- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
ভালুকের মা
এক বন। সেই বনের ধারে ঘর বেঁধে কাঠুরে আর তার বউ বাস করে। ওদের ছেলেপুলে নেই। দুই জনকে নিয়েই সংসার।
কাঠুরে রোজ সকালে বনে গিয়ে কাঠ কাটে। তারপর কাঠের আঁটি বেঁধে নিয়ে বাজারে যায় বিক্রি করতে। বিক্রি করে যা পায়, তাই দিয়ে চাল-ডাল-তেল-নুন আর যা যা লাগবে সব কিনে নিয়ে আসে। এইভাবে সুখে-দুঃখে দিন যায়।
অগ্রহায়ণ মাসের শেষভাগে বেশ শীত পড়ে গেছে। কাঠুরের পিঠে খাবার কথা মনে পড়ে গেল। বউকে ডেকে বলল, বউ, বউ অনেকদিন পিঠে খাই না। আজ পিঠে বানাও। বউ বলল, ভালো কথাই বলেছ। পিঠে খাবার এই তো সময়। কিন্তু পিঠে যে বানাব, ঘরে-যে কিছুই নেই। পিঠে বানাবার সাজ-সরঞ্জাম চাই তো!
ও এই কথা। তার জন্য কি? আমি সব যোগাড়যন্তর করে আনছি। তুমি সন্ধ্যাবেলায় পিঠে বানাবে। রাত্রি বেলা খাব, আবার কাল সকালেও বাসি পিঠে খাব।
কাঠুরের বউ হেসে বলল, বেশ তো। দেখব, তুমি কত খেতে পার।
কাঠুরে বাজার থেকে সব কিছুই কিনে নিয়ে এসে বলল, নাও, এই ধরো। আমি একটু বাইরে বেরোচ্ছি। সন্ধ্যার একটু বাদেই ফিরে আসব। কাঠুরে বউ ডেকে বলল, ফিরতে দেরী করো না কিন্তু।
কাঠুরে উত্তর দিল, ওরে বাপরে বাপ, আজ কি আর দেরী করতে পারি?
সন্ধ্যা হয়ে গেছে। অন্ধকার নেমে এসেছে। কাঠুরে বউ ভেজে ভেজে পিঠে নামাচ্ছে। এমন সময় পায়ের শব্দ শুনে কাঠুরে বউ বুঝল, কাঠুরে এসেছে।
—কাঠুরে বউ, কি করছো?
কাঠুরে বউ মুখ না ফিরিয়েই উত্তর দিল, আহা, কি করছি জানো না তুমি? আমার পিঠে ভাজা প্রায় শেষ হয়ে গেল। এসেছো ভালোই হয়েছে। তুমি একটা পিড়ি পেতে বসে পড়। গরম গরম ভালো লাগবে।
যে এসেছিল, সে পিঁড়ি পেতে বসে পড়ল। এমন সময় কাঠুরে বউ মুখ ফেরালো। মুখ ফিরিয়ে যা দেখল তাতে সে ভয়ে একেবারে কাঠ হয়ে গেল। তার মুখ দিয়ে কথা ফুটল না। ওরে বাবা, এক বিরাট ভালুক পিঁড়ি পেতে বসে পিঠে নেবার জন্য ধ্যাবড়া হাতটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভালুক তার মনের অবস্থাটা বুঝতে পেরে দাঁত বের করে হেসে বলল, তুমি আমায় দেখে অত ভয় পাচ্ছ কেন? আমি তোমায় কিছু বলব না। কিন্তু তুমি আমায় পিঠে খেতে বসতে বলেছ। এখন দাও।
কাঠুরে বউ কি আর করবে, কাঁপতে কাঁপতে এক গোছা পিঠে ওর হাতের ওপর ছেড়ে দিল। না দিয়ে উপায় আছে? তা হলে সব কিছুই কেড়ে খাবে। আর তাকেই কি জ্যান্ত রাখবে? যে একখানা হাত, একটা চড় মারলে কাঠুরে বউকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।
ভালুক পিঠে খেয়ে ভারী খুশী। এমন জিনিস তার জন্মে খায়নি। খালি হাতটা চেটে চুষে নিয়ে সে আবারও হাত বাড়াল। কাঠুরে বউ আবারও তার হাত ভরতি করে দিল। এই রকম কয়েকবার চলল। খেয়ে খেয়ে ওর লোভ আর মিটতে চায় না। সে খাচ্ছিল আর মনে মনে নানা রকম মতলব আঁটছিল। সে ভাবছিল, এমন অপূর্ব জিনিস একবার খেলে কি সাধ মেটে? যখন পিঠে খায় নি, সে ছিল এককথা। কিন্তু এখন তো সারা জীবন মনটা এই নিয়ে খাই খাই করবে। তার চেয়ে কাঠুরে বউ যদি সব সময় তার সঙ্গে থাকে, তা হলে যখন খুশী সাধ মিটিয়ে পিঠে খেতে পারবে। কিন্তু কাঠুরে বউকে ওর সঙ্গে যেতে বললে সে কি রাজী হবে? বোধ হয় না।
আর কাঠুরে বউ মনে মনে তখন ভাবছে, খেয়ে দেয়ে এ আপদ কখন বিদায় নেবে। কাঠুরেও ফিরছে না, কি বিপদেই না সে পড়ল! কিন্তু ভালুক ইতিমধ্যেই তার মন স্থির করে ফেলেছে, সে আর
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
সত্যেন সেন
বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামের এক বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী পরিবারে ১৯০৭ সালে সত্যেন সেনের জন্ম। অল্প বয়সেই তিনি অসহযোগ আন্দোলনে ও পরে সন্ত্রাসবাদী দলে যোগ দেন। ছাত্রজীবন শেষ হতে না হতেই তাঁর জেল-জীবনের শুরু। ১৯৩১ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজবন্দী হিসেবে বিভিন্ন জেলে আটক থাকেন। জেলে বসেই তিনি এম.এ পরীক্ষায় উর্ত্তীণ এবং
আরও দেখুন...-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments