সিংহের রাজত্ব
বনের পশুরা একদিন জুটে পরামর্শ করতে লাগল কাকে রাজা করা যায়, সবাই যাকে কেবল ভয়ই করবে না, ন্যায্য বিচারক বলে মান্যও করবে। কিন্তু রাজা ঠিক করা গেল না—জমায়েতে সবাই আসে নি: সবচেয়ে বড়োসড়ো বলবান জন্তুরাই হাজির ছিল না। তখন ঠিক হল আবার সবাইকে ডাকা হবে―ছোটো থেকে বড়ো পর্যন্ত সবাইকে, যাতে ব্যাপারটা চুকে যায়।
সব জন্তুই এল সেদিন। ছিল: হাতি, সিংহ, বাঘ, জলহস্তী, গণ্ডার, ভালুক, নেকড়ে, হরিণ, উট, শেয়াল, খরগোশ, বনশুয়োর, জেব্রা, ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া, গরু, কুকুর, বেড়াল, মেরু-বেড়াল, ধেড়ে ইঁদুর, নেংটি ইঁদুর, যতরকম জন্তু ছিল দুনিয়ায়; বলতে-কি গাধাও বাদ যায় নি।
সবাই যখন জুটল, প্রথম কথা বলতে শুরু করল হরিণ: ‘আমরা যে চুনোপাটি জন্তুরা আপনাদের, বড়ো বড়ো বলবান জন্তুদের ডেকেছি, তার জন্যে হোমরাচোমরা মহাশয়রা, আমাদের ওপর রাগ করবেন না। আমরা ঠিক করেছি আপনাদের মধ্যে থেকে কাউকে সমস্ত জন্তুদের ওপর রাজা করব।’
তখন হাতি বললে: ‘এটা বেশ ভালো কথা। ন্যায্য ব্যবস্থা আর আইনকানুন চালু করার সময় হয়ে গেছে অনেকদিন। একজন রাজা ঠিক করা দরকার, সে আমাদের সবাইকে চালাবে, লুটপাট হতে দেবে না, ন্যায় মতে বিচার করবে। ভালো করে ভেবেচিন্তে বলুন কাকে রাজা করতে চান। আমিই অবিশ্যি রাজা হতে পারি, সবার চেয়ে আমি বড়োসড়ো, সবার চেয়ে বলবান। পছন্দ না হয়, সে, আপনাদের ইচ্ছে। আমার কিছু, এসে যায় না।’
কোনোরকম অনুমতি-টনুমতির ধার না ধেরে সিংহ এগিয়ে গেল সামনে: ‘না মশাইরা, না! হাতির কোনো রকমেই রাজা হওয়া চলে না। দ্যাখো না, কিরকম জবরজং, ধুমসো, জোরে ছুটতে পারে না। রাজা হওয়া আমাকেই মানায়। সবাই আমার কথা শুনবে, আমায় মানবে। আমি চটপটে, দেখতে সুন্দর, বলবান ৷’
তখন ছুটে এল শেয়াল, গাছের কাটা গুঁড়ির ওপর লাফিয়ে উঠে শুরু করল: ‘আমরা জানি যে রাজা হওয়া দুজনেরই সাজে। তবে কারো যাতে দুঃখ, না থাকে, ঝগড়াঝাঁটি মারামারি ছাড়াই ব্যাপারটা চুকে যায়, তাই গোপনে পরামর্শ করা যাক, তোমাদের মধ্যে কে রাজা হবে। তোমাদের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে পরামর্শ করব আমরা।’
শেয়ালের কথা ভালো লাগল সবার, জন্তুরা চিৎকার করল, ‘সাধু, সাধু!”
ঠিক করল দেরি না করে কাজে লাগা যাক। সবাই দূরে চলে গিয়ে তর্ক—বাধাল। সবচেয়ে অসহায় আর দুর্বল জন্তুরা চেচাতে লাগল: ‘হাতির রাজা হওয়া উচিত। দুনিয়ার সমস্ত জন্তুর মধ্যে সেই বেশি বুদ্ধিমান, সবচেয়ে ন্যায্য মতে সে চলবে।’
আর বেশি বলবান, চটপটে জন্তুরা চ্যাঁচাল: ‘রাজা হওয়া উচিত সিংহের। সে শুধু হাতির চেয়ে বেশি চটপটে তাই নয়, দেখতেও সুন্দর। কেবল সেই রাজা হতে পারে!'
অনেকে লটারি করার কথা পাড়ল।
শেয়াল ভয় পাচ্ছিল সিংহকে, শেয়ালকে সে বলেছিল তার পক্ষ নিতে, ভয়ও দেখিয়েছিল, তাকে রাজা করা না হলে সে তাকে কুটিকুটি করবে। প্রাণের ভয়ে সে সিংহকে রাজা করার জন্যে উঠে পড়ে লাগল। সবাই যাতে তাকে দেখতে পায়, তার জন্যে গাছের গুঁড়ির ওপর উঠে শুরু করল: ‘মশাইরা, শোনো আমি যা বলি। অনেকে রাজা করতে চায় হাতিকে। তা সত্যি—হাতি বুদ্ধিমান, গায়ে জোর আছে, রক্ত ভালোবাসে না, অন্যকেও মাংস খেতে দেবে না। কিন্তু নিজেরাই বিচার করে দ্যাখো: এমন ও জবুথবু, কেমন রাজা হবে সে? আমাদের শত্রুরা এখনকার চেয়েও বেশি করে ক্ষতি করবে আমাদের, লুটপাট করবে। কেউ ওকে স্রেফ ভয়ই পাবে না। ওরা বেশ জানে যে শাস্তি দিতে ও পারবে না, কারো পেছু ধাওয়া করলে, তারা পালাবে। আমি মনে করি সিংহকে রাজা করাই ভালো। সে বুদ্ধিমান, বলবান, তড়িঘড়ি, দোষীদের সে শাস্তি দিতে পারবে, সবাই ভয় পাবে ওকে। কেউ অন্যায়
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments