-
[ঋত্বিক ঘটক বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য নাম—যিনি শুধু পরিচালক নন, বরং শিল্পচেতনা, সমাজচেতনা ও মানবিকতার গভীর অনুসন্ধানী। তাঁর সাক্ষাৎকারে আমরা পাই চলচ্চিত্রের প্রাচীন ও আধুনিক ধারা নিয়ে তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ, অভিনয়ের দর্শন ও সমাজের প্রতি সিনেমার দায়বদ্ধতা সম্পর্কে অকপট মতামত। প্রমথেশ বড়ুয়ার সৃজনশীলতা থেকে শুরু করে Eisenstein, Godard কিংবা Resnais-এর চলচ্চিত্রভাষা পর্যন্ত ঘটকের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত ও প্রখর। এই সাক্ষাৎকার পাঠককে শুধু চলচ্চিত্রের কারিগরি ও নন্দনতত্ত্ব নয়, বরং শিল্পের সত্যনিষ্ঠতা ও সমাজসচেতনতার গভীর আলোচনায় নিয়ে যায়।
এমন এক প্রেক্ষাপটে এই সাক্ষাৎকারের ভূমিকা পাঠককে ঘটকের চিন্তাজগতের দরজায় পৌঁছে দেয়—যেখানে সিনেমা হয়ে ওঠে সময়ের আয়না, আর শিল্প হয়ে ওঠে মানুষের সত্য ও সৌন্দর্যের
-
জলার্ক:কৃষণ চন্দর সম্পর্কে আপনার প্রাথমিক স্মৃতি কি?
শিবরাজ:কৃষণজীর সঙ্গে পরিচয় হয় তিনি যখন দিল্লীর অল ইন্ডিয়া রেডিওতে ড্রামা ডাইরেক্টর ছিলেন তখন। অতি সুক্ষ্ম চিন্তার উন্নতমানের গল্প লেখক হওয়ার সুবাদে এ.আই.আর তাঁকে এই দায়িত্বে নিয়োগ করে। আমি ছিলাম ওখানকার শিল্পী। প্রতি সপ্তাহে একটি করে ড্রামা হতো, ফলে তাঁর সঙ্গে গভীরভাবে মেশবার সুযোগ হলো। তিনি ছিলেন মহৎ অন্তঃকরণের আশ্চর্য মানুষ। সকলের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার ছিলো মধুর এবং হঠাৎ আমরা জানলাম যে তিনি পুনা থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন। ডব্লু. জেড. আহমদ ছিলেন ওখানে। আহমদ সাহেব চেয়েছিলেন সব সেরা লেখকেরা শালিমার স্টুডিওতে যুক্ত হোন। কৃষণজী বললেন, রেডিওতে আমার সীমাবদ্ধ সুযোগ। তাই ওখানে গিয়ে
-
আমাদের এই বিংশ শতাব্দী এবং বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকাল সমাজতন্ত্রের তথা সাম্যবাদের অভ্যুদয়ের উদয়াচল। অপরদিকে এই শতাব্দী ধনিকতন্ত্রের অস্তমিত হওয়ার কাল। এই কালসন্ধিতে সর্বদেশের শিল্পী সাহিত্যিকদের জীবন ও সাধনা পরস্পরবিরোধী আকর্ষণ বিকর্ষণের লীলাভূমি হতে বাধ্য। শিল্পীচিত্রের স্বাতন্ত্র্যবোধ ও সর্বজনীনতা এবং স্বতঃস্ফূর্ততা ও দায়িত্বশীলতা এই শতাব্দীর শুরু থেকেই নতুন কালের রসায়নের ভাণ্ডে কখনো অপূর্ব বর্ণবিভাময় নব উপাদান গড়ে তুলেছে, কখনো ধুম্রবহ্নি সমন্বিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শিল্পী সাহিত্যিকদের প্রতিভার জন্য ডেকে এনেছে বিপর্যয়, কিংবা সৃষ্টিকে করেছে অনাসৃষ্টি। দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে সোভিয়েট ইউনিয়নের বোরিস পাস্তারনাক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্নেষ্ট হেমিংওয়ের লেখক-জীবনের বিস্ফোরিত গতি পরিণতি এই দ্বন্দ্বের লীলাভূমিকে প্রকট করে দেখিয়েছে।
-
[তৎকালীন অস্ট্রিয়ার কোমোটাউ অন্চলের এক সৈনিক পরিবারে ১৮৯৯ সালে ফিশার জন্মগ্রহণ করেন। প্রথম মহাযুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। তবে মূলত ছিলেন দর্শনের ছাত্র ও সাংবাদিকতায় অনুরাগী। কমুনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন ১৯৩৪ সালে। ১৯৪৫ সালে, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কালে, অস্ট্রিয়ায় অস্থায়ী সরকার প্রতিষ্ঠায় অংশ নেন। কিছু সময় ওই সরকারে শিক্ষামন্ত্রীও ছিলেন। ১৯৫৯ সালের পর থেকে সম্পূর্ণরূপে সাহিত্যসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। ওই বছরই প্রকাশিত হয় শিল্প-সমালোচনামূলক তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ the Necessity of Art। মার্কসবাদীর দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত এই বইয়ে তিনি কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করেছেন—কেন শিল্পী বিশেষ পদ্ধতিতে আঁকেন, উপন্যাসবিচারের মাপকাঠি কি হবে, বা শিল্পকলাই বা কি? জার্মান ভাষায় রচিত উক্ত পুস্তকটি প্রকাশের পর থেকে
-
তিন-এর দশকের গোড়ায় ‘ব্যাটলশিপ পোটেমকিন’ এবং ‘মাদার’ দেখে একজন জার্মান সমালোচক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন—’এতদিন জানতাম পুব দিক থেকে আলো আসে, এখন দেখছি চলচ্চিত্র শিল্পটি ঐদিক থেকেই আসছে—আজ একথা নিঃসংশয়ে বলা যায় রুশ ছবিই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ।’ এই উচ্ছ্বাস অকারণ নয়। গ্রিফিথ গতিমান বিষয়কে চলচ্চিত্রের ভাষায় রূপায়িত করার প্রাথমিক ব্যাকরণ রচনা করেছিলেন, কিন্তু আইজেনস্টাইন, গুদোভকিন আর দোভঝেঙ্কো সেই ভাষায় আনলেন ব্যাপ্তি, এঁদের হাতে, মঁতাজের কৌশলে, চলচ্চিত্র-ভাষা পেল নিজস্ব গতি। এ জন্যই পোটেমকিন দেখে ‘ইউনাইটেড, আর্টিস্ট’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ডগলাস ফেয়ারব্যাঙ্কস-এর মনে হয়েছিল, আইজেনস্টাইন ‘গতির বিজ্ঞান’ আয়ত্ত করেছেন। চলচ্চিত্র জগতে মঁতাজ-পদ্ধতির প্রভাব সঙ্গে সঙ্গে অনুভূত হয়েছে, আজও এটি এই ভাষার আবশ্যকীয় অঙ্গ। ‘পোটেমকিন’ ও
-
[নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের এই সাক্ষাৎকারটি বাংলা চলচ্চিত্রচর্চার ইতিহাসে এক অনন্য দলিল। এখানে তিনি চলচ্চিত্রের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, শিল্পগত উৎকর্ষ, সাহিত্যনিরপেক্ষতা, এবং নিজের নির্মাণ-প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর ও তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর উত্তরগুলো শুধু ব্যক্তিগত মতামত নয়—চলচ্চিত্রের দর্শন, দর্শকের রুচি, এবং শিল্পের অন্তর্নিহিত জটিলতা নিয়ে এক অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ আলোচনা। চ্যাপলিন থেকে ‘পথের পাঁচালী’, ফ্ল্যাহাটি থেকে আইজেনস্টাইন—ঘটক তাঁর উত্তরগুলোতে তুলে এনেছেন বিশ্বচলচ্চিত্রের নানা দৃষ্টান্ত, যা পাঠককে ভাবায়, প্রশ্ন তোলে, এবং চলচ্চিত্রকে নতুন চোখে দেখতে শেখায়। এই সাক্ষাৎকারটি শুধু পরিচালনার প্রশ্নোত্তর নয়, বরং চলচ্চিত্রের গভীরতর সত্যের সন্ধান।—বাংলাপুরাণ]
প্রশ্ন: আপনার মতে অর্থনৈতিক দিক বজায় রেখে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসৃষ্টি সম্ভব কি না?
উত্তর: সম্ভব। অবশ্য উল্লেখযোগ্য চিত্রনির্মাণ
-
[ঋত্বিক ঘটক বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য নাম—যিনি শুধু পরিচালক নন, বরং চিন্তাশীল শিল্পী ও দার্শনিকও বটে। তাঁর প্রতিটি বক্তব্যে ফুটে ওঠে শিল্পের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা, সমাজের প্রতি তীব্র সংবেদনশীলতা এবং মাধ্যমের সীমা ও সম্ভাবনা নিয়ে নিরন্তর অনুসন্ধান। এই সাক্ষাৎকারে তিনি চিত্রনাট্য ও নাটকের মৌলিক পার্থক্য, সাহিত্য থেকে চলচ্চিত্রে রূপান্তরের জটিলতা, এবং শিল্পীর স্বাধীন সৃষ্টিশীলতার প্রশ্ন নিয়ে অকপটভাবে মত প্রকাশ করেছেন। পাঠকের কাছে এটি শুধু একটি সাক্ষাৎকার নয়, বরং চলচ্চিত্র ও শিল্পচর্চার অন্তর্নিহিত দর্শনকে নতুনভাবে ভাবার আহ্বান।—বাংলাপুরাণ]
প্রশ্ন: আপনার মতে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য ও নাটকের মধ্যে প্রকৃতিগত ও শৈলীগত পার্থক্য কতটুকু এবং কোথায়?
উত্তর: পার্থক্য অনেক। মূলত মাধ্যমের বি-সমতাই এই
Page 1 of 1
ক্যাটাগরি
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.