শেয়ালি দিদি আর ওপর-পড়া নেকড়ে
এক-যে ছিল শেয়ালি, নিজের একটা ঘর বানাল সে। ঘরটা বানিয়ে না সেখানেই দিন কাটাতে লাগল। তারপরে তো ঠাণ্ডা পড়ল। ঠাণ্ডায় শেয়ালি জমে যায়, গাঁয়ে ছুটে গেল আগুন আনতে। এল এক বুড়ির বাড়িতে,
বলে: ‘কুশল গো দিদিমা! পরবের দিন, মঙ্গল হোক তোমার। আমায় একটু আগুন দাও, উপকারের শোধ দেব।’
‘তা বেশ শেয়ালি দিদি। বসো, গরম হয়ে নাও, আমি ততক্ষণ চুল্লি থেকে পিঠেগুলো নামাই গে।’
আর বুড়ি তো সেঁকছিল মসলাদার পিঠে। চুল্লি থেকে নামিয়ে সেগুলো টেবিলের ওপর রেখে জুড়তে দিল। শেয়ালির চোখ ওদিকে বড়োসড়ো লালচে রংধরা পিঠেটার দিকে। খপ্ করে নিয়েই, বাস... ভেতরকার পুরটা খেয়ে ফেলে তার জায়গায় যতসব আবর্জনা ঢুকিয়ে তার ওপর চটা বসিয়ে পালাল সেটা নিয়ে।
শেয়াল তো ছুটছে, রাখাল ছেলেরা ওদিকে গরুর পাল নিয়ে যাচ্ছে জল খাওয়াতে।
‘কুশল গো ছেলেরা!’
‘কুশল হোক শেয়ালি দিদি!’
‘এসো বদলাবদলি করি, বেড়ে মাল এঁড়ে বাছুরের সঙ্গে মসলাদার পিঠে।’
ওরা বললে, ‘বেশ।’
‘শুধু, এক্ষুনি খেয়ো না, গাঁ থেকে আমি চলে যাবার পর খাবে।’
বদলাবদলি হল। শেয়ালি এঁড়েকে নিয়ে ঢুকে গেল বনে। ছেলেরা পিঠে খেতে লাগল, আর তাতে কেবল আবর্জনা।
শেয়ালি এল নিজের ঘরে, গাছ কেটে স্লেজ বানাল, তাতে এঁড়েটাকে জুতে চালাতে লাগল। দেখে ছুটে আসছে নেকড়ে।
‘কুশল গো শেয়ালি দিদি।’
‘কুশল হোক নেকড়ে সাঙাত।’
‘কোত্থেকে পেলে এই বেড়ে মাল এঁড়ে আর স্লেজটা?’
‘বানালাম।’
‘আমায় একটু নিয়ে চলো।’
‘কোথায় নেব তোমায়? স্লেজ ভেঙে যাবে।’
বলে, ‘না, মাত্তর একটা পা রাখব এতে।’
‘তা রাখো।’
এইভাবেই চলল খানিকটা, নেকড়ে বলে: ‘শেয়ালি দিদি, অন্য পাটাও রাখি।’
‘না সাঙাত, স্লেজ ভেঙে যাবে।’
বলে, ‘না, না, ভাঙবে না।’
‘তা রাখো।’
দ্বিতীয় পাটাও রাখল নেকড়ে। যায়, যায়, হঠাৎ কী যেন মচ্ উঠল!
‘আহ্, সাঙাত, আমার স্লেজ তুমি ভেঙে ফেলছ।’
‘না, না, শেয়ালি দিদি, আমি একটা বাদাম চিবুচ্ছিলাম।’
'দেখো বাপু, সাবধান।’
চলল তারা।
‘আরেকটা পাও রাখি শেয়ালি।’
‘রাখবে কোথায়? স্লেজ ভেঙে পড়বে, কিসে করে আমি তখন কাঠ বয়ে আনব?'
বলে, ‘না, না, ভাঙবে না।’
‘তা বেশ, রাখো।’
তিনটে পা-ই রাখল নেকড়ে। ফের কী যেন—মচ্!
‘সর্বনাশ!’ শেয়ালি বলে, ‘এই বেলা ভালোয় ভালোয় চলে যাও সাঙাত, আমার স্লেজ তুমি একেবারেই ভেঙে ফেলবে।’
‘আরে না, ও আমি বাদাম চিবুচ্ছিলাম।’
‘তা আমাকেও দাও একটা।’
বলে, ‘আর নেই, ওটাই ছিল শেষ।’
চলে, চলে, নেকড়ে বলে: ‘একেবারেই উঠে বসি শেয়ালি!’
‘কোথায় বসবে সাঙাত, স্লেজ যে ভেঙে ফেলবে।’
বলে, ‘আমি এই একটুখানি।’
‘তা দেখো, সাবধান!’
তারপর নেকড়ে উঠে বসতে না বসতেই স্লেজ একেবারে চুরমার গালাগালি শুরু করল শেয়ালি। গাল দিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত বলে: ‘তুই অমুক, তুই তমুক, যা কাঠ কাট, স্লেজে কাঠ বোঝাই করে ঠেলে নিয়ে আসবি।’
বলে, ‘কী করে কাঠ বোঝাই করি, জানিই না যে কেমন কাঠ দরকার?’
‘আরে তুই অমুক, তুই তমুক, কী করে স্লেজ ভাঙতে হয় তা বেশ জানতে, তা ভাঙলেও, আর গাছ ফেলার ব্যাপারে, নেই।’ দিলে চুটিয়ে গালাগালি। গালাগালি দিয়ে দিয়ে শেষে বলে, ‘বনে ঢুকে বলবি, ‘গাছ পড় কেটে, সোজা, গিঁটগিঁটে! গাছ পড় কেটে, সোজা, গিঁটগিঁটে!’
তা নেকড়ে তো গেল।
বনে ঢুকে বললে:
‘গাছ পড় কেটে, গিঁটগিঁটে, গিঁটগিঁটে! গাছ পড় কেটে, গিঁটগিঁটে গিঁটগিঁটে!’
গাছও কেটে পড়ল। কিন্তু এত খোঁচা খোঁচা ডালপালা তাতে যে লাঠিও হয় না, স্লেজ বানান তো দূরের কথা।
তেমন গাছই শেয়ালির কাছে নিয়ে এল নেকড়ে। সেটা দেখেই শেয়ালি আবার গালাগালি দিয়ে শ্রাদ্ধ করলে: ‘আরে তুই অমুক, তুই তমুক, নিশ্চয় যা বলতে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments