- ইউরি ইয়াকভলেভ
- ১৯৭৩
- ১২২
কিজিল কাঠের ছড়ি
সে গ্রীষ্মে গরম একেবারে সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। দিনের গরমের পর আসে সাঁঝের গরম, সাঁঝের পর রাতের। শুধু ভোরের দিকেই একটু তাজা আমেজ আসে সমুদ্র থেকে। কিন্তু এই ক্ষীণ শীতলতাটুকুও টেকে বেশিক্ষণ নয়। তার তাপ ছড়ায় কেবল সূর্যই নয়। পাথর, বালি, এমনকি গাছের পাতা থেকেও চুইয়ে পড়ে গরম। মাথার ওপর আলস্যে ভাসা বিরল দু’ একটি মেঘ দেখে আর তুষারের কথা মনেও পড়ে না। এমন গরমে আদৌ কল্পনা করারই অসম্ভব যে দুনিয়ার কোথাও আছে তুষার-কণা, বরফ, ঠাণ্ডা।
সমুদ্রতীরের এই বসতটায় নিথর হয়ে গেল জীবন। লোকে হাঁটে গা-ছাড়াভাবে, নেতিয়ে পড়ে, রোদে বেরতে ভয় পায়। এমনকি ঝানু পুলিন-বিলসীরাও হামলা সইতে না পেরে ঠাঁই নিয়েছে ছায়ায়।
কিজিল কাঠের ছড়ি-বেচিয়ে বুড়োটাই কেবল এই তপ্ত সূর্যকে ত্যাগ করে নি। বসত সে ঠিক জলের কিনারায় নয়, একটু দূরে, পাথরের নিচু বাঁধটায়। ছায়া খুঁজত না সে, নিজের সমস্ত ভাবভঙ্গি দিয়ে যেন চ্যালেঞ্জ করত দুপুরের ঝাঁঝকে। দেখতে রোগা, বেঁটে, পোড়া মাটির মতো গায়ের রঙ। মুখের অসংখ্য বলিরেখাগুরোকে মনে হত রোদ-পোড়া ক্ষেতের ফাটল। মাথার ছোটো ছোটো পাকা চুলগুলোকে লাগত নুনের মতো।
বুড়োর পাশে কিজিল কাঠের তিনটে টাটকা ছড়ি। বোঝা যায়, তাদের ঘষা-মাজার কাজ শেষ হয়েছে অতি সম্প্রতি, এখনো হলদে হয়ে ওঠার ফুসরত পায় নি। মসৃণ, মজবুত, ওজনদার ছড়ি, ফলাও করে বাঁকানো হাতল। দূরে ভ্রমণে খুবই উপযুক্ত। কালক্রমে তাতে হাতির দাঁতের রঙ ধরবে, দেখাবে ভারিক্কী, বনেদী।
দুঃথের বিষয়, কিজিল কাঠের ছড়ির মর্ম সবাই বোঝে না। তাই বুড়োর বেসাতির জন্যে চাহিদা ছিল কম। খামোকাই সে বসে থাকত তপ্ত পাথরে, লোকেরা চেয়েও দেখত না। যে-কোনো একটা শিলাখণ্ড কি শুকনো গাছের মতো চোখ-সহা হয়ে গিয়েছিল সে।
এমনি একটি দিনে একবার বুড়ো কাছে দাঁড়াল মস্তো পানামা-হ্যাট পরা একটি ছেলে। ভারি রোগা সে, লিকলিকে হাত, লম্বা গলা, টুপিটা ওর পক্ষে বেশ বড়ো, কান পর্যন্ত ঢেকে গেছে।
ছেলেটা যে এখানকার বাসিন্দা নয়, দক্ষিণী এই বসতটায় নিতান্ত নবাগত, সেটা নিভুর্লভাবে বলে দেওয়া যায় তার গায়ে ঈষৎ গোলাপী রঙ দেখে, এখনো তা রোদ-পোড়া হয়ে ওঠে নি। বুড়োর সামনে জেগে উঠল শাদা টুপিটা Ñ ছড়িগুলো দেখতে লাগল ছেলেটা। হাতের মুঠোয়া ওর টাকা ছিল, কিন্তু ছড়ি কেনাটা ওর পরিকল্পনায় ছিল না। এমন আত্মসম্মানী ছেলে কে আছে যে লাঠির জন্য পয়সা খরচ করবে, সে তো গাছ থেকে কেটে নেওয়ার বা অন্য কোনো উপায়ে সংগ্রহ করা খুবই সম্ভব! কিন্তু কিজিল কাঠের ছড়িগুলো খুবই অসাধারণ। সাধারণ লাঠির তুলনায় তাদের রঙ চেহারার পার্থক্য ছাড়াও আরো একটা পার্থক্য এই ছিল যে এগুলোর জন্যে দাম দিতে হয়।
‘কত করে?’ জিজ্ঞেস করলে শাদা-টুপি-পরা ছেলেটা।
‘এক-এক আধুলি,’ গা-ছাড়াভাবে জবাব দিলে বুড়ো। ছেলেটার ধারণা হল নিজের মাল বেচার জন্যে বুড়োর মোটেই কোনো চাড় নেই।
বুড়োর গোটা মুখ-ভর্তি ছোটো ছোটো ফাটল, তার মধ্যে দুটো ফাটল অন্যগুলোর চেয়ে বড়ো: তার ভেতর থেকে বুড়োর চোখ নির্বিকভাবে ছেলেটার দিকে একবার চেয়ে ফের ফাটলে সেঁধাল। ছেলেটা চলে গেল আইসক্রীম কিনতে।
এখানে ছেলেটা উঠেছিল তার বাবার পরিচিতদের এক বাড়িতে। এ পরিচিতরা কেমন লোক, সেটা সে ঠাহর করতে পারে কেবল আসার দু’দিন পরে। পরিচিত এই লোকটি ছিল বেশ মোটা, কিন্তু আশ্চর্য চটপটে। হাঁটে, খায়, কথা বলে সবইয খুব তাড়াতাড়ি। তাছাড়া মেজাজও তার তাড়াতাড়ি বদলায়। প্রথম দিনে সে অতিথিকে বরণ করে সোরগোল তুলে, উল্লাস করে, যেন এতদিন সে কেবল ওর আসার পথ চেয়েই বসেছিল, এবার ছেলেটির একটু মুখের কথা খসামাত্র সে তার জন্যে সবকিছুই করে দেবে। কিন্তু পরের দিন
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
ইউরি ইয়াকভলেভ
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments