- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
চোর
চোর গেল রাজবাড়িতে চুরি করতে। কিন্তু রাজবাড়িতে চুরি করা—সে কি আর চাট্টিখানি কথা? পাহারাওয়ালাগুলো সারারাত জেগে জেগে পাহারা দেয়। একটু পায়ের শব্দ কি খচর মচর শুনলে আর কি রক্ষা আছে! অমনি বাজখাই গলায় হেকে ওঠে—কৌন হ্যায় রে? ওরে বাপরে বাপ, সে কি গাল, শুনলে পরে পেটের পিলে চমকে ওঠে।
আচ্ছা, এমন করলে চুরি করা যায়? চোর এদিকে যায়, ওদিকে যায়, উঁকি মেরে দেখে, উঁহুঃ, কোথাও একটু ফাঁক নেই। ভীমের মতো পালোয়ান সব লাঠি বাগিয়ে বসে আছে। একটু টের পেলেই পিটিয়ে ময়দা বানিয়ে ছাড়বে। নাঃ, এখানে চুরি করা যাবে না। চোর মনের দুঃখে রাজবাড়ি থেকে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে এলো।
রাজবাড়ী থেকে নেমে চোর কিপ্পিন বুড়োর বাড়িতে এসে উঠল। সবাই জানে কিপ্পিন বুড়োর অনেক টাকা। বুড়ো রাত দিন এক কাড়ি টাকা আগলে বসে থাকে। নিজেও খাবে না, কাউকে খেতেও দেবে না। টাকা দিয়ে ওর কোন লাভ? চোর মনে মনে ভাবে, এ থেকে এক মুঠো টাকা পেলে বেঁচে যাই। যা থাকে কপালে, বলে চুপি চুপি ঘরের পেছন গিয়ে দাঁড়াল সে।
কিন্তু চোর কি জানত যে, বুড়ো সারা রাত্রি ঘুমোয় না। কাঁঠাল গাছটার তলায় শুকনো পাতা জড়ো হয়ে আছে, পা পড়তেই মচ মচ করে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে বুড়ো চেঁচিয়ে উঠল: অ গিন্নি, গিন্নি, ওঠ, ওঠ, চোর এসেছে, চোর।
চোর চমকে উঠল, সর্বনাশ, এত রাত্তিরে বুড়ো এখনও জেগে আছে! ডাকাডাকিতে জেগে উঠে বুড়ী রাগ করে উঠল, ভালো রে ভালো, কি বিপদেই পড়া গেছে। তোমার জ্বালায় একটু ঘুমোনোও যাবে না। ব্যস এই পর্যন্তই, আর কোনো সাড়া শব্দ নেই। চোর বুঝল বুড়ী পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়েছে কিন্তু বুড়ো তো ঘুমোয় নি। এ অবস্থায় জেনেশুনে সিঁধ কেটে ঘরে ঢোকাটা কি ভালো হবে? চোরদের তো এ নিয়ম নয়। এর নাম ডাকাতি। সে চোর হয়ে ডাকাতি করতে যাবে কেন? এই সব নিয়ে সাত-পাঁচ ভাবছে, এমন সময় তার মুখের সামনে একটা দরজা খুলে গেল। ঘরের পেছন দিকে যে একটা দরজা আছে, চোরের তো তা জানা ছিল না।
দরজা খুলে বুড়ো ডেকে উঠল—এই ব্যাটা, দেখতে পেয়েছি। এ্যাঁ, আমার ঘরে চুরি করতে এসেছিস! দাঁড়া, দেখাচ্ছি মজা।
ও বাব্বা, এ অবস্থায় চোর যদি সত্যিকারের চোর হয়, সে কি কখনও দাঁড়িয়ে থাকতে পারে? কক্ষনো না। চোর আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না।
সব জিনিসেরই একটা নিয়ম আছে। রাত্রির সৃষ্টি হয়েছে কেন? ঘুমোবার জন্য আর চোরেরা যাতে চুরি করতে পারে সেই জন্য। একথা তো সবাই জানে। কিন্তু মানুষ যদি এমন করে উল্টা-পাল্টা কাজ করে, ঘুমোবার সময় না ঘুমিয়ে জেগে বসে থাকে, তা হলে চোরেরা কি করে চুরি করবে? ব্যাটারা কি তবে না খেয়ে মরবে?
এই সব কথা ভাবতে ভাবতে চোর বজরঙ্গ সিং-এর বাড়িতে গিয়ে উঠল। বজরঙ্গ সিং কারবার করে অনেক পয়সা ঘরে আনে। কিছু কি আর মিলবে না? কিন্তু তার বাড়ির সীমানায় যেই না পা দিয়েছে, অমনি ওরে বাবা, বিরাট এক ডালকুত্তা সাঁ সাঁ করে তেড়ে এলো। দূর থেকে দেখা গেল ওর চোখ দুটো জ্বলছে। এক বার ধরতে পারলে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলবে। ছুট্ ছুট্ ছুট্, চোর এমন ছুট জীবনে আর কখনও দেয় নি। উঃ, একটুকুর জন্য বড় বেঁচে গিয়েছে।
হায়, হায়, রাত-যে আর বেশী নেই। সারা রাত ভর মেহনতের পর শেষে কি খালি হাতেই ঘরে ফিরে যেতে হবে? এখন আর সিঁধ কেটে ঘরে ঢোকবার সময় নেই। তবে সে কি করবে? এক্কেবারে খালি হাতে যে চোর
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
সত্যেন সেন
বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামের এক বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী পরিবারে ১৯০৭ সালে সত্যেন সেনের জন্ম। অল্প বয়সেই তিনি অসহযোগ আন্দোলনে ও পরে সন্ত্রাসবাদী দলে যোগ দেন। ছাত্রজীবন শেষ হতে না হতেই তাঁর জেল-জীবনের শুরু। ১৯৩১ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজবন্দী হিসেবে বিভিন্ন জেলে আটক থাকেন। জেলে বসেই তিনি এম.এ পরীক্ষায় উর্ত্তীণ এবং
আরও দেখুন...-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments