লেনিন কীভাবে মার্কস পড়েছিলেন
লেখক: নাদেঝদা ক্রুপস্কায়া
রাশিয়া ছিল শিল্পের দিক থেকে অনুন্নত দেশ। সেই কারণে এ দেশে শ্রমিক আন্দোলনের সূচনা হয় কেবলমাত্র উনিশ শতাব্দীর শেষ দশকের মধ্যে, যখন অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশের শ্রমিক শ্রেণি ব্যাপকভাবে বিপ্লবী সংগ্রাম শুরু করে দিয়েছে—১৮৭১ সালের প্যারি কমিউন ও ১৮৪৮ সালের বিপ্লবের অভিজ্ঞতা তাদের পিছনে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের মহান বিপ্লবী নেতা মার্কস এবং এঙ্গেলস বিপ্লবী সংগ্রামের মধ্যে থেকে পোক্ত হয়ে উঠেছিলেন। সামাজিক বিকাশের পথ মার্কসবাদ উজ্জল করে তুলেছে, পুঁজিবাদের বিনাশ এবং সে জায়গায় কমিউনিজমের প্রতিষ্ঠা যে অনিবার্য তা প্রকাশ করে দিয়েছে। দেখিয়েছে সমাজের নতুন রূপ বিকাশের পথ। শ্রেণি সংগ্রামের পথ, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ। এই সংগ্রামে প্রলেতারিয়েতের ভূমিকা কী তা ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছে, জয় তার অনিবার্য।
আমাদের শ্রমিক আন্দোলন মার্কসবাদের পতাকার নীচে বিকশিত হয়ে উঠেছে, পথের সন্ধানে তা হাতড়ে বেড়ায়নি, অন্ধের মত এগিয়ে যায়নি। ছিল সুস্পষ্ট, পথও তাই।
এই সংগ্রামে রুশ প্রলেতারিয়েত কোন্ পথ অবলম্বন করবে মার্কসবাদের সাহায্যে তা আলোকিত করে তোলার দিক থেকে লেনিন অনেক কিছু করেন। আজ পঞ্চাশ বছর হল মার্কস মারা গিয়েছেন, কিন্তু আজও আমাদের পার্টির সমস্ত কাজে মার্কসবাদই পথপ্রদর্শক। লেনিনবাদ হল মার্কসবাদেরই অধিকতর বিকাশ, এর সম্প্রসারণ। কাজেই লেনিন কীভাবে মার্কস পড়েছিলেন, সে বিষয়ে একান্ত আগ্রহ খুবই স্বাভাবিক।
লেনিন কেবল মার্কসের উদ্ধৃতি মুখস্থ করতেন না, বরং তিনি মার্কসের চিন্তার পদ্ধতিটি (Methodology) আয়ত্ত করার চেষ্টা করতেন। যেকোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি নিজেকে প্রশ্ন করতেন—এই অবস্থায় মার্কস থাকলে কী সিদ্ধান্ত নিতেন?
লেনিন নিখুঁতভাবে মার্কসকে জানতেন। ১৮৯৩ সালে তিনি যখন পিটার্সবুর্গে আসেন, তখন মার্কস এবং এঙ্গেলসের রচনা সম্বন্ধে তাঁর জ্ঞান আমাদের মার্কসবাদীদের বিস্মিত করে।
১৮৯০-এর দশকে যখন প্রথম মার্কসবাদী চক্র সংগঠিত হয়, সভ্যরা তখন প্রধানত ‘পুঁজি’ বইখানির প্রথম খণ্ডটি পড়ত, ঐ খণ্ডটিই তবু বহু কষ্টে পাওয়া সম্ভব ছিল। মার্ক্সের অন্যান্য রচনার কথা না বলাই ভালো। আমাদের চক্রের অধিকাংশ সভ্যই এমনকি ‘কমিউনিস্ট ইশতেহার’ও পড়েনি। আমি নিজেই তা পড়ি মাত্র (জার্মান ভাষায়) ১৮৯৮ সালে, নির্বাসনকালে।
মার্কস এবং এঙ্গেলস একেবারে নিষিদ্ধ ছিল। ১৮৯৭ সালে ‘নভয়ে স্লভো’র [Novoye Slovo, নব বাণী পত্রিকা, ১৮৯৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে ‘আইনি মার্কসবাদীদের’ হাতে আসে] জন্য লেখা ‘অর্থনৈতিক রোমান্টিজমের চরিত্র নির্ণয়’ প্রবন্ধে ‘মার্কস’ ও ‘মার্কসবাদ’ কথা দুটি এড়াবার জন্য লেনিন নানা রূপকের সাহায্য গ্রহণ করেন। তা না করলে পত্রিকাটিকে বিপদে পড়তে হত।
মার্কস এবং এঙ্গেলসের সমস্ত রচনাই ভ্লাদিমির ইলিচের জানা ছিল। এবং তিনি সর্বদা জার্মান ও ফরাসি ভাষায় রচনাগুলি জোগাড় করার চেষ্টা করতেন। আন্না ইলিনিচনা (লেনিনের বোন আ ই উলিয়ানভা-ইয়েলিজারভা) বলেন, তাঁর মনে আছে ভ্লাদিমির ইলিচ ও তাঁর বোন ওলগা ‘দর্শনের দৈন্য’ ফরাসি ভাষায় পড়েন। কিন্তু মার্কস এবং এঙ্গেলসের বেশীরভাগ রচনাই তাঁকে জার্মান ভাষায় পড়তে হয়েছিল, তা থেকে চিত্তাকর্ষক ও গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলি তিনি রুশ ভাষায় অনুবাদ করেন। তাঁর প্রথম বিরাট রচনা, ‘‘জনগণের বন্ধুদের’ স্বরূপ কী এবং কী ভাবে তারা সোশ্যাল-ডেমোক্রাটদের সঙ্গে লড়ে’ —এটি ১৮৯৪ সালে বে-আইনিভাবে প্রকাশিত হয়। এই রচনায় তিনি ‘কমিউনিস্ট ইশতেহার’, ‘রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্রের সমালোচনা’, ‘দর্শনের দৈন্য’, ‘জার্মান মতাদর্শ’, ১৮৪৩ সালে লেখা রুগের কাছে মার্ক্সের চিঠি, এঙ্গেলসের ‘অ্যান্টি-ডুরিং’ এবং ‘পরিবার, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও রাষ্ট্রের উদ্ভব’ থেকে উদ্ধৃত করেন।
তখনকার দিনের বেশীর ভাগ মার্কসবাদীদের মার্কসের রচনার সঙ্গে বিশেষ পরিচয় ছিল না। ‘জনগণের বন্ধুরা’ বইটিতে তাদের মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গীর প্রসার হয়, তাতে ধারাবদ্ধ কতগুলি প্রশ্নকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা হয় এবং বইটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
লেনিনের পরবর্তী রচনা—‘নারোদবাদের অর্থনৈতিক মর্মবস্তু এবং মিঃ স্ত্রুভের বইয়ে তার সমালোচনা’, এতে ‘লুই
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments