সশস্ত্র বিদ্রোহের পথে

১৮২৬ সালের ১৭ই জানুয়ারী। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই দিনটি অবিস্মরণীয়। অবিস্মরণীয় বটে, কিন্তু স্মরণ করা যাক এই দিবসটির ইতিহাস ও তাৎপর্য আমাদের কজনেরই বা জানা আছে। আমাদের দেশের ঐতিহাসিকদের মধ্যে অধিকাংশের অজ্ঞতা, অবহেলা বা একদেশ দর্শিতার বশে এই দিবসটি বিস্মৃতির তলায় চাপা পরে গিয়াছে। আমাদের দেশের শিক্ষিত সমাজ, এমনকি রাজনীতিবিদ ও স্বাধীনতা সংগ্রামীরা পর্যন্ত এই দিবসটির তাৎপর্য সম্পর্কে উদাসীন। অথচ এই সময় থেকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা, এই তারিখেই যুক্ত প্রদেশের (বর্তমান উত্তর প্রদেশ) রায়বেরেলির সৈয়দ আহমদ তার দীর্ঘস্থায়ী ব্রিটিশ বিরোধী জেহাদ শুরু করেছিলেন।

এই ব্রিটিশ বিরোধী জেহাদ অর্থাৎ স্বাধীনতা সংগ্রাম একমাত্র মুসলমানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তার দুটো কারণ আছে। প্রথম কথা, ব্রিটিশ কর্তৃক ভারত অধিকারের ফলে মুসলমানদের মনে যে গভীর আঘাত ও মর্মবেদনার সৃষ্টি হয়েছিল হিন্দুদের মনে ঠিক সেইরকম প্রতিক্রিয়া ঘটেনি। এতকাল প্রধানত মুসলমানেরাই সরকারী উচ্চপদে প্রতিষ্ঠিত হবার সুযোগ সুবিধা লাভ করে আসছিল। ব্রিটিশ সরকার সেই প্রচলিত ব্যবস্থাকে এক কথায় নাকচ করে দিয়ে হিন্দু সমাজের দিকে অনুগ্রহের হাত প্রসারিত করে দিলেন। হিন্দুদের মধ্যে একটি শ্রেণী একান্ত আনুগত্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই সুুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক নতুন পর্যায়ে উন্নীত হয়ে চলল। সেই আনুগত্য ও রাজভক্তির যুগে ব্রিটিশের বিরোধিতা বা স্বাধীনতার আকাঙ্খা তাদের মনে তেমন কোন সাড়া জাগাতে পারেনি।

দ্বিতীয় কথা, সৈয়দ আহমদের এই ব্রিটিশ বিরোধী জেহাদ মূলত স্বাধীনতা সংগ্রাম হলেও তা ইসলামের ধর্মীয় বিধানের আবরণে এমনভাবে ঘেরাও করা ছিল যে হিন্দুদের মধ্যে কারো ইচ্ছা থাকলেও তাদের পক্ষে সে সংগ্রামে যোগদানের সুযোগ ছিল না। ফলে এই সংগ্রামে যারা অংশগ্রহণ করেছিল, তারা সবাই মুসলমান। কিন্তু কেবলমাত্র এই কারণেই এই সংগ্রাম স্বাধীনতা সংগ্রাম নয় বলে কেউ যদি আপত্তি তোলেন, তবে এই যুক্তিকে কোনমতেই গ্রাহ্য করা যায় না। একমাত্র হিন্দুদের সংগ্রামের ফলে স্বাধীনতা লাভ যদি সম্ভবপর হতো, তাহলে আমরা বিনা দ্বিধায় তাকেও স্বাধীনতা সংগ্রাম আখ্যাই দিতাম।

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ হিন্দু মুসলমানের মিলিত সংগ্রাম হলেও এ বিষয়ে সবাই একমত যে এই বিদ্রোহে মুসলমানেরাই প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। ফলে বিদ্রোহ যখন ভেঙ্গে পড়ল, তখন মুসলমানদের উপর ব্রিটিশ সরকারের আক্রমন নগ্নমূর্তিতে নেমে এল। অপরপক্ষে মুসলমানরাও পাশ্চাত্য শক্তির প্রতি বিরুদ্ধতার বশে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে বর্জন করে নিজেদের ভবিষৎ অগ্রগতির বিরুদ্ধে এক দুর্লঙ্ঘ বাঁধার সৃষ্টি করে তুলেছিল। এযুগে মুসলিম বিদ্বেষ ও হিন্দুদের তোষণই ছিল ব্রিটিশ রাজনীতির মূল কথা।

কিন্তু পরবর্তীকালে নূতন পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ রাজনীতির চাকা সম্পূর্ণভাবে ঘুরে গেল। বিশ শতকের শেষভাগে পাশ্চাত্য জগতের আধুনিক শিক্ষা ও সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে হিন্দুদের মধ্যে যে অভূতপূর্ব জাগরণ দেখা দিল, তার ফলে তারা যে শুধু শিক্ষায়দীক্ষায় উন্নতি লাভ করল তা নয়, তার প্রভাব রাজনীতির ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ল। অবশ্য স্বাধীনতার স্বপ্ন তখনও বহুদূরে, তাহলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তারা ক্রমশই সচেতন হয়ে উঠছিল। দেশ বিদেশে শাসন ও শোষণের অভিজ্ঞতায় পরিপক্ক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে আসন্ন দুর্যোগের পূর্বাভাস চিনে নিতে একটুও দেরি হয়নি। সঙ্গে সঙ্গেই ব্রিটিশ রাজনীতির মোড় ঘুরে গেল, তার মূল কথা দাঁড়াল হিন্দু বিদ্বেষ ও মুসলিম তোষণ। ঝানু ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ভারত শাসনের প্রথম থেকে শেষদিন পর্যন্ত তার ‘ডিভাইড এণ্ড রুল’ নীতির সাহায্য এই দুই সম্প্রদায়কে দিয়ে বাঁদর নাচ নাচানোর খেলাটা অত্যন্ত দক্ষতা ও সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করে এসেছে।

লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বঙ্গবঙ্গের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন। তার ফলে সারা বাংলাদেশে এক যুগান্তর ঘটে গেল। এই ঝবঃঃষবফ ভধপঃ কে টহংবঃঃষব করার জন্য নেমে এল তীব্র প্রতিরোধ। বাংলার কংগ্রেস আবেদন-নিবেদনের পথ পরিত্যাগ করে

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice