-
উপক্রমণিকা (prologue)
অনেক সময়ই আমরা পত্রিকার পাতায় বা অন্তর্জালে [Internet] এই ধরনের খবর দেখে থাকি—পুঁইশাকের চচ্চড়ি খেলে এইডস হওয়ার সম্ভাবনা কমে কিংবা এই আশ্চর্য অভ্যাস আপনাকে ক্যান্সার থেকে দূরে রাখবে...ইত্যাদি। সচেতন পাঠক হয়ত এগুলোকে বিশেষ পাত্তা দেন না। কিন্তু তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, দুটো ঘটনার মধ্যে একটিকে কারণ এবং অপরটিকে ফলাফল বলতে গেলে কী কী শর্ত মানতে হবে? আমরা কীভাবে জানি যে, কোনো একটা রোগের কারণ একটি বিশেষ রোগজীবাণু বা একসেট জীবনাচরণ? কেমন করে জানা যায় যে অমুক ওষুধ বা চিকিৎসায় তমুক অসুখটা সারে, নিছক দৈবক্রমে নয়? কারণ ও ফলাফলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন সংক্রান্ত এরূপ প্রশ্নের মীমাংসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা
-
ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়—নামটি যে আমাদের দেশে একেবারেই অপরিচিত, তা হয়তো নয়। তবে সে পরিচিতির পরিধি যে খুবই সীমিত, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। যাঁরা এই নামটির সঙ্গে পরিচিত, তাঁদেরও খুব অল্পসংখ্যকই এই নামের মানুষটির কৃতি ও অবদানের স্বরূপ সম্পর্কে অবহিত। অথচ, মনীষী বলতে প্রকৃত অর্থে যা বোঝায়, ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন তা-ই। যিনি মনীষাসম্পন্ন তাঁকেই তো বলে মনীষী। আর ‘মনীষা’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে ‘মনের ঈষা’। ‘ঈষা’ মানে ‘লাঙ্গলের কাষ্ঠ নির্মিত দণ্ড’। ‘ঈষা’ যেমন লাঙ্গলটিকে ধারণ করে ও সঠিকভাবে চালিত করে, মনীষী ব্যক্তিদের মনেরও থাকে তেমনই ধারণশক্তি। তাঁদের বুদ্ধি কখনও বিচলিত হয় না, দিকভ্রষ্ট হয় না, সর্বদা তা সঠিক লক্ষ্যাভিমুখী
-
লেখক: বাসুদেব মুখোপাধ্যায়
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে মনোবিদ্যা দর্শন থেকে নিজেকে মুক্ত করে ফেলে। চেতনা ও বস্তুর আন্তসম্পর্ক সভ্যতার সময় থেকে মানুষকে ভাবিয়েছে এবং যুগে যুগে সব বড় মাপের মানুষ এ সম্পর্কে তাঁদের মতামত রেখেছেন। এই চিন্তা-চেতনাকে দর্শন থেকে বার করে বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে দু'জন বড় মাপের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভেবেছেন ও কাজ করেছেন তাঁরা হলেন ফ্রয়েড ও পাভলভ। সুতরাং এটা অত্যুক্তি নয় যে এই দুইজন মানুষ ও তাঁদের কাজ ঠিকমত জানার অর্থ হল মনোবিদ্যার একটা প্রধান অংশ জেনে ফেলা। কিন্তু এই জানার পদ্ধতিতে আমরা অবশ্যই বিজ্ঞানকে ব্যবহার করবো নইলে আমাদের সব পরিশ্রম বিফলে যাবে। তাই এই
-
চিকিৎসকেরা পাভলভকে জানেন একজন বিশিষ্ট শারীরবিদ্যা-বিশারদ হিসাবে; শর্তাধীন পরাবর্ত (কনডিশন্ড্ রিফ্লেক্স)-ক্রিয়ার আবিষ্কারক হিসাবে। শারীরবিদ্যায় (ফিজিওলজি) তিনি মাত্র একটি নতুন পরিচ্ছেদ যোগ করেছেন—এই ভ্রান্ত ধারণা নিরসনের স্থান এই প্রবন্ধে নেই। চিকিৎসাবিদ্যায় পাভলভ প্রত্যয়ের প্রভাব সম্বন্ধে অতি সংক্ষেপে একটি কথা মাত্র আলোচনা করছি। চিকিৎসাবিদ্যার এবং মনোবিদ্যার ছাত্রদের ও জনসাধারণের মধ্যে পাভলভ সম্বন্ধে ঔৎসুক্য জাগানোই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য।
জীববিদ্যা, শারীরবিদ্যা, মনোবিদ্যা প্রভৃতি চিকিৎসাবিদ্যার শাখাপ্রশাখায় পাভলভীয় প্রত্যয় যুগান্তর এনেছে। শর্তাধীন পরাবর্তের মাধ্যমে পাভলভ মহা-মস্তিষ্কের (সেরিব্রাম) উপর যে-সব গবেষণামূলক পরীক্ষা করেছেন, শারীরবিদ্যায় যে-ধরনের কাজ তাঁর আগে আর কেউ করেননি। এক নতুন মস্তিষ্ক বিদ্যা তথা শারীরবিদ্যা পাভলভ গড়ে তুলেছেন, যার ফলে চিকিৎসা-বিদ্যার মূল সূত্র আজ সোভিয়েট দেশ
-
লেখক: পিনাকীলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের দৌলতে পেনিসিলিনের নাম আজ আর কারও অজানা নেই। দু'এক বছরের মধ্যেই খবরের কাগজের পাতায় পাতায় এ খবর সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে অথচ পেনিসিলিন নেহাৎ নূতন নয়। কতকটা অভাবনীয় ও নাটকীয়ভাবে পেনিসিলিনের অস্তিত্ব ও রোগনিবারণী ক্ষমতা ধরা পড়ার জন্যই বোধ হয় এটি এত অল্পকালের মধ্যেই বহুজনপরিচিত ও বহুপ্রচলিত হয়েছে।
১৮৭৭ সালে লুই পাস্তুর লক্ষ্য করেন পরখনলের মধ্যে একজাতের ব্যাধিজীবদের (ব্যাক্টিরিয়া) বৃদ্ধি অন্য আর একজাতের ব্যাধিজীবদের সংস্পর্শে ও সমকালীন বৃদ্ধির ছোঁয়াচে থেমে যায়। এর কারণ এখন অজানা নেই। ব্যাধিজীবরা হ'ল অনুদেহী অনুজীব- (মাইক্রো-অরগ্যানিজম্)। তাদের প্রাণক্রিয়ার ফলে নানা জাতের সুনির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থ তৈরী হয়। এক জাতের ব্যাধিজীবদের বৃদ্ধি-বিরোধী
-
সেদিন বেশ কয়েক মাস পর আমার এক বন্ধুর সাথে দেখা। শরীর খারাপ, ঠাণ্ডাজনিত সর্দিকাশি। জানতে চাইলাম, কিরে সর্দি-কাশি ছাড়ে না কেন তোকে? শেষ যেদিন দেখা হয়েছিল একই অবস্থা ছিল তোর। ডাক্তার দেখাসনি? ও বললো, রাখ তোর ডাক্তার। কোনো ওষুধেই কাজ হচ্ছে না।
বিষয়টা সত্যি ভাববার! কোনো ওষুধ বা এন্টিবায়োটিক কেন কাজ করছে না? তাহলে কি সামনে এমন দিন আসছে যে আমাদের সামান্য সর্দি-কাশি হবে, হাত- পা কাটবে, জ্বর উঠবে তারপর টুপ করে মারা যাবো? কোনো এন্টিবায়োটিকই আর কাজ করবে না? এন্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেছিলেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং। ফ্লেমিং বলেছিলেন, “এই এন্টিবায়োটিকের কারণে আজ কোটি কোটি মানুষ বেঁচে যাবে। অনেক বছর পর এগুলো
-
সাবর্ণি সরকার
পৃথিবীর যেকোনো বহুকোষী জীব একটি কসমোপলিটন শহরের মতো। এই বহুজাতিক শহরে যেমন জীবটির নিজের বিভিন্ন কোষ বাস করে, তেমনি বাস করে অন্যান্য বিভিন্ন প্রজাতির এককোষী কিংবা বহুকোষী জীব। মানুষের কথাই ধরা যাক। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরে তার নিজের কোষের থেকে ‘বিদেশি’ কোষের সংখ্যাই বেশি। এই বিদেশিরা বাস করে অন্ত্র ও ত্বকে। তাদের প্রজাতির সংখ্যাই কয়েক হাজার [প্রায় ১০ হাজার]। এসব ‘বিদেশি’ জীবের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া, রয়েছে অ্যামিবা, রয়েছে কিছু কৃমি, আর্থোপড (যেমন, মুখের Demodex folliculorum) ইত্যাদি)। এই কসমোপলিটন শহরে সবাই সুখে-শান্তিতে বসবাস করে। তবে, মানুষের সমাজের মতো এখানেও একজন আরেকজনকে ধোঁকা দেয়। মানুষের নিজস্ব কোষ আর
-
মেসোপটেমিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান মূলতঃ এসেছে আসূরবানিপালের গ্রন্থাগার থেকে। আসিরীয়ার দ্বিগ¦ীজয়ী সম্রাট আসূরবানিপালের গ্রন্থাগার ইংরেজ পুরাতত্ত্ববিদ হেনরী লেয়ার্ড ১৮৫০ খৃষ্টাব্দে প্রাচীন নিনেভা শহরের ধ্বংসস্তূপ খনন কাজ চালানোর সময় খুঁড়ে বের করেন।
পৃথিবীর এই প্রাচীনতম গ্রন্থাগারের জন্য আমরা প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার সম্বন্ধে এতোকিছু জানতে পেরেছি। গ্রন্থাগারটি হচ্ছে খৃষ্টপূর্ব ৬৬৮ অব্দের। এই সময় থেকে আরো দেড় হাজার বছর আগের মৃৎফলক গ্রন্থাগারে পাওয়া গেছে। রাজা আসূরবানিপাল যেমন নিষ্ঠুর তেমনই বিদগ্ধ ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্যের মধ্যে যত লিখিত বস্তু অর্থাৎ মৃৎফলক ছিল তা যতই প্রাচীন হোক না কেনো সেগুলো তিনি তাঁর গ্রন্থাগারে আনিয়ে ছিলেন। ফলশ্রুতি হিসাবে আমরা পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতা সুমের থেকে শুরু করে
Page 1 of 1
ক্যাটাগরি
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.