দুদিন
আমি বললাম—মধুসদনবাবু, এই যে সামনে অশথ গাছটা, এর পাতাগগুলিকে লক্ষ্য করুন।
আমি আর মধুসূদনবাবু, তখন মধুসূদনবাবুর কাপড়ের দোকানে উপবিষ্ট। সামনে শ দেড়েক বছরের পুরোনো এক অশথ গাছ। আরো বললাম— সময় এবং অশথ গাছের পাত্ম—এই দুয়ের মধ্যে সম্পর্ক' হচ্ছে আমার বিবেচ্য বিষয়। সময় বাড়ছে এবং অশথ গাছের পাতাও বাড়ছে। সময় এবং অশত্থ গাছের পাতা। অশথ গাছের পাতা বাড়ছে অথচ সময় বাড়ছে না—এটা কি হওয়া সম্ভব মশায়?
মধুসদন না তো, অসম্ভব।
আমি— আবার সময় বাড়ছে এক মাস দুই মাস অথচ একটি কচি অশথের পাতা বাড়ছে না— এটা কি হওয়া সম্ভব মশায়, মধুসূদনবাবু,? মধুসুদনবাবু— অসম্ভব, বাড়তেই হবে অশথ গাছের পাতাকে।
আমি— আচ্ছা, তা হলে কোনো কারণে দুটো একই সঙ্গে বাড়ে—সময় এবং অশথ গাছের পাতা একই সঙ্গে বাড়ে। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে মশায়, অশথ গাছের মধ্যে সময় নেই কল্পনা করতে পারেন? অশথ গাছের পাতাটা রয়েছে অথচ তার মধ্যে সময় নেই—এটা কি কল্পনা করতে পারেন?
মধুসন্দেন—কী হল ব্যাপারটা?
আমি—তার আগে বুঝুন সময়ের সংজ্ঞা কী। আপনি তো আর সারাক্ষণ এখানে দোকানে বসে থাকবেন না, মধুসূদনবাবু। দোকান থেকে অতঃপর কোথায় যাবেন? দোকানে তো আর সারাজীবন থাকবেন না। দোকান থেকে যাবেন কোথায়, বলুন, মধুসূদনবাবু?
মধস,ন্দন—বাড়িতে যাব, আনন্দপাড়ায়।
আমি–তাই, তাহলে আপনার এই অবস্থান পরিবর্তনের মাঝখানে জিনিষ চলে যাচ্ছে। সেই জিনিষটাকে সময় ধরছি। আপনার একটি অবস্থান আগে। আরেকটি অবস্থান পরে। এই আগে পরে বুঝছি যা দিয়ে তাই সময়।
মধুসূদন—তা ঠিক।
আমি—তাহলে অশথ গাছের পাতার মধ্যে সময় নেই—একথা কল্পনা করতে পারেন কি? অশথ গাছের পাতারও অবস্থান পালটাচ্ছে।
মধুসূদন—এবং অশথ গাছের পাতাও বাড়ছে।
আমি— ঠিক। ভাবতে কি পারেন, অশথ গাছের পাতা বাড়ছে, অশথ গাছের পাতার অবস্থান পালটাচ্ছে—অথচ অশথ গাছের পাতার মধ্যে সময় নেই—এটা কি ভাবতে পারেন? অশত্থ গাছের পাতার কাছাকাছিও সময় নেই এটা কি ভাবতে পারেন?
মধুসূদন—না, ভাবা অসম্ভব। অশথ গাছের পাতার মধ্যে সময় আছেই।
আমি—এইবার ভাবনে। সময় এবং অশথ গাছের পাতা দুটোকে পৃথক করা সম্ভব নয়, কারণ সব সময় অশথ গাছের পাতায় সময় আছেই। যদি সময় এবং অশথ গাছের পাতা দুটি আলাদা জিনিস হত তবে চেষ্টা করে যেকোনো উপায়ে নিশ্চয়ই সময় এবং অশথ গাছের
করা যেত—সময়হীন অশথ গাছের পাতা করা যেত।
পাতাকে আলাদা
কিন্তু তাতো করা যাচ্ছে না। আর দুটো জিনিসকে কখনো কোনো উপায়েই আলাদা করা না গেলে আসলে সে দু-টো জিনিস নয়, একটা জিনিস।
মধুসূদনবাবু—নিশ্চয়। একটাই।
আমি—তাহলে সময়ই হচ্ছে অশথ গাছের পাতা।
মধুসদন— নিশ্চয়।
আমি—সময়কেই অশথ গাছের পাতার আকারে দেখা যাচ্ছে। আর অশথ গাছাটাও সময়।
মধুসূদনবাবু—নিশ্চয়।
আমি—মধুসূদনবাবু, আপনি সামনে সাক্ষাৎ সময়কেই দেখতে পাচ্ছেন।
মধ,সন্দেন—নিশ্চয়।
আমি—অথচ দেখন লোকে এটার নাম দিয়েছে অশথ গাছ। মধুসূদনবাবু— তাই তো শনি লোকমখে।
আমি—আজ তাহলে যাই মশায়।
অন্য এক দিনের ঘটনা। আমি আমার পিতামাক দালানে বসে ছিলাম, বারান্দায়। বিকালবেলা। বেঞ্চিতে বসে দক্ষিণ দিকে তাকিয়ে আমার মায়ের হাতে রোয়া ফলগাছগুলো দেখছিলাম। এমত সময় বৈদ্যনাথ দলপতি এসে হাজির।
আমি বললাম—আরে বৈদ্যনাথ এসো এসো। বৈদ্যনাথ আমার আদেশ পালন করল। আমি—বসো ওই বেঞ্চির উপরে বসো।
বৈদ্যনাথ বসল। আমার দিকে মুখ করে। বৈদ্যনাথের সঙ্গে নানা কথা আলোচনা করার পরে বললাম—
আমি—বৈদ্যনাথ। একটা আশ্চর্য, পদ্ধতিতে আমি বিশ্বের অনেক ব্যাপার বুঝি।
বৈদ্যনাথ—কী পদ্ধতি দাদা?
আমি–পদ্ধতির একটি প্রয়োগ তোমাকে বলছি তা হলে বুঝতে পারবে পদ্ধতিটা কী। তোমার নাম বৈদ্যনাথ। বৈদ্যনাথ একটি শব্দ— ধ্বনি সমষ্টি। এই যে শোনো মুখ দিয়ে ধ্বনি বেরচ্ছে বৈদ্যনাথ। তোমাকে ডাকছি বৈদ্যনাথ বলে। তোমার শরীর হাত পা নাক কান চোখ পা ইত্যাদি
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments