প্রবেশদ্বার

[এই রচনাটির একটি রাজনৈতিক পটভূমিকা আছে। ১৮৭৭ খৃীষ্টাব্দে ভেরা জাসুলিচ নামে এক রুশ তরুণী পিটারবুর্গের (বর্তমান লেনিনগ্রাদ) গভর্নর-জেনারেল ত্রিয়েপভ্‌কে গুলি করে। আদালতে ভেরার বিচার শুরু হয়। ভেরার বিচার বহুলাংশে তুর্গেনিভের এই লেখাটির অনুপ্রেরণা। এর রচনাকাল ১৮৭৮ খ্রীষ্টাব্দের মে মাস। পাঁচ বছরের উপর এই ‘গদ্য-কবিতা’টি অপ্রকাশিত অবস্থায় ছিল। অবশেষে ১৮৮৩ খ্রীষ্টাব্দে ২৭শে সেপ্টেম্বর তারিখে 'জনমত' (নারদনাইয়া ভলিয়া) পত্রিকার সঙ্গে পৃথকভাবে এটি ছাপানো হয় এবং পিটারবুর্গ শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়; সেদিন ছিল তুর্গেনিভের সমাধিদিবস।

বহুদিন পর্যন্ত ‘প্রবেশদ্বার' তুর্গেনিভের ‘নির্বাচিত রচনাবলী'র অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ১৯০৫ খ্রীষ্টাব্দের রুশ বিপ্লবের পরই রচনাটি পাঠক-সমাজে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।—অনুবাদক]

এক বিশাল প্রাসাদ দেখতে পাচ্ছি।

প্রাসাদের সম্মুখস্থ প্রাচীরের সংকীর্ণ দ্বারটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। দ্বারের পশ্চাদভাগে বিষণ্ণ অন্ধকার। উচ্চ প্রবেশদ্বারের সামনে দাঁড়িয়ে এক তরুণী—রুশীয় তরুণী।

সেই সূচীভেদ্য অন্ধকারের নিঃশ্বাস তুহিনশীতল; শীতল প্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে প্রাসাদের গভীর থেকে নির্গত হচ্ছে একটি রুদ্ধ স্বর।

“ও তুই-ই এই প্রবেশদ্বার অতিক্রম করতে চাস্—জানিস তোর ভবিষ্যৎ কী?”

“জানি” তরুণী উত্তর দেয়।

“শীত, ক্ষুধা, ঘৃণা, উপহাস, অবজ্ঞা, অপমান, কারাগার, ব্যাধি এবং সাক্ষাৎ মৃত্যু?”

“জানি।”

“সর্বস্ব-রিক্ততা, একাকীত্ব?”

“—জানি। আমি তার জন্য প্রস্তুত। আমি সমস্ত দুঃখক্লেশ, সমস্ত আঘাত সহ্য করব।”

“কেবল শত্রুদের কাছ থেকেই নয়—আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকেও?”

“হ্যাঁ,...তাদের কাছ থেকেও।”

“বেশ, তুই আত্মোৎসর্গের জন্য প্রস্তুত?”

“হ্যাঁ।”

“নামহীন আত্মোৎসর্গের জন্য?—তুই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবি—আর কেউ—কেউ জানবেও না, কার স্মৃতি তারা মনে রাখবে।”

“কৃতজ্ঞতা আর সহানভূতি—এর কিছুতেই আমার প্রয়োজন নেই, নাম চাই না আমি।”

“তুই মারাত্মক অপরাধ করতে প্রস্তুত?”

তরুণী মস্তক অবনত করল।

“–আমি মারাত্মক অপরাধের জন্যও প্রস্তুত।” কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে রইল সেই কণ্ঠ।

“জানিস তুই,” তারপর সে আবার শব্দ করল, “এখন যাতে তুই দৃঢ়বিশ্বাস রাখিস, সেই বিশ্বাস একদিন তোর শিথিল হতে পারে। তোর মনে হতে পারে, তুই নিজেই নিজেকে প্রতারণা করেছিস, বৃথাই তোর তরুণ-জীবন ধ্বংস করেছিস?”

“—তা-ও জানি। তবুও আমি ভেতরে প্রবেশ করতে চাই।”

“প্রবেশ কর।”

তরুণী প্রবেশদ্বার অতিক্রম করে গেল—তার পেছনে নেমে এল একটা গুরুভার যবনিকা।

“মূর্খ!” পেছন থেকে কার দাঁতে দাঁত চাপা কর্কশ কণ্ঠ শোনা গেল৷

প্রত্যুত্তরে কোথা থেকে ভেসে এল—“কি পবিত্র!”


মূল রুশ থেকে অনুবাদ: অমিয়কুমার চক্রবর্তী

পরিচয়, ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৫৯

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice