বানপ্রস্থে দ্রোণাচার্য যতীন সরকার
[অধ্যাপক যতীন সরকারের ৯০তম জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য:১৮ আগস্ট ২০২৫, অধ্যাপক যতীন সরকারের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। কিন্তু তিনি তাঁর জন্মদিনের ৫ দিন আগেই, ১৩ আগস্ট বিকাল ২.৪৫ মিনিটে ময়মনসিংহ মেডিকেলকলেজ হাসপাতালে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর এ বয়সেও শরীর-স্বাস্থ্য ভালোই ছিল এবং তিনি তাঁর নিজস্ব ভূবন অর্থাৎ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক জগতে মোটামুটি সক্রিয় ছিলেন। মোট কিন্তু প্রায় আড়াই মাস আগে তিনি আলমারি থেকে বই নামাতে গিয়ে পড়ে গুরুতরভাবে আহত হন এবং তাঁর উরুর হাড় ভেঙে যায়। দ্রুতই ঢাকার পান্থপথে হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অর্থোপেডিক সার্জনের মাধ্যমে অপারেশন করে ভেঙে যাওয়া হাড় প্রতিস্থাপন করা হয়। অপারেশনের পর তিনি মোটামটি সুস্থ হয়ে উঠেন এবং হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ময়মনসিংহে, তাঁর কন্যা ময়মনসিংহের সহকারী জেলা জজ সুদীপ্তা সরকারের বাসায়। কিন্তু সেখানে অবস্থানকালে ধীরে ধীরে তিনি কিডনি-বৈকল্যে আক্রান্ত হন। তাঁকে দ্রুতই আবার ঢাকায় পূর্বোক্ত হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয় এবং ডায়ালাইসিস সেবা প্রদান করা হয়। এভাবে মাসাধিক কাল তাঁকে ডায়ালাইসিস দেওয়া হলেও তাঁর কিডনি আর কার্যক্ষমতা ফিরে পায়নি এবং তিনি নানা ধরনের জটিলতায় আক্রান্ত হন। এ পর্যায়ে তাঁর একমাত্র পুত্র, স্লোভাকিয়া-প্রবাসী সুমন সরকারও দেশে এসে তাঁর চিকিৎসায় সহায়তা করেন এবং নানাদিক বিবেচনা করে গত ৭ আগস্ট তারিখে তাঁকে ময়মনসিংহ ফিরিয়ে নিয়ে সেখানকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অধ্যাপক যতীন সরকার ভর্তি তাঁর মৃত্যুর সময়টিতে সেখানেই বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
অধ্যাপক যতীন সরকারের মৃত্যুতে সারা দেশে ছড়িয়ে তাঁর অসংখ্য ছাত্র, ভাবশিষ্য ও অনুরাগী—সবাই শোকাহত হয়েছেন। তাঁদের সবাইকে সমবেদনা জানিয়ে আমার একটি পুরনো কিন্তু অপ্রকাশিত নিবন্ধ এখানে প্রকাশ করছি, যা থেকে অধ্যাপক যতীন সরকারের ব্যক্তিজীবনের নানা ঘটনা সম্পর্কে পাঠককূল অবহিত হতে পারবেন। সবার জন্য শুভকামনা।]
অধ্যাপক যতীন সরকারবাংলাদেশের সবার কাছেই পরিচিত একদিকে মনস্বী লেখক, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক হিসেবে; অন্যদিকে আবার একজন সমাজ সচেতন, প্রগতিশীল মুক্তমনের মানুষ হিসেবে। তবে তিনি তাঁর এ পরিচিতি গড়ে উঠার আগে থেকেই তিনি আমার একজন একান্ত কাছের মানুষ—তিনি আমার পিতার অনুজ এবং মর্মসঙ্গী, আমার প্রিয় ‘শান্তি কাকু’। ছোটবেলা থেকেই আমি তাঁকে তাঁর পোষাকী নাম নয়, বরং তাঁকে তাঁর ডাকনাম ‘শান্তি’ নামেই চিনি। তাঁর গ্রামের বাড়ি চন্দপাড়া আমার গ্রাম সিংহেরগাঁওয়ের থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে। তবে শুধু এই ভৌগলিক কারণটুকুই নয়, বরং কিশোর বয়স থেকে তাঁর সাহিত্য তৃষ্ণা আমার পরিবারের সঙ্গে এক নৈকট্যের জন্ম দেয়—আমার পিতা ও পিতামহের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন আত্মার আত্মীয়। আমার পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং আমার শৈশব-কৈশোর থেকে তাঁকে যেমন দেখে এসেছি, তারই কিছুটা স্মৃতিচারণ আমার এ লেখাটি।
আমার পিতামহ জালালউদ্দিন খাঁ ছিলেন মরমী সাধক কবি—ভাটি অঞ্চল বলে পরিচিত পূর্ববঙ্গে গত শতকের মধ্যভাগে যাকে প্রায় সবাই চিনতেন। আমার আব্বা খান মোহাম্মদ আবদুল হাকিম ছিলেন একজন আধুনিক কবি, যিনি গত শতকের চল্লিশ, পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে সৃষ্টিশীল ছিলেন। তাঁরা দুজনেই কখনও শহরমুখী হননি; আজীবন গ্রামে বাস করেই তাঁরা তাঁদের সাহিত্যচর্চা চালিয়ে গেছেন। আমার আব্বা আমৃত্যু ইউনিয়ন কাউন্সিল চেয়ারম্যানের মতো এক ‘অকবিসুলভ’ দায়িত্ব পালন করে গেছেন। তবু অনিয়মিতভাবে হলেও তিনি কবিতা লিখেছেন গত শতকের মধ্যভাগে ঢাকা প্রকাশিত থেকে মাহেনও, মোহাম্মদী, সওগাত, দিলরুবা, সৈনিক, দ্যুতি এবং নেত্রকোণা থেকে প্রকাশিত উত্তর আকাশ, সৃজনী ইত্যাদি সাময়িকীগুলোতে। তাঁর একমাত্র প্রকাশিত গ্রন্থ, নীলকপোত নামের কাব্যগীতি সংকলনটি বের হয়েছিল পাকিস্তানের জন্মের বছর , অর্থাৎ ১৯৪৭ সালে। তাঁর এ সাহিত্যচর্চার সূত্র ধরেই আমাদের পাশের গ্রামের ‘শান্তিকাকু;
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments