পিএইচডি করবে বিদেশে?: আগে বিয়ে করো!
সুমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। সুমির বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন প্রায় শেষের দিকে। পড়াশোনায় বেশ ভালো। ফলাফলের দিক থেকে প্রথম কয়েকজনের মধ্যেই তার অবস্থান। তার সঙ্গের ছেলেরা এরই মধ্যে জিআরই, টোফেল দেওয়া শুরু করে দিয়েছে। তাদের সবারই লক্ষ্য উচ্চশিক্ষা। সুমির ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন পিএইচডি করা। পদার্থবিজ্ঞান বিষয়টিও তার খুব প্রিয়। বন্ধুদের দেখাদেখি সুমিও জিআরইর একটি বই কিনেছে নীলক্ষেত থেকে। বাড়িতে সেই বই নিয়ে আসার পর থেকে তার ওপর ঝড় বয়ে চলছে। বাবা-মা দুজনেরই এক কথা, কেনোভাবেই তাকে একা বিদেশে যেতে দেওয়া হবে না। এ আদেশের সুর এতই কঠিন যে, এর কারণ জানতে চাওয়ার সাহসটুকুও সুুমির নেই। বাবার কথা, যদি সে বিদেশে পড়তে যেতে চায়, তবে তার জন্য একটি পথই খোলা আছে, সেটি হলো এ মুহূর্তে বিয়ে করা। বিয়ে না করলে সে বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখার অধিকারও রাখে না। আর মায়ের কথা, এই ভয়ংকর পরিবেশে মেয়েকে একা ছেড়ে দেওয়ার সাহস তার নেই। তাই সুমির দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করারও দরকার নেই। যদিও উচ্চশিক্ষার ব্যাপারে সুমি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকের কাছ থেকেই বেশ উৎসাহ পাচ্ছে। সে বিদেশে পড়ার সুযোগ পাবে, এ ব্যাপারে তাদের কোনো সন্দেহ নেই। প্রশ্ন কেবল একটি জায়গাতেই, সে পরিবার থেকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পাবে কি না।
বাড়ির এই প্রতিকূল পরিবেশ সুমির পড়াশোনা চালিয়ে যেতেও বাধাগ্রস্ত করছে। কেননা যে স্বপ্ন পূর্ণ হওয়ার নিশ্চয়তা নেই, তা পূর্ণ করার চেষ্টা কতক্ষণই বা করা যায়! আর সুমি শুধু পড়তে যাওয়ার জন্য কাউকে না জেনেশুনে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে রাজি নয়। যে সম্পর্কের পেছনে কারণ হবে বিদেশ যাওয়া, সে বিয়ের কোনো অর্থই থাকে না। তার সঙ্গের ছেলেবন্ধুরা প্রত্যেকেই তাদের পরিবার থেকে উচ্চশিক্ষার ব্যাপারে যথেষ্ট উৎসাহ পাচ্ছে। মাস্টার্স, পিএইচডির স্বপ্ন শুধু তার বন্ধুদের নয়, তাদের বাবা-মায়েরও। বিদেশে পড়ার ক্ষেত্রে অর্থসমস্যা সমাধানের জন্য তাদের পক্ষ থেকেও রয়েছে অনেক চেষ্টা। তার বন্ধুদের জীবন নিয়ে বাবা-মা কেউই চিন্তিত নন। ছেলে বিদেশে যাবে, উচ্চশিক্ষিত হবে, জীবনে আরও প্রতিষ্ঠিত হবে-এসবই তাদের জন্য গর্বের বিষয়। একই ক্ষেত্রে মেয়ের বিদেশে পড়তে যাওয়ার চিন্তা তাদের জন্য যেন এক বোঝা। বাবা-মায়ের ছেলে এবং মেয়ের প্রতি এই বিপরীতধর্মী আচরণ সুমিকে সবসময়ই খুব ব্যথিত করে।
সুমির জীবনের এ চিত্র উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী অধিকাংশ নারীর জন্যই সত্য। তা যত আধুনিক পরিবারই হোক না কেন। কোনোভাবেই মা-বাবারা তাদের মেয়েকে একা বিদেশে পাঠানোর সাহস পান না। তারা মনে করেন মেয়ের বিয়ে হলেই যেন এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তাই মেয়ের প্রতি নিজের অভিভাবকত্ব ছেড়ে দিয়ে নতুন অভিভাবক নিয়োগ করতে তারা খুবই উৎসাহী। বাস্তবতা হলো স্বামীর ইচ্ছায় তাদের সুবিধামতো, বিদেশে কখনও-বা মেয়েরা পড়া সম্পূর্ণ করতে পারে, কখনও পারে না। আর বাবা-মায়ের এ ধরনের আচরণের পেছনে একটিই কারণ, সেটি হলো মেয়েদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ। সম্পূর্ণ পৃথিবীটাই যেন তাদের বৈরী পরিবেশ। মেয়ের নিরাপত্তা, থাকা-খাওয়া এসব নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই তাদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে এই বাধার সৃষ্টি। তাই তারা ভাবেন স্বামী সংযুক্ত নিরাপদ পরিবেশই বিদেশে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে নারী জন্য মসৃণ পথ। অনেক সময় দেখা যায়, বিদেশে গিয়ে উচ্চশিক্ষার মধ্য দিয়ে নারীরা বেশি প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের বেশি যোগ্যতা ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বেশির ভাগ পুরুষই চায় তাদের স্ত্রী শিক্ষা-পড়াশোনা সব দিক থেকে যোগ্যতায় তাদের নিচে থাকবে। বিদেশে পড়াশোনা করেছে এমন মেয়েকে জীবনসঙ্গী হিসেবে মেনে নিতে অনেকেই রাজি হয় না। জীবনের পথে উচ্চশিক্ষাই তাদের জন্য বাধা হয়ে পড়ে।
এসব সমস্যার একটিই সমাধান,
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments