কিমিওগার
এক বাদশাহর কোন ছেলেমেয়ে ছিল না, স্ত্রীকে সর্বদা তিনি বলতেন, ‘ছেলের জন্ম দেবে তুমি, যদি মেয়ের জন্ম দাও তো তোমাকে ঐ মেয়ের সঙ্গে একসঙ্গে কেটে ফেলার আদেশ দেব।’
কিন্তু বাদশাহর এমনি শাসানিতে বিশ্বাস হয় না তাঁর স্ত্রীর, তাই মন খারাপ করে না সে হাসিখুশী আমোদ-আহ্লাদে ডুবে থাকতে সে ভালবাসে। বিশেষ করে ভালবাসে সে নৌকায় চড়তে। একদিন তার লোকজনেরা তাকে নৌকায় নিয়ে বেরিয়েছে নদীতে, হঠাৎ নৌকাটা পড়ল ঘূর্ণির মাঝে। ভয়ে জ্ঞান হারাল বাদশাহর স্ত্রী। নিজের শয়নকক্ষে চোখ মেলেই আবার সেই ভয়ঙ্কর ঘূর্ণির কথা মনে পড়ল তার। স্বামীকে সে বলল, ‘নদীটা অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেবার আদেশ দিন আর এ ঘূর্ণির জায়গাটা মাটি দিয়ে এমনভাবে ভরিয়ে দেওয়া হোক যেন ওখানে একটা পাহাড়মত হয়। সেই পাহাড়ের ওপরে একটা উঁচু প্রাসাদ তৈরী করাবেন, সেখান থেকে আমি চারপাশের শোভা দেখব।’
‘ঠিক আছে, তোমার ইচ্ছা পূরণ করব আমি,’ বললেন বাদশাহ, ‘কিন্তু এর বদলে তুমি আমার জন্য ছেলের জন্ম দেবে। যদি মেয়ে হয় তবে ঐ পাহাড়ের ওপরেই তোমার আর তোমার মেয়ের সমাধি গড়ার আদেশ দেব আমি।’
বাদশাহর এই নিষ্ঠুর সিদ্ধান্তের কথা শুনে তাঁর স্ত্রী ভয় পেয়ে গেল। অসুখে পড়ল সে, শয্যাশায়ী হয়ে রইল বেশ কিছুদিন। হাকিমবদ্যি ডেকে পাঠান হল তার কাছে।
তখন একজন বুড়ী বাদশাহর স্ত্রীকে বলল যে তার মেয়ে হবে।
‘এমনি কর যেন আমার ছেলে হয়,’ বলল তার উত্তরে বাদশাহর স্ত্রী।
বাদশাহর আদেশে নদীর ঘূর্ণির কাছে জড় হল প্রচুর লোক কাজ করার জন্য—ছেলে, মেয়ে, বুড়ো, বুড়ী। পিঁপড়ের দলের মত লোকে ঘূর্ণিটাকে ঘিরে ফেলে লড়তে লাগল তার সঙ্গে। নদীর মধ্যে তারা এনে ফেলতে লাগল পাথর, গাছের গুঁড়ি, ডাল, কাঠকুটো আর মাটি চাপা দিতে লাগল।
সেই বুড়ীটা ওদিকে লোকজনের ভীড়ের মাঝে খুঁজে বেড়াতে লাগল মেয়েদের মধ্যে কেউ আসন্নপ্রসবা আছে নাকি। সবাইকে বলতে লাগল যে বাদশাহ আর বাদশাহর স্ত্রী দু’জনেই জন্ম নিয়েছে তার উপস্থিতিতেই, সে খুব দক্ষ দাই।
সেই নদীর কাজে লেগেছিল এক বুড়ো রুটিওয়ালা, তার ছেলে আর ছেলের বৌকে নিয়ে। রুটিওয়ালার ছেলে লিখতে পড়তে শিখেছে, অনেক বই পড়েছে সে। বই পড়ে সে শিখেছে নানারকম ওষুধবিষুধ তৈরী করতে, বিভিন্ন ফুলের রঙ তৈরী করতে, ইতিমধ্যেই কিমিওগার বা অপরসায়নবিদ হিসাবে নাম হয়েছে তার। কিমিওগারের স্ত্রী—মাথাভরা চুল, বড় বড় কালো চোখ, দীর্ঘ আঁখিপল্লব, সবকিছু মিলিয়ে যেন আনারকলির মতই সুন্দরী। যদিও কিমিওগার সবরকমে চেষ্টা করত তার তরুণী স্ত্রীর কষ্ট কমাবার জন্য, কিন্তু বাদাশাহর কর্মচারী তাকেও বাধ্য করে ভারী ভারী পাথর আর কাঠ বইতে।
গ্রীষ্মের সূর্যের তাপে জ্বলছে চারদিকে, লোকেরা কাজ করতে করতে ঘেমে নিয়ে উঠেছে। হঠাৎ কিমিওগারের স্ত্রীর শরীর খারাপ বোধ হল, মুখ মলিন হয়ে গেল। যুবক কিমিওগার আর তার বাবা ছুটে গেল বেচারীর কাছে, তাকে মাটিতে শুইয়ে দিল তারা। তাদের চারপাশে লোক জড় হল। সে জায়গায় কাজ থেমে গেল। বাদশাহর কর্মচারী প্রচণ্ড রেগে সেদিকে ছুটে এসেই কি হয়েছে না জেনেই মাটিতে শুয়ে থাকা মেয়েটিকে চাবুক দিয়ে আঘাত করল। প্রচণ্ড ক্ষেপে গিয়ে কিমিওগার ঝাঁগিয়ে পড়ল তার ওপর কিন্তু কিমিওগারও খেল চাবুকের বাড়ি।
এমন সময় সেই বুড়ী দাই এসে বলল যে মেয়েটিকে তখুনি বাড়ী নিয়ে যাওয়া দরকার। প্রাসাদ থেকে সামান্য দূরেই তাদের বাড়ী, জ্ঞানহারা অবস্থাতেই মেয়েটিকে বাড়ীতে আনা হল। আর বাড়ীতে একবার জ্ঞান ফেরে একবার জ্ঞান হারায় এমনি অবস্থায় একটি ছেলের জন্ম দিয়ে তখুনি মারা গেল।
কিমিওগারের বাড়ী থেকে যেই বেরিয়েছে বুড়ী দাই অমনি দেখা বাদশাহপত্নীর পাঠান লোকের সঙ্গে। ছুটে গিয়ে বাদশাহপত্নীর যন্ত্রণাকাতর চীৎকার শুনে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments