ঢাকার খেলাধুলা

ঢাকার খেলাধুলা

আজ থেকে পঞ্চাশ বৎসর পূর্বে ঢাকাবাসীরা যে সকল খেলাধূলা', আমোদ-প্রোমদে লিপ্ত ছিল বর্তমানে তাতে বিরাট পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। কিছু বিলুপ্ত হয়েছে এবং কিছু বিলুপ্তির পথে। এদের সংখ্যা অনেক। সময়ে যতটা কুলাবে বর্ণনা করব।

এখানে 'মোরগ লড়াই' এর শখ খুবই জনপ্রিয় ছিল। শহরের আরমেনীয় এবং মুসলমান ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এর পৃষ্ঠপোষকতা করতেন এবং এটিকে 'শাহী' শখ বলা হতো। শুধু শুনেছি তাই নয় ছবিতেও দেখেছি, কোম্পানি আমলের ফিরিংগি শাসকরাও জমায়েতের মধ্যে উপস্থিত থেকেছেন এবং মোরগ লড়াই করেছেন। আমাদের বাল্যকালে এই শখ পূর্ণতার পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং এর যৌবন গত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তবুও মোরগ লড়াইএর জমায়েত অব্যাহত ছিল এবং মুন্সী গোলাম মাওলা এবং লালু মিয়া প্রসিদ্ধ জমিদারদের বাড়িতে খুবই যত্নের সঙ্গে মোরগ পোষা হতো এবং 'মোরগ লড়াই' অনুরাগীদের কাছে ভাল ও উৎকৃষ্ট জাতের মোরগ ছিল। এখানে এই ব্যাপারে ছয় জাতের মোরগ পালা হতো অর্থাৎ এক 'খোরাসানী', এদের মাথায় ঝুটি হতো না, রং বেশির ভাগ কাল্পে ধরনের হতো এবং লতি লম্বা হতো। দ্বিতীয় জাত ছিল 'ছাবজুয়ারী' যদিও এটি লড়াইয়ে ব্যবহার করা হতো কিন্তু বেশির ভাগ ডিমের জন্য পোষা হতো, কেননা ছাবজুয়ারী মুরগির ডিম খুব শক্ত হতো এবং (ডিম) লড়াইএর কাজে ব্যবহৃত হতো। এই মুরগি শারীরিক গঠনের দিক দিয়ে ছোট হতো, রং কালচে ধরনের এবং ঠোঁটের রং হলুদ অথবা সাদা হতো। তৃতীয় জাত ছিল 'রামপুরী'। দেহের গঠনের দিক দিয়ে চমৎকার, বিভিন্ন রংয়ের হতো অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট রং ছিল না। চতুর্থ জাত ছিল 'সিরাজি'। এর বৈশেষ্ট্য এই ছিল যে, পাঞ্জা বা থাবা খুব বেশি মারতো, ঠোঁট কম ব্যবহার করত, এর পায়ের নলী খুব মোটা হতো। এটা বিভিন্ন রংয়ের হতো। উত্তম জাত হলো "বুশহরী"। দেহের গঠনের দিক দিয়ে বেশ বড় ধরনের অথচ শীর্ণকায় সাধারণত ডানা ঝাপটি আক্রমণের ব্যাপারে এদের শ্রেষ্ঠত্ব ছিল। এ জাতের কোনো নির্দিষ্ট রং ছিল না। ষষ্ঠ জাত ছিল 'আসীল'। এর রং বাদামী-কালো মিশানো। চোখ পরিষ্কার বাদামী, পাতলা নলি এবং লম্বা নখ। এরা প্রত্যেক জায়গায় আক্রমণ করত এবং শুধুমাত্র এ জাতের মোরগের নখ চাঁছা এবং সুচালো করা হতো।

আমার দেখতে দেখতে মোরগের জাত সম্ভ্রান্ত প্রাচীন বংশীয়দের মতোই শেষ হয়ে গেছে এবং এখন এই অবস্থা যে, শহরে কোথাও আসল জাতের মোরগ কদাচিৎ দেখা গেলেও দেখা যেতে পারে। মোরগের রক্ষণাবেক্ষণ এবং (লড়াই এর) আখড়া এখানে তেমনই ছিল যেমন লাখনুতেও ছিল এবং শুধুমাত্র এই শখটিই এমন যার সমস্ত কায়দা-কানুন সারা দেশে (ভারতে) একরূপ।

আমি বাল্যকালে মোরগ লড়াইয়ের আখড়া দেখেছি। লড়ানোওয়ালাদের হাস্য উদ্দীপক অঙ্গভঙ্গি এবং বিভিন্ন ধরনের সংলাপ যার সাহায্যে তারা মোরগকে উৎসাহ দিত এবং লড়াইতে উদ্বুদ্ধ করত, আমার দৃষ্টিতে মোরগ লড়াই-এর চেয়েও এগুলি ছিল বেশি আনন্দদায়ক এবং উপভোগ্য। মোরগ লড়াই-এর পর ডিম লড়ানেওয়ালাদের অবস্থান। এই শখ শুধুমাত্র মুসলমানদের মধ্যে ছিল, তাও ছিল শুধুমাত্র খোশবাস মুসলমানদের মধ্যে। ডিম লড়াই-এর দৃশ্য এরূপ ছিল যে, দুই ব্যক্তি মুখোমুখী দুই পায়ের উপর উবু হয়ে বসত। এক ব্যক্তি ডিম নিজের মুঠোর ভিতর রাখত এবং ডিমের উপরের অংশ দেখা যেত। প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তি ডিমের উপরের, উন্মুক্ত অংশের উপর নিজের ডিমের কিনারা বা এক দিক দিয়ে আঘাত করত। যদি আঘাতকারীর ডিম ভেঙ্গে যেত, তাহলে সে অন্য ডিম নিজের হাতে নিত এবং প্রতিপক্ষের ডিমের উপর মারতেই থাকত। এই ধারা চলতে থাকত যতক্ষণ না সমস্ত ডিম ভেঙ্গে যায় এবং যার ডিম শেষ পর্যন্ত অক্ষত থাকত সে সমস্ত ভাঙ্গা ডিমের অধিকারী হতো।

এই শখ শুধুমাত্র নওরোজ বা নববর্ষের

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice