মঙ্গোলিয়া
এশিয়ার ভৌগলিক কেন্দ্রে পর্বত আর মালভূমি আকীর্ণ মঙ্গোলিয়ার আয়তনের তুলনায় লোকসংখ্যা অত্যন্ত কম। ১৫ লাখ বর্গ কিলোমিটারের এই দেশটির লোকসংখ্যা ১৮ লাখের কিছু বেশি (১৯৮৫'র তথ্য)। ১৯২১ সালে দেশটিতে বিপ্লবী শক্তি ক্ষমতাসীন হয়।
প্রাচীন ইতিহাস
বিশ্বখ্যাত যোদ্ধা চেঙ্গিস খানের জন্মভূমি মঙ্গোলিয়া প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে অনেক দিন পর্যন্ত পরাধীনই থেকেছে। খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে মধ্য এশিয়া থেকে হুনরা এসে মঙ্গোলিয়া করায়ত্ত করে। ত্রয়োদশ শতক থেকে সপ্তদশ শতক পর্যন্ত চেঙ্গিস খান ও তার বংশধরদের আমলে মঙ্গোলিয়া স্বাধীন ছিল। কিন্তু সপ্তদশ শতকের শেষ দিকে মঙ্গোলিয়া চলে যায় মাঞ্চদের হাতে। ১৯১১ সাল পর্যন্ত দেশটি মাঞ্চুরিয়ার উপনিবেশ হিসেবেই থেকে যায়।
স্বাধীনতা সংগ্রাম
উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের শুরুতে মঙ্গোলিয়ায় জাতীয়তাবাদী চেতনার স্ফুরণ ঘটতে শুরু করে। মাঞ্চ আধিপত্যের হাত থেকে মঙ্গোলিয়াকে স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে জনমত সংগঠিত হতে থাকে। বর্তমান শতাব্দীর শুরুতে অল্প বিস্তর আধুনিক শিক্ষার সূচনা, পশুপালক জীবনের স্থলে কৃষি ব্যবস্থার পত্তন ও উন্নয়ন, কয়লা খনি চালু ও আধুনিক সেনাবাহিনী গঠন প্রভৃতি কারণে ন্যূনতম আধুনিক জীবনের সূচনা ঘটে এবং জাতীয় চেতনা বিকাশ লাভ করে।
১৯০০ সালে ইউলিসুতাই সেনানিবাসে সৈন্যরা বিদ্রোহ করে। তখন অফিসাররা মাঞ্চ হলেও সৈনিকেরা ছিল সাধারণভাবে মঙ্গোল। সৈনিক হিসেবে প্রাপ্ত নগণ্য পরিমাণ বেতন ও অন্যান্য দুরাবস্থার কারণে সৈনিকেরা অফিসারদের ঘেরাও করে এবং দলে দলে সেনাবাহিনী ছেড়ে পলায়ন করে। মাঞ্চ-চীনা সৈন্য ও অফি-সাররা তাদের ধাওয়া করে ধরার চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। এই সশস্ত্র পলাতক সৈনিকেরা চীনা দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুট করে ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দেশে এই ঘটনা বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই সময়ে জনতার সাথেও উপনিবেশবাদীদের সংঘর্ষ ঘটতে থাকে। এই সব সংঘর্ষে জনতার নেতা হিসেবে ধর্মীয় গুরু লামারা প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
১৯১১ সালের জুলাই মাসে মঙ্গোলিয়ার ধর্মীয় গুরু ও উচ্চবিত্ত
জনগণের প্রতিনিধিদের এক যৌথ সভা বসে। মাঞ্চ-চীনা আধিপত্যের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার লক্ষ্যে তারা রাশিয়ার কাছে সাহায্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক রাশিয়ায় একটি প্রতিনিধি দল প্রেরিত হয় এবং ১৫ হাজার রাইফেল ও ৭৫ লাখ গুলি রুশ সাহায্য হিসেবে আনা হয়। এই অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে চীনা আধিপত্যের হাত থেকে মঙ্গোলিয়াকে স্বাধীন করার প্রস্তুতি চলতে থাকে।
১৯১১ সালের অক্টোবর মাসে চীনে বিদ্রোহ ঘটে ও মাঞ্চ সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। এই সুযোগে মঙ্গোলিয়ার প্রধান ধর্মীয় গুরুর নেতৃত্বে স্বাধীন সরকার গঠিত হয় এবং রাজতন্ত্র চালু হয়। মাঞ্চ সাম্রাজ্যের পতন ঘটলেও চীনারা মঙ্গোলিয়াকে হাত ছাড়া করতে রাজী হয় না। ফলে যুদ্ধ চলতে থাকে। এই যুদ্ধে রাশিয়া মঙ্গোলিয়াকে অস্ত্রশস্ত্র সাহায্য হিসেবে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১৯১৫ সালের শান্তি বৈঠকে মঙ্গোলিয়া চীন সাম্রাজ্যের অধীনে স্বায়ত্তশাসন লাভ করে। প্রধান ধর্মীয় গুরুই করদ রাজা হিসেবে অধিষ্ঠিত থেকে যান। মাঞ্চ, আধিপত্যের সময়ে যে প্রশাসনিক কাঠামো ছিল তা বহাল থাকে, সামন্তবাদও অটুট থাকে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য ও কর প্রাপ্তিও নিশ্চিত হয়। ব্যাপক মানুষের অবস্থা অপরিবর্তিত থাকে। তবে নতুন ব্যবস্থায় উপরের দিকে কিছুটা পরিবর্তনের হাওয়া লাগে। মঙ্গোলিয়ার নিজস্ব সামরিক বাহিনী সৃষ্টি হয় এবং প্রশিক্ষণের জন্য একটি সামরিক স্কুলও প্রতিষ্ঠিত হয়। আধুনিক চিকিৎসা শুরু হয় এবং ক্ষুদ্র কলেবরের একটি ক্লিনিক চালু হয় রাজধানীতে। পশু চিকিৎসারও ব্যবস্থা হয়। কৃষি কাজের জন্য লাঙ্গল, মই ইত্যাদি যন্ত্রপাতি আমদানী হয়। টেলিগ্রাফ অফিস, ছাপাখানা, কামার শালা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইত্যাদিও চালু হয়। মাধ্য-মিক স্কুল চালু হয় এবং সরকারী খরচে ছাত্র পড়ানো শুরু হয়। সংবাদপত্রও প্রকাশিত হয়, অর্থনৈতিকভাবেও কিছু সংস্কার করা হয়, ভূমিকর
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments