এলেক্সি টলস্টয় ও তাঁর অগ্নিপরীক্ষা
‘আনা কারেনিনা,’ ‘রিসারেকসান’ এবং ‘যুদ্ধ ও শান্তি’ উপন্যাসের রচয়িতা লিও টলস্টয়ের জীবনসূর্য যখন অস্তমিত-প্রায় তখন ‘অগ্নিপরীক্ষা’ উপন্যাসের রচয়িতা এলেক্সি টলস্টয়ের জীবন সূর্যের উদয়। একজনের শিল্পরূপ সাধনার যখন সমাপ্তি, তখন আরেক জনের সাধনার উপক্রমণিকা। লিও টলস্টয়ের মৃত্যু ১৯১০ সালে। এলেক্সি টলস্টয়ের জন্ম ১৮৮৩ সালের ১০ই জানুয়ারী। মৃত্যু ১৯৪৫ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী।
লিও টলস্টয় উনিশ শতকের, এলেক্সি টলস্টয় বিশ শতকের। “আনা কারেনিনা—রিসারেকসান—যুদ্ধ ও শান্তি'র লিও টলস্টয় উনিশ শতকের রুশ মহাজাগরণের মহাকাব্যিক উপন্যাসের শিল্পরূপকার।
‘অগ্নিপরীক্ষা'র এলেক্সি টলস্টয় বিশ শতকের রুশ মহাবিপ্লবের মহা- কাব্যিক উপন্যাসের শিল্পরূপকার।
লিও টলস্টয়ের ‘যুদ্ধ ও শান্তি’ উপন্যাসের ঘটনাকাল উনিশ শতকের প্রথম ও দ্বিতীয় দশক। নেপোলিয়নের মস্কো অধিকার এবং মস্কো ত্যাগে বাধ্য হওয়া এবং নেপোলিয়নের পরাজয়ের বিস্তারিত ঘটনা এবং যে তদানীন্তন রাশিয়াতে এই ঘটনাগুলি ঘটেছিল—তার মানবমানবী চরিত কথাই ‘যুদ্ধ ও শান্তি’ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়। রক্তাক্ত যুদ্ধ, স্বাধীনতা, শান্তি, প্রেম, মানবতা, দেশপ্রেম ও উদারতা নিয়ে নতুন মূল্যবোধ জাগানোর কাহিনী।
এলেক্সি টলস্টয়ের ‘অগ্নিপরীক্ষা' উপন্যাসের ঘটনাকাল বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকের দ্বিতীয়ার্ধ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, রুশ ফেব্রুয়ারী ও অক্টোবর বিপ্লব, যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ এবং অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের চূড়ান্ত বিজয়ের পটভূমিতে মানব মানবী কাহিনী এই উপন্যাসের উপজীব্য। জাগানো হয়েছে সাম্যবাদী কমিউনিস্ট মূল্যবোধ।
লিও টলস্টয় ‘যুদ্ধ ও শান্তি' উপন্যাসে যাদের নিয়ে লিখেছেন তাদের অনেকেরই দেখা তিনি তাঁর যৌবনে পেয়েছেন, তবে ঘটনাটি তাঁর জন্মের আগেকার ঘটনা।
এলেক্সি টলস্টয়—অগ্নিপরীক্ষা উপন্যাসে যাদের নিয়ে লিখেছেন তারা তাঁর যৌবনের সমসাময়িক, ঘটনাও তাই।
লিও টলস্টয়ের ‘যুদ্ধ ও শান্তি’কে ইতিহাসের দলিল ঘাঁটতে হয়েছে। দলিল থেকে বেছে নিতে হয়েছে শিল্পরূপ বক্তব্যের জন্য মালমসলা।
এলেক্সি টলস্টয়ের ‘অগ্নিপরীক্ষা'কে সমসাময়িক জীবনের সঙ্গে পাল্লা দিতে হয়েছে। জীবন থেকে বেছে দিতে হয়েছে শিল্পরূপ বক্তব্যের মালমসলা। দুটো কাজই কঠিন সন্দেহ নেই। দু'টি উপাখ্যানই প্রায় দেড় হাজার পৃষ্ঠার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবু দু'টি উপন্যাস পড়েই মনে হয়, বড় বেশি সংযত। দু'জনেই বড় শিল্পী, তাই বড় নির্বাচক। এখান থেকে সূত্র নিয়ে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ উপন্যাসটি সম্বন্ধে এবং তার শিল্পরূপকার এলেক্সি টলস্টয় সম্বন্ধে আমাদের আলোচনার সূত্রপাত করা যাক।
উপন্যাসটির তিনখণ্ড। প্রথম—দুই বোন, দ্বিতীয়—১৯১৮, তৃতীয়—বিবর্ণ সকাল ৷
প্রথম খণ্ডের কথা। রাশিয়ার জার সাম্রাজ্য যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কাইজারের জার্মানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হলো, তার পূর্বাহ্নে রাজধানী পেট্রোগ্রাদে রুশ বুদ্ধিজীবী যুবক যুবতীদের একটা অংশ যে অবক্ষয়ী জীবন-যাপনে লিপ্ত, তার ছবি নিয়ে উপন্যাস আরম্ভ হয়েছে।
তাঁর ইতিবৃত্তের কেন্দ্র হিসেবে লেখক বিশেষ করে বেছে নিয়েছেন দু'টি বোনকে। তারা এক বুর্জোয়া ডাক্তারের কন্যা।
দাশা আর কাতিয়া। দাশা ছাত্রী, কাতিয়া এক উকীলের স্ত্রী। দাশার বয়স ১৯, কাতিয়ার ২৪। জগদ্দল পাথরের মতো বিলাসী অভিজাত পেট্রোগ্রাদের চেহারা। স্বৈরাচারী শাসন চেপে বসে আছে উপর থেকে। মধ্য স্তরে ক্ষোভ, হতাশ্বাস এবং ভোগবাদী জীবন। এর মধ্যেই কিছু কবিতা। একেবারে নীচতলার কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষের বিস্ফোরণের সামান্য প্রকাশ।
দাশা এক ইঞ্জিনিয়ারের প্রেমে পড়লো। নাম তেলেগিন। একই সঙ্গে সে আকৃষ্ট আধুনিক কবি বেসোনোভের প্রতি। প্রথম আকর্ষণটি ভাববাদী।
দ্বিতীয় আকর্ষণটি ভোগবাদী।
এই দ্বৈত আকর্ষণটিকে এলেক্সি টলস্টয় অবচেতন মনের কাজ বলে বর্ণনা করেছেন। বস্তুতঃপক্ষে অবচেতন মনের কাজ সোভিয়েত উপন্যাসে দাশার জীবনেই সম্ভবতঃ সবচেয়ে বেশি অভিব্যক্ত।
কাতিয়া বলতে গেলে এক সুন্দরী ভাবপ্রবণা যুবতী হিসেবে স্বাভাবিক ভাবেই এক আকর্ষণীয় যুবা পুরুষের জন্য উন্মুখ হয়ে রয়েছে।
উদারপন্থী স্বামী ভাল মানুষ গোছের হলেও কাতিয়াকে সুখী করতে পারেনি।
স্বামীকে ছেড়ে কাতিয়া ফ্রান্সে চলে গেল।
দু'টি বোনেরই মন দ্বন্দ্বাত্মক অবস্থায় ছিল।
১৯১৪ সালের আগস্ট মাসে যুদ্ধ এসে স্থাবর মহলগুলিতে এনে দিল ওলটপালট। তেলেগিন যুদ্ধে বন্দী হলো। বন্দীশিবির থেকে পালালো। উপন্যাসের
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments