ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা-মাতা সব শিশুরই অন্তরে
শিশুরা ফুলের মতো সজীব ও সুন্দর। একজন শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিটি মা-বাবার কাছে একটিই প্রত্যাশা, তারা তাদের সন্তানকে যথেষ্ট সময় দেবেন। এ কর্মব্যস্ত শহরে মা-বাবার সঙ্গে একান্ত কিছু সময় প্রতিটি শিশুরই চাওয়া। তেমনই এক শিশু মাইসা (ছদ্মনাম)। মাইসার বয়স ছয় বছর। তার বাবা-মা দুজনই চাকরিজীবী। সে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। রোজ সকালে তার স্কুল শুরু হয় আটটায় এবং ছুটি হয় এগারোটায়। স্কুল শেষে বাসার দারোয়ানের সঙ্গে বাড়ি ফিরে আসে মাইসা। সারাদিন বাড়ির কাজের মেয়ের সঙ্গেই তার দিন কাটাতে হয়। স্কুল ছুটির পর সে আশায় বসে থাকে কখন বিকাল হবে, কখন বাবা-মা আসবে। সারাদিন যেন শেষই হতে চায় না। সন্ধ্যায় দরজায় বেল বাজলেই মনে হয় এই বুঝি মা, বাবা এলেন। মাইসার বাবা ও মা দুজনই বেসরকারি চাকরিজীবী এবং তাদের বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা সাতটা হয়ে যায়। বাড়ি ফিরলেও বাবার অফিসের কাজ ঘরে চলতে থাকে। মা তার সঙ্গে স্কুলের গল্প করে, বাসার সবার জন্য রান্না করে। তার পড়া সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করে। তবু মাইসার মনে হয়, আরও কিছু সময় যদি সে পেত বাবা ও মা দুজনকেই।
এ চাওয়া শুধু মাইসার নয়, প্রায় সব শিশুরই, যাদের বাবা ও মা দুজনই চাকরিজীবী। শিশুকে সময় দেয়ার জন্য অনেক সময় মা তার চাকরি ছেড়েও দেন। তবে শিশুর সময়ের এ চাহিদা পূরণের জন্য মায়ের চাকরি ছেড়ে দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না। একটি শিশুর সঠিক মানসিক বিকাশের জন্য তার বাবা ও মা দুজনেরই সময় দেওয়া প্রয়োজন। সারাদিন অফিস শেষে অল্প সময় হলেও অফিসকে পুরোপুরি ভুলে বাবা ও মা উভয়ই যদি তাদের সন্তানকে একান্তভাবে সময় দেন, তবেই শিশুর চাহিদা পূরণ হবে। বেসরকারি সংস্থাগুলো অনেক সময় বাড়িকেও অফিসে পরিণত করে। বাড়ি ফেরার পরও অনেক সময় নারী বা পুরুষ সকলেই অফিসের কাজ করতে বাধ্য হন এবং পরিবারকে সময় দিতে ব্যর্থ হন। তাই এসব বেসরকারি সংস্থার কর্মীসংখ্যা বৃদ্ধি করতে হলেও যেন প্রতিটি কর্মচারী ন্যূনতম সময় তার সন্তানকে দিতে পারেন, সে ব্যাপারটি নিশ্চিত করা উচিত। অনেক সময়ই বাবারা অফিস থেকে বাড়ি ফিরেও নানাবিধ নিজস্ব কাজে ব্যস্ত থাকেন এবং সন্তানকে সময় দেয়া একমাত্র মায়েরই দায়িত্ব বলে মনে করেন। সন্তানের পড়াশোনা, ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব একমাত্র মায়েরই—সমাজের প্রচলিত এ ধারণার পরিবর্তন আনতে হবে। একজন শিশু তার বাবা ও মা উভয়ের কাছেই একান্ত নিজস্ব সময় চায় এবং একা মায়ের পক্ষে সে চাহিদা পূর্ণ করা কখনও সম্ভব নয়। আগে যৌথ পরিবারে একজন শিশু তার বাবা-মা ছাড়াও দাদা-দাদি বড় ভাই-বোন সবার সঙ্গে থাকত, সবার কাছ থেকেই সময় পেত। বর্তমানে একক পরিবারে মা-বাবার এক বা দুটি সন্তানকে অধিকাংশ সময় একাকী কাটাতে হয়। তাই মা ও বাবা উভয়কেই পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার মধ্য দিয়ে শিশুর এই একাকিত্ব দূর করতে হবে, যা শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য খুবই জরুরি।
সামিহা সুলতানা অনন্যা
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
সেকালে মেয়েরা বাহুতে যেসব অলঙ্কার পরিধান করিত তাহার পরিচয় সাহিত্যে পাওয়া যায়। বাহুর সকল প্রকার ভূষণকে বলে অঙ্গদ। অঙ্গদ হয় নানাপ্রকার—(১) তাড়, (২) কেয়ুর, (৩) বাজু বা ৰাজুবন্দ, (৪) মাদুলি।
বাহুর উপরিভাগে দুই ইঞ্চি পরিমিত একজোড়া সরল সোনার পাতযুক্ত গহনাকে বলে তাড় বা তাগা। এখন ইহার বদলে অনন্ত, বাঁক প্রভৃতি অন্যবিধ গহনা পরিয়া থাকে। কবি নারায়ণদেব এই গহনাটির খুব ভাল বর্ণনা করিয়াছেন। বেহুলার সাজসজ্জা নামক অংশে দেখি বেহুলা বাহুতে পরিয়াছে—
“সুবর্ণের চাইর-তাড়”
যদি আমরা জনকরাজের অন্তঃপুরে উঁকি মারি তাহা হইলে দেখি আসন্ন বিবাহের আনন্দে উদ্ভাসিত সীতাকে ঘেরিয়া সখীদের বিপুল কলোচ্ছ্বাস, তাহারা সীতাকে সাজাইতে ব্যস্ত—
উপর হস্তেতে দিল তাড়ক ৷
—কৃত্তিবাসী
-
আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগের কথা। এদেশ সবেমাত্র ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। এদেশের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন এখনকার চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে। এমন সমাজে যৌনতা ভীষণ নিষিদ্ধ একটি বিষয়। সে সময়ে আমাদের দেশে এ বিষয়ে কথাবার্তা বা আলাপ-আলোচনা অত্যন্ত গর্হিত একটি ব্যাপার বলে পরিগণিত হত। শুধু এদেশেই নয় ইয়োরোপ-আমেরিকাতেও ১৯৬০-এর দশকে ‘যৌন বিপ্লব’-এর ধাক্কায় গোটা সমাজে যৌনতা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকভাবে পাল্টে যাবার আগে যৌন বিষয়ে কিংবা নরনারীর যৌন সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনাকে সহজভাবে নেয়া হত না। ভাবতে খুব অবাক লাগে, ওরকম একটি সময়ে বয়সে অত্যন্ত তরুণ একজন মানুষ এই বিষয়ে লিখতে দৃঢ় হাতে কলম ধরেছেন। শুধু যৌনতা নয়,
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments