তবু সাবলেট
‘এ্যাই, সাবলেট থাকতে কেমন রে? অসুবিধা হয় না?’
রাত দশটা না বাজতেই গৃহকর্তার বজ্রকণ্ঠের হাঁক, ‘এত রাতে লাইট জ্বলে কেন? বিদ্যুৎ বিলের রেইট বেড়েছে, জানো না?’—এইসব আর কী! ক্যাম্পাসে একটা হাসির ঢেউ উঠল। ইডেন কলেজে ক্লাসের ফাঁকে বান্ধবীদের আড্ডা চলছিল।
পরিবার থেকে দূরে ঢাকায় পড়তে আসা শিক্ষার্থী বা অবিবাহিত কর্মজীবী নারীদের জন্য আবাসস্থল এক বড় সংকট। কারণ, ঢাকায় তাদের থাকার জন্য চাহিদা অনুযায়ী হল বা মেসের সংখ্যা খুবই কম। এজন্য গড়ে উঠেছে সাবলেট প্রথা। এ ক্ষেত্রে কোনো পরিবার বাড়ির একটি বা দুটি ঘর ভাড়া দেয় নিজেদের প্রয়োজনে। সম্পূর্ণ নতুন পরিবারের সঙ্গে থাকতে নারীরা যেমন নিরাপত্তার অভাব অনুভব করে, তেমনি কঠিন হয় মানিয়ে চলাও। তবু এ ধরনের ব্যবস্থা থাকায় অনেকে ঢাকায় পড়াশোনা বা চাকরি চালিয়ে যেতে পারছে। সাবলেটে থাকার সুবিধা-অসুবিধা জানতে কথা হচ্ছিল মুনিরা, খুশি, কামরুন নাহার সিদ্দীকার সঙ্গে।
“আমাদের দেশে চাহিদানুযায়ী কর্মজীবী নারীদের জন্য মেস বা হোস্টেলের সংখ্যা অপ্রতুল। তাই আমাদের মতো নারীদের শেষ ভরসা সাবলেট। অনেক নারী এই আবাসন সংকটের কারণে চাকরি ছাড়তেও বাধ্য হন। ...এ ব্যবস্থা আছে বলেই আজ আমরা চাকরি করতে পারছি, নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারছি।”
সেদিন ছিল মুনিরার ঢাকায় প্রথম ক্লাস। সে ঢাকার ইডেন কলেজে গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে। তবে এখনও জানে না যে সে কোথায় থেকে পড়াশোনা করবে। ঢাকায় আসার আগে মনে হয়েছিল, হলে থাকতে পারবে। কিন্তু ভর্তির পর থেকে বুঝতে পেরেছে, পাস করার আগে হলে সিট পাবে কি না, সেটি নিয়েও সন্দেহ। তবে তাদের মতো মানুষদের জন্য বড় আপুরা নানা সাবলেটের তথ্য দিল। ইডেন কলেজের আশপাশে অনেক বাড়িতেই ভাড়া দিয়ে ঘরে একজন বা দুইজন করে থাকার ব্যবস্থা আছে। সম্পূর্ণ অচেনা অজানা এক পরিবারের সঙ্গে থাকা, ওরা কেমন, কত বিপদই হতে পারে। নানা দুশ্চিন্তা মাথায় খেলা করছিল। ‘তাই এক আপুর পরিচিত বাড়িতে গেলাম আজিমপুর কলোনির কাছে। বাড়িতে তারা চারজন। তাদের দুই মেয়ে। একজন কলেজে পড়ে, আরেকজন স্কুলে। আমার মতো একজন মেয়ে ওই বাসায় থাকছে। সে বদরুন্নেসা কলেজে পড়ে। ঠিক হলো আমি তার সঙ্গে থাকব। খাওয়া-দাওয়া তাদের সঙ্গেই। মনে হচ্ছিল জীবনে নতুন এক পরীক্ষার মুখোমুখি হলাম। এখানে সবই নতুন-কলেজ, বাসা, সঙ্গী সব। বাসায় ভাড়া দিয়ে থাকলেও মনে হচ্ছিল আমি যেন একান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। রাতে খাওয়ার টেবিলে আমার কী কী নিয়ম মেনে চলতে হবে, তা জানা হয়ে গেল। যেমন: আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব আনা যাবে না। বেশি রাতে বের হওয়া যাবে না। যা রান্না হবে তাই খেতে হবে, এ নিয়ে আপত্তি করা যাবে না। এমন নানা কিছু। এখনও ওই দিনটির কথা খুব মনে পড়ে। সেদিন ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা, জোরে জোরে শব্দ করে পড়া মুখস্থ করছিলাম। পাশের রুম থেকে ওনার মেয়ে এসে বলল, চিৎকার বন্ধ করো, সমস্যা হচ্ছে। নিজের পড়া যে পড়ব, সে পরিবেশও নেই। ভাড়া দিলেও যা বলছে শুনতে বাধ্য, নইলে যদি বলে এখন বাড়ি ছেড়ে চলে যাও, কোথায় যাব। এ সময়গুলোতে নিজেকে খুব একা ও অসহায় লাগে। বাড়ির কাউকে যে আসতে বলব, তার উপায়ও নেই। কখনও গোসল করছি, বাথরুমে ধাক্কাধাক্কি, এত দেরি কেন। নিজের স্বাধীনতা বা ইচ্ছা বলে কিছু ছিল না। আমার ব্যথার সঙ্গী ছিল আমার রুমমেট রুবা। দুজন দুজনের দুঃখ বুঝতাম। তবু এ ধরনের ব্যবস্থা আছে বলে আমরা পড়তে পেরেছি। না হলে তো ঢাকায় পড়াই হতো না। হলগুলোতে সবাই ছাত্রী, নিজস্ব স্বাধীনতা থাকে, কেননা সেটি নিজেদের জগৎ। পড়াশোনার পরিবেশ থাকে। কিন্তু সাবলেটের ক্ষেত্রে সে পরিবেশ
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments