ডাকবাক্স
লেখক: মামেদকুলিজাদে (১৮৬৬-১৯৩২)
[বর্তমান আজেরবাইজান সাহিত্যের পথপ্রদর্শক, প্রাচ্যের সুপরিচিত পত্রিকা ‘মোল্লা নাসিরুদ্দিনের’ স্রষ্টা ও সম্পাদক। তিনি রেখে গেছেন অমূল্য সাহিত্যসম্পদ ছোট গল্প, হাস্যরসিক প্রবন্ধ, বড় গল্প (‘হারিয়ে যাওয়া গাধা’ ইত্যাদি), নাটক (‘লাশ’, ‘কেমান্চা’ ইত্যাদি), উপন্যাস ‘দানাবাশা গ্রামে’ ইত্যাদি। এখন পর্যন্তও আজেরবাইজানের শ্রেষ্ঠ ছোট গল্প লেখক বলে স্বীকৃত। তীব্র সামাজিক বিরোধ হল তাঁর ছোট গল্পগুলির মূল বিষয়। ছোট গল্পগুলি সংক্ষিপ্ত, ভাবগর্ভ। এই সংকলনে অন্তর্ভুক্ত ছোট গল্প ‘ডাকবাক্স’—এক গরীব কৃষকের সম্বন্ধে হাস্যকর, বিষণ্ণ গল্প।]
সে দিনটা ছিল বারই নভেম্বর। শীত বেশ পড়েছে কিন্তু বরফ পড়া এখনও আরম্ভ হয় নি।
ডাক্তারবাবু ভেলি-খানের অসুস্থা স্ত্রীকে আর একবার বেশ ভাল করে পরীক্ষা করে বললেন যে তার শরীর এখন বেশ সুস্থ, সপ্তাহ খানেক বাদে রওনা দেওয়া সম্ভব।
ভেলি-খানের এরিভানে বিশেষ জরুরী কাজ ছিল, তাই তিনি তাড়াতাড়ি রওনা দিতে চাচ্ছিলেন, তাছাড়া আরো বেশী ঠান্ডা পড়ে গেলে অসুস্থা স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।
ভেলি-খান এরিভানে তাঁর বন্ধু জাফর-আগাকে একটা ছোট্ট চিঠি লিখলেন:
প্রিয় বন্ধু,
সপ্তাহখানেকের মধ্যে আমি সপরিবারে এরিভানে যাচ্ছি। আমার সঙ্গে অসুস্থ্য স্ত্রী থাকবেন, তাই তোমায় একান্ত অনুরোধ জানাচ্ছি, আমার ফ্ল্যাটটার একটু তদারক করতে। বলবে যেন ফ্ল্যাটের জানালাগুলি খুলে দেয় হাওয়া খেলানোর জন্য, কার্পেটগুলোও পেতে দেয় আর চুলাগুলোও জ্বালানো দরকার। টেলিগ্রাম করে উত্তর দিও। তুমি আমাকে যা করতে বলেছিলে তা সব করেছি।
শেষ করি।
তোমার বন্ধু ভেলি-খান।
ভেলি-খান চিঠিটা খামে ভরে, স্ট্যাম্প এঁটে, ঠিকানা লিখে চাকরটাকে ডাকতে যাবেন, মনে পড়ল, তাকে অন্য কাজে পাঠিয়েছেন।
এমন সময়ে গেটে কে ধাক্কা দিল, তিনি উঠানে বেরিয়ে দেখলেন চাষী নওরোজ আলী এসেছে ইৎকাপান গ্রাম থেকে।
নওরোজ আলী প্রায়ই ভেলি-খানের সঙ্গে দেখা করতে আসে, কোনোবারই সে খালি হাতে আসে না, কখনো নিয়ে আসে ময়দা, ঘরে তৈরী সেমাই, কখনো বা মধু, মাখন। এবারও কি যেন নিয়ে এসেছে।
ভেলি-খানকে দেখে লাঠিটা দেয়ালে হেলান দিয়ে রেখে গেটের বাকি অর্ধেকটা খুলল, তারপর ‘হেট, হেট,’ করতে করতে পিঠে বোঝা ভর্তি গাধাকে উঠানে ঢোকাল। তারপর গাধাটার পিঠ থেকে বস্তাগুলো আর কতগুলো ‘ক্যাঁ, ক্যাঁ’ করা মোরগছানা নামাল।
বস্তাগুলো দেয়ালের ধারে রেখে সে ভেলি-খানের দিকে দেখল, তারপর নীচু হয়ে তাঁকে অভিবাদন জানাল।
‘আরে, নওরোজ আলী, তুমি এত কষ্ট কেন করতে গেলে?’ বললেন ভেলি-খান।
‘কি বলছ, সাহেব? কষ্ট কিসের? আমি কবরে যাওয়া পর্যন্ত তোমার কেনা গোলাম, সাহেব।’ নিজের গায়ের থেকে ধূলো ঝাড়তে ঝাড়তে বলল সে।
‘নওরোজ আলীকে চিঠিটা ডাকবাক্সে ফেলতে পাঠালে কেমন হয়?’ ভাবলেন ভেলি-খান।
দুপুর একটা বাজে, শীগগিরি ডাক চলে যাবে।
‘নওরোজ আলী, পোস্ট অফিসটা কোথায়, তুমি জান?’ জিজ্ঞাসা করলেন তিনি।
‘আমি মুখ্যসখ্য মানুষ, পোস্টুপিস কেমন করে জানব, সাহেব?’
‘আচ্ছা, তাহলে, বড়কর্তার দপ্তরটা কোথায় জান নিশ্চয়ই?’
‘তা আর জানব না, সাহেব। আমি তো এই গত সপ্তাহেই এসেছিলাম ওখানে, হুজুরের কাছে মোড়লের বিরুদ্ধে নালিশ জানাতে। মোড়লটা বড় অত্যাচার করে আমাদের ওপর, সাহেব... আর এও সত্যি যে সে তো এখানকার লোক নয়, তাই আমাদের বিশেষ ভাল চোখে দেখে না। গত সপ্তায় আমার দুটো বাছুর হারিয়ে গেল, সেইজন্যই তো গেলাম…’
‘দাঁড়া, ওসব পরে বলিস খন, এখন আমি যা বলি মন দিয়ে শোন। ঐ বড়কর্তার অফিসের ঠিক উল্টো দিকেই একটা বড় বাড়ী, সেই বাড়ীটার দেয়ালে একটা বাক্স লাগান আছে, ওটাই ডাকবাক্স। তার ওপর একটা ছোট্ট লম্বা ঢাকনা আছে... যা এখন দৌড়ে চিঠিটা নিয়ে। ঐ বাক্সটার ঢাকনা তুলে চিঠিটা ভেতরে ফেলবি, তারপর তাড়াতাড়ি ফিরে আসবি।’
নওরোজ আলী দুহাতে সাবধানে চিঠিটা ধরে ভাল করে সেটাকে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments