হাওয়ার কেল্লা

উর্দু থেকে অনুবাদ: ফহিম আনোয়ার ও স্বপন দাসাধিকারী

হাওয়ার কেল্লার বিষয়বস্তু হলো হিন্দুস্থানের কাল্পনিক পোলাও। হিন্দুস্থানের আদর্শ হলো ক্ষুধা এবং এটি তার প্রতি একটি চমৎকার ইঙ্গিত। এ একটি সীমিত বাগ্বিধি এবং এর কেন্দ্রবিন্দু শুধু পেট, কিন্তু হাওয়ার কেল্লা একটি বিস্তীর্ণ ও সু-উচ্চ বাগ্বিধি এবং তাতে কাল্পনিক পোলাও ছাড়াও কয়েকটি সুন্দর বস্তু মিশে আছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাল্পনিক পোলাওতে হাওয়ার কেল্লা ঢুকতে পারবে না, কিন্তু হাওয়ার কেল্লায় বসে কাল্পনিক পোলাও পাকানো যায়। এই ভাবেও ভাবা যায় যে সারা ভারতবর্ষ একটি হাওয়ার কেল্লা। আপনি কোন হাওয়ার কেল্লা তৈরী করেছেন? আমি আপনার ছোট বেলার কথা বলছি না, কেননা সারা জীবনকেই আমার হাওয়ার কেল্লা মনে হয়। মায়ের কোলে বসলাম, আবার ঝিমোতে ঝিমোতে একেবারে ফুরুৎ করে পাখি হয়ে বাগানে আপেলের শাদা শাদা ফুলে গিয়ে বসলাম এবং সেখান থেকে ঠোঁট বের করে মাকে ভয় দেখাতে লাগলাম—দেখো, দেখো মা, কত উঁচু জায়গায় বসেছি। মা হেসে প্রতিবেশিনীকে বললেন, ‘কি সরল। আর কি বোকা। আমার কোলে বসে ভাবছে কত উঁচু জায়গায় বসে আছে।’ এরপর তোমাকে থাপ্পড় দিয়ে বলে, ‘শুয়ে পড়, আমার ছুটকি এবং তোমার হাওয়ার কেল্লা ভেঙে পড়ে। এমনও হয় হামাগুড়ি দিয়ে আঙিনায় চলে গেলাম। দেওয়ালের ধারে তিনটি ইট লাগিয়ে দিলাম। একটি আছে কালো কাক, অপদেবতার মতো পশু—দেওয়ালের উপর বসে ভয়াবহ চীৎকার করতে থাকে আর কখনো কখনো তোমাকে একা পেয়ে তোমার ছোট ছোট হাত থেকে বিস্কুট কেড়ে নেয়। দ্বিতীয় ইট নিঃসন্দেহে তোমার বড়ো বোন—সে তোমাকে এমনভাবে চুমু খায় যে এক এক সময় সব মিষ্টি তেতো হয়ে যায়। মিষ্টি লাগে যখন সে খেলতে খেলতে হাসতে হাসতে তোমাকে জোরে চেপে ধরে আর আজব আজব ভালবাসার নামে ডাকে; তেতো যখন সে তোমাকে স্নান করার জন্য জল ভর্তি গামলায় ফেলে দেয়। নিশ্চয় জল তোমার পছন্দ নয়। তখন তুমি একটা হাঁটাচলা করা পশু, নাকি জলের মাছ। আবার সাবানের সেই নোনতা ফেণা নাকের নরম নরম গর্তে, চোখের পাতার ভেতর ঢুকে লঙ্কার মতো জ্বালা করে। তারপর একটা শক্ত খসখসে তোয়ালে দিয়ে তোমার গা মোছে। তোমার সারা গা লাল হয়ে ওঠে। সে কিন্তু এই কাজের সময় গুণগুণ করে গান গাইতে থাকে, কোন অর্থহীন গান এবং একটু সুগন্ধি তেল তোমার ছোট মাথায় গায়ের জোরে মাখিয়ে দেয়। তোমার মনে হয় ‘এক্ষুনি এই নরম মাথা ভেঙে পড়বে।’ এও তুমি সহ্য করে নাও। কিন্তু সে এতেই শেষ করে না; বরং কাঠের একটি কাঁটাওয়ালা কাঁকই নিয়ে বারবার তোমার কোঁচকানো চুল আঁচড়াতে থাকে, এত জোরে যে তুমি কঁকিয়ে ওঠ আর ভাব তোমার মিষ্টি বোন কোথায় গেল! এ কে, যে আমাকে কাঁদিয়ে মজা পায়।

তিন নম্বর ইট তোমার সবচেয়ে বড়ো ভাই। তুমি ওকে খুবই কম দেখো। প্রায়শই ওর হাতে একটি মোটা বই থাকে এবং চোখে মোটা কাচের চশমা। ও তোমাকে সেই সময় ভালবাসা দেখায়, যখন তুমি একা থাক। প্রথমে সে এদিক ওদিক তাকায়, বুঝে নেয় তুমি একাই তো। তুমি মনে মনে ভাব, ওর চোখে দুটি গোল গোল কি চমকাচ্ছে। ও তোমাকে থেকে থেকে এত উঁচুতে তুলে দেয় যেন তুমি আকাশ ছুঁয়েছ। ও তোমাকে হাওয়ায় ভাসিয়ে দেয়, অনেক উঁচুতে। তুমি হঠাৎ ভয় পেয়ে যাও। আবার ও দুই হাত বাড়িয়ে দ্রুত কোলে টেনে নেয়। তুমি মজা পেয়ে হাসতে থাক। তোমাকে হাসতে দেখে সে নিজে হাসতে শুরু করে। সে তোমাকে কাতুকুতু দেয় আর তুমি জোরে জোরে হাসতে থাক। এতে সে তোমার চেয়েও বেশি জোরে হাসতে

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice