- প্রযোজ্য নয়
- ১৯৯০
- ২৯১
ধূর্ত কবি
একসময় বুখারাতে ছিল এক চারণকবি। তার খুব সুন্দর গলা ছিল। প্রতি শুক্রবারে মসজিদের সামনে লোক জড় করে তার রচিত বিভিন্ন কাহিনী শোনাত। লোক জড় হত সবসময় প্রচুর। একদিন সে কাহিনী শেষ করার পর লোকেদের কাছ থেকে পয়সা নিতে লাগল এই বলে: ‘ভাইরা, খোদার দয়ায় আমি জাদুর ভেলকী দেখাতে জানি। তোমরা প্রত্যেকে কিছু কিছু করে দাও আমি তোমাদের জাদুর ভেলকী দেখাব।’
লোকেদের জাদুর ভেলকী দেখতে ইচ্ছে হল তাই তারা সবাই পয়সা দিল। কবি সব পয়সাগুলো নিয়ে বলল: ‘ভাইরা, আজ দেরী হয়ে গেছে খোদাবন্দের ইচ্ছা যে আজ আমি যেন ভেলকী না দেখাই। পরের শুক্রবারের দেখতে পাবে ভেলকী।’
কবি বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটা দিল। লোকেরাও বাড়ি চলে যেতে যেতে বলাবলি করতে লাগল: ‘এ কবিটা, ওর বাপের মুখ পুড়ুক, ঠকাল আমাদের।’ তিনজন লোকের ভীষণ রাগ হল, তারা ঠিক করল: ‘ঠগটাকে ভাল করে শিক্ষা দিতে হবে। ওকে ধোলাই না দিলে হিসাব মেটান যাবে না ওর সঙ্গে।’
তারাও চলল কবির পিছন। কবি থাকত বুখারার মাদ্রাসাতে। ঘরে এসে সে ডেকচি উনুনে চাপিয়ে পোলাও রান্না করতে আরম্ভ করল, এমন সময় হুড়মুড় করে তার ঘরে এসে ঢুকল সেই তিনজন যারা তাকে ধোলাই দিতে চেয়েছিল। কবি বুঝল ঠিকই কি জন্য এসেছে তারা, কিন্তু বসতে বলল তাদের, ‘আসুন, আসুন, অতিথিরা আসতে আজ্ঞা হোক। ঠিক সময়েই এসেছেন। এখুনি পোলাও তৈরী হয়ে যাবে। ততক্ষণ আসুন চা খাওয়া যাক।’
প্রত্যেকের দিকে পেয়ালা এগিয়ে দিল সে। অনাহুত অতিথিরা দেখল সত্যিই পোলাও প্রায় তৈরী, চোখ টেপাটেপি করে ঠিক করল প্রথমে খেয়ে নেবে তারপর শিক্ষা দেবে। বসল তারা, কবি তাদের সামনে চা এগিয়ে দিচ্ছে আর বলছে ওদিকে, ‘ যখন বয়স কম ছিল খুব মিষ্টি গলা ছিল আমার। সপ্তাহে একদিন করে আমি কাহিনী শোনাতাম আমীর দরওয়াজার কাছে, গোটা বুখারার লোক জড় হত আমার কাহিনী শুনতে। একদিন যখন আমি বলছি আমার কাহিনী, দেখি দরওয়াজায় দাঁড়িয়ে এক সুন্দরী আমার কথাগুলো শুনছে প্রচণ্ড আগ্রহে। সেদিকে তাকিয়ে মাথা খারাপ হয়ে গেল আমার। প্রতিদিন যেতে লাগলাম দরওয়াজার কাছে। যেই কাহিনী বলা আরম্ভ করতাম অমনি এসে দাঁড়াত মেয়েটি, চুরি করে তার সৌন্দর্য উপভোগ করতাম আমি। ক্রমশ আমার মনে জ্বলে উঠল প্রেমের আগুন। শেষে একদিন মাঝরাতে এলাম আমি দরওয়াজার কাছে, অনেকক্ষণ ঘুরলাম দরওয়াজার কাছে পিঠে যতক্ষণে না প্রহরীদের সতর্ক চোখ ফাঁকি দিয়ে পাঁচিল পেরিয়ে ঢুকতে পারলাম ভিতরে। চারদিক অন্ধকার, কেবল একটা ঘরে আলো জ্বলছে। জানলায় উঁকি দিয়ে দেখি সে ঘরে ঘুমোচ্ছে চল্লিশটি মেয়ে। মনে মনে বললাম: ‘আমার হৃদয়ের অধিকারিণীও নিশ্চয়ই এখানে।’ ঢুকলাম ঘরে, মেয়েরা রূপে একে অপরকে হার মানায়। ভাবলাম: ‘এদের মধ্যে কে সেইজন যে আমাকে এমন নির্ভয় করে তুলেছে?’ দেখি, শুয়ে আছে সে একেবারে সবার মাঝখানে, তার মাথার কাছে রয়েছে বাতিদান, তাতে জ্বলছে চল্লিশটা বাতি। তার কাছে এগিযে যাব ভেবে যেই এগিয়েছি ধাক্কা লেগে গেল একটি মেয়ের গায়ে। মেয়েটির ঘুম ভেঙে গেল, সে লাফিয়ে উঠে চিৎকার করতে লাগল, ‘বাবা গো, মা গো, চোর, চোর!’
কবি হাত তালি দিয়ে আবার চিৎকার করল, ‘বাবা গো, চোর, চোর, ধর!’
সে চিৎকার শুনে উঠোন থেকে ছুটে এল মাদ্রাসার ছাত্ররা। কবি অনাহূত অতিথিদের দেখিয়ে তাদের বলল, ‘ওই যে চোর, মার ওদের!’
ছাত্ররা তাদের মারতে মারতে বার করে দিল মাদ্রাসা থেকে। কোনক্রমে প্রাণে বাঁচল তারা।
আর কবি নিজের এই চাতুরীতে খুব খুশী হয়ে হাঁড়িভর্তি পোলাও রান্না করে তার রক্ষাকর্তাদের সবাইকে খাওয়াল পেটভরে।
তাজিক লোককাহিনী, অনুবাদ: পূর্ণিমা মিত্র, আঁকিয়ে: ইল্যুস মুর্সালিমভ,
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রযোজ্য নয়
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments