দুশ্চিন্তা

টিয়াপাখী কথা কয়, বাজপাখী কয় না।

তালগাছে গুড় হয়, শালগাছে হয় না।

ধান হয় মাঠে বিলে, পানিফল পুকুরে।

গুঁতো মারে গরু মোষে, কামড়ায় কুকুরে।

মৌমাছি চাক বেঁধে মধু রাখে ভরিয়া,

মাছি করে জ্বালাতন ভন ভন করিয়া।

বিধাতার খেয়ালের পাইনেকো অন্ত,

হরিণের শিং বড়,—হস্তীর দন্ত।

অশ্বের ক্ষুরে বল,—ব্যাঘ্রের থাবাতে,

হাঁস পারে ভাসতে ও হনুমান লাফাতে।

আম থাকে ঊর্ধ্বে তে ডাল হতে ঝুলিয়া,

আলু মূলো খেতে হয় মাটি খুঁড়ে তুলিয়া।

পশু থাকে লোমে ঢাকা,—পাখী ঢাকা পালকে,

সজারু সে কাঁটা-ঢাকা,—বলো দেখি ভালো কে?

সাপ কেন বুকে হাটে,—জলে ভাসে মৎস্য,—

পাখী কেন উড়ে চলে,—বলো দেখি বৎস?

বাঁশ কেন কাঠ হেন? আখ কেন মিষ্ট?

কিছুতেই বুঝিনেকো,—এমনি অদৃষ্ট!

ফলে কেন পেট ভরে, ফুলে ছোটে গন্ধ,—

যত ভাবি তত মোর লেগে যায় ধন্ধ।

বক কেন সাদা হেন? কালো কেন ভোমরা?

রাঙা কেন জবাফুল বলো দেখি তোমরা?

বড় কথা ছেড়ে দাও, মানুষেরি কার্য;

কোথা থেকে কি যে হলো নাই বোঝবার যো!

পথে কেন হাঁটে তারা,—জলে কেন সাঁতরায়?

অফিসেতে বাবু সাজে, সং সাজে যাত্রায়?

কাছা কোঁচা, কোট্, প্যান্ট্ পুরুষের সজ্জা,

নারী ঢাকে সাড়ী পরে ঘোমটাতে লজ্জা।

কেউ রাখে দাড়ি গোঁফ,—কেউ ফেলে কামিয়ে;

কেউ গায় টেবিলেতে,—কেউ ছুঁয়ে নামিয়ে।

কারো বা কদম-ছাঁট—খোঁপা কারো মস্ত,

কারো তেড়ি, কারো টিকি,—খেয়াল সমস্ত!

গাছ কাটে কাঠুরেতে,—জামা কাটে দরজি,

ফোড়া কাটে ডাক্তারে,—যার যথা মরজি।

বাড়ী গড়ে মিস্ত্রীতে,—হাঁড়ী গড়ে কুমোরে,

পুথি গ'ড়ে পণ্ডিতে ফেটে মরে গুমোরে।

মাটি কেটে ইট করে—শাঁখা কেটে শঙ্খ;

গাছ কেটে সিন্দুক, বাক্স, পালঙ্ক।

তামা থেকে ঘটি বাটি, লোহা থেকে অস্ত্র,

মূলো থেকে তরকারী,—তুলো থেকে বস্ত্র।

শাকে রাঁধে চচ্চড়ি,—তেঁতুলেতে অম্বল,

মোম থেকে বাতি করে, লোম থেকে কম্বল।

সোনা থেকে গয়না যে করে, তার মানে কি?

খড়ি দিয়ে ছড়ি কেন হয় না, তা জানে কি?

পান কেন ডাবরে ও ধান কেন গোলাতে?

ঝাঁটা কেন ফেলে রাখি,—ছেলে রাখি দোলাতে?

চুল কাটি, নখ কাটি,—চোখ কেন কাটি না?

মধু কেন চেটে খাই,—কন্তু কেন চাটি না?

বই কেন তাকে তুলি,—ফল ফুল ডালাতে?

দুধ খাই বাটি করে,—ভাত খাই থালাতে?

জেগে কেন মুখে ডাকি,—নাকে ডাকি ঘুমিয়ে?

মরে কেন ডাকিনেকো,—বলো দেখি তুমি এ!

কালি কেন দোয়াতে ও জল কেন ঘড়াতে?

বেণী কেন ফিতে বাঁধা,—গরু বাঁধা দড়াতে?

এইমত শত শত,—কত আর বলব?

মুখে কেন খাব মোরা,—পায়ে কেন চলব?

খাটে শোওয়া, ঘাটে নাওয়া, বসা কেন আসনে ?

ঝাড়া কেন আসবাব,—মাজা কেন বাসনে?

যত ভাবি দিনরাত কূল তবু পাইনে,—

চাকরে দেয় না কেন মনিবেরে মাইনে?

জুতা কেন পায়ে পরে—টুপি পরে মাথাতে?

ঘোড়া কেন গাড়া টানে,—মোট বয় গাধাতে?

মোট কথা—ভেবে ভেবে হইলাম বৃদ্ধ,—

তেলে কেন ভাজা হয়,—জলে হয় সিদ্ধ!

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

আজকের কুইজ

[কুইজে অংশ নিয়ে জিতে নিন এক মাসের ফ্রি সাবক্রিপশন]

এ সপ্তাহের জরিপ

Readers Opinion

Editors Choice