চোর

চোর গেল রাজবাড়িতে চুরি করতে। কিন্তু রাজবাড়িতে চুরি করা—সে কি আর চাট্টিখানি কথা? পাহারাওয়ালাগুলো সারারাত জেগে জেগে পাহারা দেয়। একটু পায়ের শব্দ কি খচর মচর শুনলে আর কি রক্ষা আছে! অমনি বাজখাই গলায় হেকে ওঠে—কৌন হ্যায় রে? ওরে বাপরে বাপ, সে কি গাল, শুনলে পরে পেটের পিলে চমকে ওঠে।

আচ্ছা, এমন করলে চুরি করা যায়? চোর এদিকে যায়, ওদিকে যায়, উঁকি মেরে দেখে, উঁহুঃ, কোথাও একটু ফাঁক নেই। ভীমের মতো পালোয়ান সব লাঠি বাগিয়ে বসে আছে। একটু টের পেলেই পিটিয়ে ময়দা বানিয়ে ছাড়বে। নাঃ, এখানে চুরি করা যাবে না। চোর মনের দুঃখে রাজবাড়ি থেকে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে এলো।

রাজবাড়ী থেকে নেমে চোর কিপ্পিন বুড়োর বাড়িতে এসে উঠল। সবাই জানে কিপ্পিন বুড়োর অনেক টাকা। বুড়ো রাত দিন এক কাড়ি টাকা আগলে বসে থাকে। নিজেও খাবে না, কাউকে খেতেও দেবে না। টাকা দিয়ে ওর কোন লাভ? চোর মনে মনে ভাবে, এ থেকে এক মুঠো টাকা পেলে বেঁচে যাই। যা থাকে কপালে, বলে চুপি চুপি ঘরের পেছন গিয়ে দাঁড়াল সে।

কিন্তু চোর কি জানত যে, বুড়ো সারা রাত্রি ঘুমোয় না। কাঁঠাল গাছটার তলায় শুকনো পাতা জড়ো হয়ে আছে, পা পড়তেই মচ মচ করে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে বুড়ো চেঁচিয়ে উঠল: অ গিন্নি, গিন্নি, ওঠ, ওঠ, চোর এসেছে, চোর।

চোর চমকে উঠল, সর্বনাশ, এত রাত্তিরে বুড়ো এখনও জেগে আছে! ডাকাডাকিতে জেগে উঠে বুড়ী রাগ করে উঠল, ভালো রে ভালো, কি বিপদেই পড়া গেছে। তোমার জ্বালায় একটু ঘুমোনোও যাবে না। ব্যস এই পর্যন্তই, আর কোনো সাড়া শব্দ নেই। চোর বুঝল বুড়ী পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়েছে কিন্তু বুড়ো তো ঘুমোয় নি। এ অবস্থায় জেনেশুনে সিঁধ কেটে ঘরে ঢোকাটা কি ভালো হবে? চোরদের তো এ নিয়ম নয়। এর নাম ডাকাতি। সে চোর হয়ে ডাকাতি করতে যাবে কেন? এই সব নিয়ে সাত-পাঁচ ভাবছে, এমন সময় তার মুখের সামনে একটা দরজা খুলে গেল। ঘরের পেছন দিকে যে একটা দরজা আছে, চোরের তো তা জানা ছিল না।

দরজা খুলে বুড়ো ডেকে উঠল—এই ব্যাটা, দেখতে পেয়েছি। এ্যাঁ, আমার ঘরে চুরি করতে এসেছিস! দাঁড়া, দেখাচ্ছি মজা।

ও বাব্বা, এ অবস্থায় চোর যদি সত্যিকারের চোর হয়, সে কি কখনও দাঁড়িয়ে থাকতে পারে? কক্ষনো না। চোর আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না।

সব জিনিসেরই একটা নিয়ম আছে। রাত্রির সৃষ্টি হয়েছে কেন? ঘুমোবার জন্য আর চোরেরা যাতে চুরি করতে পারে সেই জন্য। একথা তো সবাই জানে। কিন্তু মানুষ যদি এমন করে উল্টা-পাল্টা কাজ করে, ঘুমোবার সময় না ঘুমিয়ে জেগে বসে থাকে, তা হলে চোরেরা কি করে চুরি করবে? ব্যাটারা কি তবে না খেয়ে মরবে?

এই সব কথা ভাবতে ভাবতে চোর বজরঙ্গ সিং-এর বাড়িতে গিয়ে উঠল। বজরঙ্গ সিং কারবার করে অনেক পয়সা ঘরে আনে। কিছু কি আর মিলবে না? কিন্তু তার বাড়ির সীমানায় যেই না পা দিয়েছে, অমনি ওরে বাবা, বিরাট এক ডালকুত্তা সাঁ সাঁ করে তেড়ে এলো। দূর থেকে দেখা গেল ওর চোখ দুটো জ্বলছে। এক বার ধরতে পারলে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলবে। ছুট্ ছুট্ ছুট্, চোর এমন ছুট জীবনে আর কখনও দেয় নি। উঃ, একটুকুর জন্য বড় বেঁচে গিয়েছে।

হায়, হায়, রাত-যে আর বেশী নেই। সারা রাত ভর মেহনতের পর শেষে কি খালি হাতেই ঘরে ফিরে যেতে হবে? এখন আর সিঁধ কেটে ঘরে ঢোকবার সময় নেই। তবে সে কি করবে? এক্কেবারে খালি হাতে যে চোর

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice