মরাল, চিংড়ি আর বোয়াল মাছ

তীরের কাছে ভাসছিল মরাল। ঘাড় বাঁকিয়ে সে জল দেখছিল। কাছেই ছিল একটা বোয়াল মাছ। মাছটা জিগ্যেস করলে: ‘আচ্ছা বলো তো, নদী জমে গেলে তুমি কোথায় উড়ে যাও?’

‘তা জেনে তোমার কী লাভ?’

‘শীতকালে কোথাও পালিয়ে থাকতে চাই। নইলে জমা বরফের তলে তাজা বাতাস থাকে না, দম আটকে মরি।’

‘শীতকালে আমি উড়ে যাই গরম দেশে, বসন্ত পর্যন্ত সেখানে থাকি।’

বোয়াল বললে, ‘আমাকেও সেখানে নিয়ে চলো।’

‘তা বেশ! যদি চাও, একসঙ্গেই উড়ে যাব। সঙ্গী থাকলে ভালোই কাটবে।’

কথাবার্তাটা কানে গেল চিংড়ির। বললে: ‘আমাকেও সঙ্গে নাও।’

‘তা বেশ! তুমিও চলো আমাদের সঙ্গে, আনন্দে কাটবে। শরৎ পর্যন্ত এখানে থাকব, বলব কখন উড়ে যেতে হবে।’

মরাল বোধ হয় ভেবেছিল, জলে যখন ভাসে, তখন বাতাসেও ভাসতে পারবে।

গ্রীষ্ম কেটে গেল। শরৎ এল। মরালও তাই বললে: ‘তা বন্ধুরা, গরম দেশে যাবার সময় এসে গেছে। তৈরি হয়ে নাও, কাল খাওয়া-দাওয়ার পর রওনা দেব।’

বোয়াল সেকথা বললে চিংড়িকে। চিংড়ি অনেক ভেবে ভেবে শেষে বললে: ‘মাটির ওপর বোন থাকব কেমন করে? কী খাব? পথের জন্যে খাবার নেওয়া যাক, শেষ পর্যন্ত যাতে চলে।’

‘কিসে করে তা নেব?’ জিগ্যেস করলে বোয়াল।

‘একটা ঠেলা গাড়িতে চাপিয়ে নিজেরা জুতব। মরালকেও ডাকব, টেনে নিয়ে যাব তিনজনে।’

গাড়ি একটা জোগাড় করল মাছ আর চিংড়ি, ঘাস দিয়ে লাগাম বুনল, অপেক্ষা করতে লাগল মরালের, পরের দিন মরাল এসে বলল: ‘তোমরা তৈরি তো সব? নইলে আমি কিন্তু উড়ে যাব।’

‘তৈরি, তৈরি! কেবল গাড়িটা টেনে নিয়ে যেতে সাহায্য করো-না, তিনজনে কাঁধ লাগিয়ে রওনা দেব।’

‘ঠিক আছে, আমার পায়ের সঙ্গে বেধে দাও।’

মরালের পা বেধে দিল চিংড়ি, নিজের লাগামটা ধরল দাঁড়া দিয়ে। তিন নম্বর লাগামটা বোয়াল কামড়ে ধরল দাঁতে।

‘তাহলে এবার সবাই—চললাম।’

অমনি টান পড়ল তিন দিকে। চিংড়ি পিছিয়ে গেল, তাই তার হাঁটার ধরন। বোয়াল সোজা জলের দিকে। আর মরাল ডানা মেলে একেবারে আকাশে। সবকটা লাগামই গেল ছিঁড়ে আর গাড়িটা রয়ে গেল একই জায়গায়। ওদের মধ্যে কে ঠিক, কার ভুল, কেউ তা জানল না। তা নিয়ে মাথাও ঘামাল না কেউ। কেবল কোলা ব্যাঙদের সে কী হাসি, কী হাসি! সবচেয়ে তাদের অবাক লেগেছিল এই দেখে, যার যা সাজে না, তা করতে গেল কেন বোয়াল আর চিংড়ি?

ইউক্রেনের লোককথা, UKRAINIAN FOLK TALES, সংকলক: ভ্লাদিমির বইকো (ভাষাবিদ্যার ডক্টর), মূল রুশ থেকে অনুবাদ: ননী ভৌমিক, শিল্পী: ব্লাদিমির গর্দিচুক, রাদুগা প্রকাশন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ১৯৮৮

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice