মুক্তিযুদ্ধ ও গিনসবার্গ
Millions of babies watching the skies
Bellies swolen, with big round eyes
On Jessore Road—long bamboo huts
No place to shit but sand channel ruts
Millions of fathers in rain
Millions of mothers in pain
Millions of brothers in woe
Millions of sisters nowhere to go.
One million aunts are dying of bread
One million uncles lamenting the dead Grandfather millions homeless and sad Grandmother millions silently mad.
Millions of daughters walk in the mud
Millions of children wash in the flood
A million girls vomit & groan
Millions of families hopeless alone.
Millions of souls Nineteenseventyone
homeless on Jessore road under gray sun
A million are dead, the millions who can
Walk toward Calcutta from East pakistan.
আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে আমেরিকার কবি অ্যালেন গিনসবার্গ উদ্বৃত পঙক্তিগুলো রচনা করেছিলেন। কবিতার নাম 'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড'। রচনার তারিখ ও স্থান নিউইয়র্ক, নভেম্বর ১৪-১৬, ১৯৭১। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে, একাত্তরের মাঝামাঝি অ্যালেন গিনসবার্গ কলকাতায় এসেছিলেন এবং ভারতের সীমান্তবর্তী কয়েকটি শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে স্বদেশে ফিরে গিয়ে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন ওই কবিতাটিতে। এই কবিতার নামে পরে তার একটি কবিতার বইও প্রকাশিত হয়। [Bixby canyon to Jessore Road]। বোঝা যায় যে, অন্তমিলযুক্ত চার পঙক্তির স্তরকবিন্যাসের রচিত ৪ x ৩৮=১৫২ পংতির এই দীর্ঘ কবিতাটি কবির খুবই প্রিয় এবং এই কবিতাটিকে তিনি খুব গুরুত্বপূর্ণ কবিতা বলে মনে করেন। শুরুতে এই দীর্ঘ কবিতার মাত্র কয়েকটি স্তবক উদ্ধৃত করেছি। আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইয়ের শেষে পুরো কবিতাটি তুলে দেওয়া হয়েছে।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি অবহেলিত দিগন্ত কী অপূর্ব প্রেমময়তায় একজন আমেরিকান কবির কবিতায়, অমোচনীয় ধ্রুপদী চিত্রের মতো বন্দি হয়ে আছে, ভেবে খুবই অবাক হতে হয়। কৃতজ্ঞতায় আমার মাথা নত হয়ে আসে ওই কবির প্রতি। একাত্তরের শরণার্থীদের দুঃখ-দুর্দশা, তাদের ওপর বর্বর পাকসেনাদের অত্যাচার এবং ভারতের শরণার্থী শিবিরগুলোতে তাদের প্রাত্যহিক দিযাপনের অভিজ্ঞতা তিনি কীভাবে আঁকতে পারলেন, আমি ভেবে পাই না। কবিতাটি পড়ার সময় আমার সর্বদাই মনে হয় আমি একটি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ আর্ট ফিল্ম দেখছি। আমার চোখের সামনে আমার একাত্তরের শরণার্থী দিনগলো বিশ বছরের অন্তরাল ভেদ করে জীবন্ত রূপ নিয়ে ভেসে ওঠে। গিনসবার্গ, বিশ বছর পরে হলেও আমি আজ আপনাকে আমার মাথার টুপি খুলে অভিবাদন জানাচ্ছি। আমেরিকার কবিদের ইতিহাসে গিনসবার্গের স্থান কেথায়-আমি সঠিক জানি না, তবে বলতে পারি, বাঙালির হৃদয়ে, আমাদের ইতিহাসের গৌরবে তিনি আমাদের চিরসখা হয়েই বেঁচে থাকবেন।
মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের স্বঘোষিত প্রবক্তা, আমেরিকার ভূমিকাকে গিনসবার্গ তার ওই কবিতা যেভাবে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেছেন, তাতে আমরা কবির মুক্ত-স্বাধীন-নির্ভীকচিত্তকে শ্রদ্ধা না করে পারি না। এ না হলে কিসের কবি? এখানেই তো কবির শ্রেষ্ঠতা। শুধু এই কবিতায় নয়, আমরা জানি, গিনসবার্গ-বিষয়গতভাবেই এই বিশ্বের কবি। বিশ্বের প্রতিটি গভীর সংকটে তার লেখনী সাড়া দিয়েছে। তাই, গিনসবার্গের বিগত দিনের ভূমিকাকে বিশ্লেষণ করলে, খুব স্বাভাবিক বলেই মনে হয় যে, September on Jessore Road- এর মতো কবিতা যেন তার হাতেই রচিত হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। বাস্তব অভিজ্ঞতার অধিকারী হয়েও আমরা যা পারিনি, দুর্দিনে আমাদের পাশে বন্ধুর মতো এসে দাঁড়ানো পশ্চিমবঙ্গের কবিরাও যে কবিতা রচনা করতে পারেনি, গিনসবার্গ তা পেরেছেন।
এটা খুবই আশ্চর্য ঘটনা বৈকি।
গিনসবার্গ ছাড়া, আর কোনো ভিনদেশি কবি বাংলাদেশের দুর্দশাগ্রস্ত মানুষকে নিয়ে এমন দরদভরা, শিল্পসফল কবিতা রচনা করেছেন বলে আমার আর জানা নেই। লক্ষণীয় যে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মহান বন্ধু সোভিয়েত ইউনিয়নের কোনো কবি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আমাদের মাঝে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments