- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৯০
- ১৯২
কিমিওগার
এক বাদশাহর কোন ছেলেমেয়ে ছিল না, স্ত্রীকে সর্বদা তিনি বলতেন, ‘ছেলের জন্ম দেবে তুমি, যদি মেয়ের জন্ম দাও তো তোমাকে ঐ মেয়ের সঙ্গে একসঙ্গে কেটে ফেলার আদেশ দেব।’
কিন্তু বাদশাহর এমনি শাসানিতে বিশ্বাস হয় না তাঁর স্ত্রীর, তাই মন খারাপ করে না সে হাসিখুশী আমোদ-আহ্লাদে ডুবে থাকতে সে ভালবাসে। বিশেষ করে ভালবাসে সে নৌকায় চড়তে। একদিন তার লোকজনেরা তাকে নৌকায় নিয়ে বেরিয়েছে নদীতে, হঠাৎ নৌকাটা পড়ল ঘূর্ণির মাঝে। ভয়ে জ্ঞান হারাল বাদশাহর স্ত্রী। নিজের শয়নকক্ষে চোখ মেলেই আবার সেই ভয়ঙ্কর ঘূর্ণির কথা মনে পড়ল তার। স্বামীকে সে বলল, ‘নদীটা অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেবার আদেশ দিন আর এ ঘূর্ণির জায়গাটা মাটি দিয়ে এমনভাবে ভরিয়ে দেওয়া হোক যেন ওখানে একটা পাহাড়মত হয়। সেই পাহাড়ের ওপরে একটা উঁচু প্রাসাদ তৈরী করাবেন, সেখান থেকে আমি চারপাশের শোভা দেখব।’
‘ঠিক আছে, তোমার ইচ্ছা পূরণ করব আমি,’ বললেন বাদশাহ, ‘কিন্তু এর বদলে তুমি আমার জন্য ছেলের জন্ম দেবে। যদি মেয়ে হয় তবে ঐ পাহাড়ের ওপরেই তোমার আর তোমার মেয়ের সমাধি গড়ার আদেশ দেব আমি।’
বাদশাহর এই নিষ্ঠুর সিদ্ধান্তের কথা শুনে তাঁর স্ত্রী ভয় পেয়ে গেল। অসুখে পড়ল সে, শয্যাশায়ী হয়ে রইল বেশ কিছুদিন। হাকিমবদ্যি ডেকে পাঠান হল তার কাছে।
তখন একজন বুড়ী বাদশাহর স্ত্রীকে বলল যে তার মেয়ে হবে।
‘এমনি কর যেন আমার ছেলে হয়,’ বলল তার উত্তরে বাদশাহর স্ত্রী।
বাদশাহর আদেশে নদীর ঘূর্ণির কাছে জড় হল প্রচুর লোক কাজ করার জন্য—ছেলে, মেয়ে, বুড়ো, বুড়ী। পিঁপড়ের দলের মত লোকে ঘূর্ণিটাকে ঘিরে ফেলে লড়তে লাগল তার সঙ্গে। নদীর মধ্যে তারা এনে ফেলতে লাগল পাথর, গাছের গুঁড়ি, ডাল, কাঠকুটো আর মাটি চাপা দিতে লাগল।
সেই বুড়ীটা ওদিকে লোকজনের ভীড়ের মাঝে খুঁজে বেড়াতে লাগল মেয়েদের মধ্যে কেউ আসন্নপ্রসবা আছে নাকি। সবাইকে বলতে লাগল যে বাদশাহ আর বাদশাহর স্ত্রী দু’জনেই জন্ম নিয়েছে তার উপস্থিতিতেই, সে খুব দক্ষ দাই।
সেই নদীর কাজে লেগেছিল এক বুড়ো রুটিওয়ালা, তার ছেলে আর ছেলের বৌকে নিয়ে। রুটিওয়ালার ছেলে লিখতে পড়তে শিখেছে, অনেক বই পড়েছে সে। বই পড়ে সে শিখেছে নানারকম ওষুধবিষুধ তৈরী করতে, বিভিন্ন ফুলের রঙ তৈরী করতে, ইতিমধ্যেই কিমিওগার বা অপরসায়নবিদ হিসাবে নাম হয়েছে তার। কিমিওগারের স্ত্রী—মাথাভরা চুল, বড় বড় কালো চোখ, দীর্ঘ আঁখিপল্লব, সবকিছু মিলিয়ে যেন আনারকলির মতই সুন্দরী। যদিও কিমিওগার সবরকমে চেষ্টা করত তার তরুণী স্ত্রীর কষ্ট কমাবার জন্য, কিন্তু বাদাশাহর কর্মচারী তাকেও বাধ্য করে ভারী ভারী পাথর আর কাঠ বইতে।
গ্রীষ্মের সূর্যের তাপে জ্বলছে চারদিকে, লোকেরা কাজ করতে করতে ঘেমে নিয়ে উঠেছে। হঠাৎ কিমিওগারের স্ত্রীর শরীর খারাপ বোধ হল, মুখ মলিন হয়ে গেল। যুবক কিমিওগার আর তার বাবা ছুটে গেল বেচারীর কাছে, তাকে মাটিতে শুইয়ে দিল তারা। তাদের চারপাশে লোক জড় হল। সে জায়গায় কাজ থেমে গেল। বাদশাহর কর্মচারী প্রচণ্ড রেগে সেদিকে ছুটে এসেই কি হয়েছে না জেনেই মাটিতে শুয়ে থাকা মেয়েটিকে চাবুক দিয়ে আঘাত করল। প্রচণ্ড ক্ষেপে গিয়ে কিমিওগার ঝাঁগিয়ে পড়ল তার ওপর কিন্তু কিমিওগারও খেল চাবুকের বাড়ি।
এমন সময় সেই বুড়ী দাই এসে বলল যে মেয়েটিকে তখুনি বাড়ী নিয়ে যাওয়া দরকার। প্রাসাদ থেকে সামান্য দূরেই তাদের বাড়ী, জ্ঞানহারা অবস্থাতেই মেয়েটিকে বাড়ীতে আনা হল। আর বাড়ীতে একবার জ্ঞান ফেরে একবার জ্ঞান হারায় এমনি অবস্থায় একটি ছেলের জন্ম দিয়ে তখুনি মারা গেল।
কিমিওগারের বাড়ী থেকে যেই বেরিয়েছে বুড়ী দাই অমনি দেখা বাদশাহপত্নীর পাঠান লোকের সঙ্গে। ছুটে গিয়ে বাদশাহপত্নীর যন্ত্রণাকাতর চীৎকার শুনে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments