সৈনিকের ছেলে
বাবাকে ও প্রথম দেখেছিল সিনেমায়। তখন সে বছর পাঁচেকের শিশু।
ঘটনাটা ঘটেছিল ওই মস্ত শাদা খোঁয়াড়টায়, যেখানে ভেড়ার লোম ছাঁটা হয় প্রতি বছর। খোঁয়াড়টা টালি দিয়ে ছাওয়া, সভখোজ বসতির পেছনে পাহাড়ের তলায় রাস্তার পাশে।
এখানে সে এসেছিল মায়ের সঙ্গে। মা জিঙ্গুল সভখোজের পোস্টাপিসে টেলিফোনিস্ট, প্রতি বছর গ্রীষ্মে লোম ছাঁটার মরশুম শুরু হতেই সে ছাঁটাই ঘাঁটিতে সহায়ক কর্মী হিসাবে যোগ দেয়। বীজ বোনা ও ভেড়ার বাচ্চা দেবার মরশুমের সময় দিন রাত কমিউটেটরের পাশে ওভারটাইম কাজ শেষ হতেই ছুটি নিয়ে সে এখানে চলে আসে এবং লোম ছাঁটাইয়ের শেষ দিনটা পর্যন্ত খাটে। লোম ছাঁটার মজুরি ভালোই, রোজগার মন্দ হত না। আর সৈনিকের বিধবা, প্রতিটি বাড়তি কোপেকই তার কাছে কতই না দামী। সংসারটা অবিশ্যি বড়ো নয়—নিজে আর ছেলেটি—তাহলেও সংসার সংসারই, শীতের জন্যে জ্বালানি জমাতে হয়, দাম বাড়ার আগেই ময়দা কিনে রাখতে হয়, কাপড় চোপড় আছে, জামা জুতো আছে... দরকার কী আর কম...
কারো কাছে ছেলেটিকে রেখে আসার মতো কেউ ছিল না। তাই সঙ্গে করেই নিয়ে আসে। সারা দিন সে এখানে ময়লা মেখে মনের আনন্দে ছুটে বেড়াত লোম-ছাঁটিয়ে, রাখাল আর ঝাঁকড়া কুকুরগুলোর মধ্যে।
খোঁয়াড়ের দরজায় সিনেমার লোকদের আসতে সে-ই প্রথম দেখে এবং এই অসাধারণ সুখবর সবাইকে জানাতে সে-ই ছোটে প্রথম।
`সিনেমা এসেছে! সিনেমা!’
ছবি দেখান শুরু হয় কাজের পর, অন্ধকার হয়ে এলে। আর ততক্ষণ পর্যন্ত তার সময় আর কাটছিল না। তবে এ যন্ত্রণার পুরস্কার পায় সে। ফিল্মটা ছিল যুদ্ধ নিয়ে। খোঁয়াড়ের শেষে দুটো খুঁটির মাঝখানে ঝোলানো শাদা পর্দাটায় লড়াই শুরু হয়ে গেল, দুমদুম করে উঠল গুলি, শিস দিয়ে ছুটল হাউই, সচকিত অন্ধকারটাকে একেবারে শাদা করে দিলে, মাটিতে শুয়ে পড়ল সন্ধানীরা। হাউই নিভে যেতেই ফের এগুল তারা। এমন জোরে মেসিনগান চলল যে ছেলেটার বুক কেঁপে উঠল। হ্যাঁ, একেই না বলে যুদ্ধ!
মায়ের সঙ্গে সে বসেছিল লোমের গাঁইটের ওপর, অন্য সকলের চেয়ে পেছনে। এখান থেকে দেখা যাচ্ছিল ভালো। তবে ওর অবশ্য ইচ্ছে ছিল একেবারে প্রথম সারিতে গিয়ে বসবে, যেখানে পর্দার কাছে মাটির ওপর সভখোজের ছেলেরা এসে বসেছিল। ইচ্ছে ছিল ওদের কাছে ছুটে যাবে, কিন্তু মা ধমক দিলে: ‘চুপ কর, সকাল থেকে সন্ধে অবধি ছুটে বেড়াস, বসে থাক আমার কাছে,’ এই বলে তাকে কোলে নিয়ে বসে।
প্রজেকটর ঝকঝক করছে, যুদ্ধ চলেছে। উদগ্রীব হয়ে লোকে দেখছে তা। মা নিঃশ্বাস ফেললে, ভয় পেয়ে চমকে উঠল, আর ট্যাঙ্ক যখন সোজা ছুটে এল ওদের দিকে তখন জোরে বুকে চেপে ধরল ছেলেটিকে। পাশেই গাঁইটের ওপর বসেছিল কে একজন মেয়ে, জিভ দিয়ে আফসোসের শব্দ করে বিড়বিড় করলে: ‘মা গো! কী যে কাণ্ড, হেই ভগবান!’
ছেলেটার কিন্তু অত ভয় লাগছিল না, বরং ফ্যাশিস্টরা মরবার সময় ফুর্তিই লাগছিল খুব। আর আমাদের সৈন্য যখন উল্টে পড়ছিল, তখন তার মনে হচ্ছিল পরে নিশ্চয় ওরা উঠে দাঁড়াবে।
মোটের ওপর যুদ্ধে লোকে যেভাবে ধরাশায়ী হয় সেটা সত্যি খুব মজার। যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার সময় ঠিক ওরা যেভাবে পড়ে, একেবারে সেই রকম। এমন কি ছুটতে ছুটতেই এমন ভাবে ও পড়ে যেতে পারে যেন কেউ লেঙ্গি মেরেছে। বেশ লাগে বটে, কিন্তু কী হয়েছে, উঠে দাঁড়িয়ে ফের আক্রমণ চালালেই হল, চোট লাগার কথা মনেই থাকবে না। এরা কিন্তু উঠে দাঁড়াচ্ছে না, মাটির ওপর কালো কালো নিশ্চল ঢিপির মতো পড়েই থাকছে। অন্য রকম ভাবেও পড়তে পারে সে, পেটে গুলি লাগলে যেভাবে ওরা পড়ছিল। সঙ্গে সঙ্গেই পড়ে যায় না তারা, প্রথমে পেট চেপে ধরে, তারপর ধীরে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
চিঙ্গিস্ আইৎমাতভ্
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments