- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৮৮
- ২০৫
মরাল, চিংড়ি আর বোয়াল মাছ
তীরের কাছে ভাসছিল মরাল। ঘাড় বাঁকিয়ে সে জল দেখছিল। কাছেই ছিল একটা বোয়াল মাছ। মাছটা জিগ্যেস করলে: ‘আচ্ছা বলো তো, নদী জমে গেলে তুমি কোথায় উড়ে যাও?’
‘তা জেনে তোমার কী লাভ?’
‘শীতকালে কোথাও পালিয়ে থাকতে চাই। নইলে জমা বরফের তলে তাজা বাতাস থাকে না, দম আটকে মরি।’
‘শীতকালে আমি উড়ে যাই গরম দেশে, বসন্ত পর্যন্ত সেখানে থাকি।’
বোয়াল বললে, ‘আমাকেও সেখানে নিয়ে চলো।’
‘তা বেশ! যদি চাও, একসঙ্গেই উড়ে যাব। সঙ্গী থাকলে ভালোই কাটবে।’
কথাবার্তাটা কানে গেল চিংড়ির। বললে: ‘আমাকেও সঙ্গে নাও।’
‘তা বেশ! তুমিও চলো আমাদের সঙ্গে, আনন্দে কাটবে। শরৎ পর্যন্ত এখানে থাকব, বলব কখন উড়ে যেতে হবে।’
মরাল বোধ হয় ভেবেছিল, জলে যখন ভাসে, তখন বাতাসেও ভাসতে পারবে।
গ্রীষ্ম কেটে গেল। শরৎ এল। মরালও তাই বললে: ‘তা বন্ধুরা, গরম দেশে যাবার সময় এসে গেছে। তৈরি হয়ে নাও, কাল খাওয়া-দাওয়ার পর রওনা দেব।’
বোয়াল সেকথা বললে চিংড়িকে। চিংড়ি অনেক ভেবে ভেবে শেষে বললে: ‘মাটির ওপর বোন থাকব কেমন করে? কী খাব? পথের জন্যে খাবার নেওয়া যাক, শেষ পর্যন্ত যাতে চলে।’
‘কিসে করে তা নেব?’ জিগ্যেস করলে বোয়াল।
‘একটা ঠেলা গাড়িতে চাপিয়ে নিজেরা জুতব। মরালকেও ডাকব, টেনে নিয়ে যাব তিনজনে।’
গাড়ি একটা জোগাড় করল মাছ আর চিংড়ি, ঘাস দিয়ে লাগাম বুনল, অপেক্ষা করতে লাগল মরালের, পরের দিন মরাল এসে বলল: ‘তোমরা তৈরি তো সব? নইলে আমি কিন্তু উড়ে যাব।’
‘তৈরি, তৈরি! কেবল গাড়িটা টেনে নিয়ে যেতে সাহায্য করো-না, তিনজনে কাঁধ লাগিয়ে রওনা দেব।’
‘ঠিক আছে, আমার পায়ের সঙ্গে বেধে দাও।’
মরালের পা বেধে দিল চিংড়ি, নিজের লাগামটা ধরল দাঁড়া দিয়ে। তিন নম্বর লাগামটা বোয়াল কামড়ে ধরল দাঁতে।
‘তাহলে এবার সবাই—চললাম।’
অমনি টান পড়ল তিন দিকে। চিংড়ি পিছিয়ে গেল, তাই তার হাঁটার ধরন। বোয়াল সোজা জলের দিকে। আর মরাল ডানা মেলে একেবারে আকাশে। সবকটা লাগামই গেল ছিঁড়ে আর গাড়িটা রয়ে গেল একই জায়গায়। ওদের মধ্যে কে ঠিক, কার ভুল, কেউ তা জানল না। তা নিয়ে মাথাও ঘামাল না কেউ। কেবল কোলা ব্যাঙদের সে কী হাসি, কী হাসি! সবচেয়ে তাদের অবাক লেগেছিল এই দেখে, যার যা সাজে না, তা করতে গেল কেন বোয়াল আর চিংড়ি?
ইউক্রেনের লোককথা, UKRAINIAN FOLK TALES, সংকলক: ভ্লাদিমির বইকো (ভাষাবিদ্যার ডক্টর), মূল রুশ থেকে অনুবাদ: ননী ভৌমিক, শিল্পী: ব্লাদিমির গর্দিচুক, রাদুগা প্রকাশন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ১৯৮৮
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments