বই
নয়নচারা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। সমকালীন সময়ে তিনি কলকাতার বাসিন্দা। গ্রন্থভুক্ত আটটি গল্পের মধ্যে পত্রপত্রিকায় সব ক'টি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল কি না, সে-বিষয়ে গবেষকবৃন্দের নিকটে তথ্যের অপ্রতুলতা আছে। জানা গেছে, ‘নয়নচারা’ প্রথম বেরিয়েছিল সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত ‘পূর্বাশা' পত্রিকায়, আর ‘খণ্ড চাঁদের বক্রতায়’ মাসিক ‘সওগাতে’।
পূৰ্ব্বাশা লিমিটেড নামে প্রকাশনালয় ‘নয়নচারা' প্রকাশ করে ১৩৫১-র চৈত্রে। প্রকাশনার স্থল প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কবিকোবিদ-ঔপন্যাসিক-সমালোচক সঞ্জয় ভট্টাচার্য পত্রিকা বা প্রকাশনসংস্থা কোনোটিই ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে মুনাফার লোভে করেন নি। এর অর্থ---সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ব্যক্তিত্ব বা সৃজনশীলতা কলকাতার লেখক-বুদ্ধিজীবী সমাজকে আকৃষ্ট করেছে, অন্যথায় ‘পূর্ব্বাশা' থেকে তা প্রকাশিত হত না। ‘নয়নচারা' বইটির ১ম সংস্করণ এত দুষ্প্রাপ্য যে খুব কম লোকই চাক্ষুষ করেছেন। এর আকার ছিল ক্রাউন এবং পৃষ্ঠাসংখ্যা ৪+১০২; প্রচ্ছদশিল্পীর নাম নেই, এবং সূচিপত্রে পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত হয় নি ।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্-রচনাবলীর সম্পাদক অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন জানিয়েছেন যে কলকাতায় প্রকাশিত 'গল্প-সমগ্র'তে অগ্রন্থিত কোনো গল্প স্থান পায় নি।
-
ঘনায়মান কালো রাতে জনশূন্য প্রশস্ত রাস্তাটাকে ময়ূরাক্ষী নদী বলে কল্পনা করতে বেশ লাগে। কিন্তু মনের চরে যখন ঘুমের বন্যা আসে, তখন মনে হয় ওটা সত্যিই ময়ূরাক্ষী: রাতের নিস্তব্ধতায় তার কালো স্রোত কল-কল করে, দূরে আঁধারে ঢাকা তীররেখা নজরে পড়ে একটু-একটু, মধ্যজলে ভাসন্ত জেলেডিঙিগুলোর বিন্দু বিন্দু লালচে আলো ঘন আঁধারেও সর্বংসহা আশার মতো মৃদু-মৃদু জ্বলে।
তবে, ঘুমের স্রোত সরে গেলে মনের চর শুষ্কতায় হাসে ময়ূরাক্ষী! কোথায় ময়ূরাক্ষী! এখানে-তো কেমন ঝাপসা গরম হাওয়া। যে-হাওয়া নদীর বুক বেয়ে ভেসে আসে সে হাওয়া কি কখনো অত গরম হতে পারে?
ফুটপাথে ওরা সব এলিয়ে পড়ে রয়েছে। ছড়ানো খড় যেন। কিন্তু দুপুরের দিকে লঙ্গরখানায় দুটি খেতে
Page 1 of 1
ক্যাটাগরি
আর্কাইভ
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.