যের রাশীকৃত স্তুপরূপে প্রকটিত হয়।”

এই কথাগুলি দিয়া মার্ক্স তাঁহার প্রধান গ্রন্থ ক্যাপিটাল শুরু করিয়াছেন। এই গ্রন্থেই তিনি পুঁজিতন্ত্রী সমাজের নিয়মগুলি আবিষ্কার করিয়াছেন। পণ্যই পুঁজিতন্ত্রী সমাজ কাঠামোর জীবকোষ; তাই মার্ক্স সর্বপ্রথম পণ্যের যথার্থস্বরূপ বিশ্লেষণ করিয়াছেন।

মানুষের শ্রমদ্বারা উৎপাদিত দ্রব্যের মানুষের কোন একটি অভাব মিটানোর ক্ষমতা থাকা চাই। তাহা না হইলে মানুষ নিরর্থক শ্রম করিবে কেন? দ্রব্যের এই অভাব মিটানোর ক্ষমতাকে আমরা বলি ব্যবহার মূল্য, ঘড়ি সময়ের নির্দেশ দেয়, তাহাই ঘড়ির ব্যবহার মূল্য। আবার এমন অনেক জিনিস আছে, যাহা উৎপাদন করিতে মানুষের শ্রমের আবশ্যক হয় না; কিন্তু উহাদের ব্যবহার মূল্য থাকে; যেমন, ঝরনার জল, বনজ ফল। স্বাভাবিক উৎপাদন কিংবা পণ্যোৎপাদন দু’য়ের মধ্যেই আমরা এই ব্যবহার মূল্যের সাক্ষাৎ পাই। কৃষক তাহার নিজের ব্যবহারের জন্য যে-শস্য উৎপাদন করে, তাহা তাহার কোন একটি অভাব মিটায়; অতএব শস্যের ব্যবহার মূল্য রহিয়াছে। কিন্তু পুঁজিতন্ত্রী দেশে কৃষক বিক্রয়ের জন্য যে-শস্য উৎপাদন করে তাহা পণ্য। উহার ব্যবহার মূল্য ত থাকিবেই, কেননা উহার অভাব মিটানোর ক্ষমতা রহিয়াছে। কিন্তু কোন কারণে এই শস্য ব্যবহারের অনুপযুক্ত হইয়া পড়িলে উহার আর ব্যবহার মূল্য থাকে না। একই সঙ্গে, এই শস্যের আবার একটা নতুন বৈশিষ্ট্য দেখা দেয়। পুঁজিতন্ত্রের অধীনে শস্য পণ্যে পরিণত হয়: অপর যে-কোন পণ্যের সঙ্গে উহার বিনিময় হইতে পারে।

লেনিন বলেন, “প্রথমত, পণ্য এরূপ একটি জিনিস যাহা মানুষের কোন না কোন চাহিদা মিটায়, এবং দ্বিতীয়ত ইহা এরূপ একটি জিনিস যাহা অন্য যে-কোন জিনিসের সঙ্গে বিনিময় হয়।”

দ্রব্যের উপযোগিতা হইতে ব্যবহার মূল্যের সৃষ্টি হয়। এক জোড়া জুতার সঙ্গে দুই জোড়া কাপড়ের বিনিময় হইতেছে; নির্দিষ্ট পরিমাণের মধ্যে দুইটি ব্যবহার মূল্যের বিনিময়ের অনুপাত রূপে প্রকটিত হয় বিনিময় মূল্য (অথবা শুধু মূল্য)। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ বিনিময়ের কাজ আমরা প্রত্যক্ষ করি। ব্যবহারমূল্যগুলি বিভিন্ন; বাহ্যত ইহাদের এমন কিছু মিল নাই যে পরস্পরের মধ্যে তুলনা চলিতে পারে। ইহারা পরস্পর সমীকৃত হইতেছে।

দ্রব্যের ব্যবহার মূল্য এবং মূল্য, এই দুইটীর মধ্যে বিরোধ রহিয়াছে। যে

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice