গল্পলেখক ও অশ্লীলতা

যে-কোন নগণ্য বস্তু সমস্যার কারণ হতে পারে। মশারির অভ্যন্তরে একটি মশা অনুসন্ধান করে টিপে মারা আবার অন্যান্য মশার প্রবেশ রুদ্ধ করাও অনেক সময় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বের প্রথম মানব যখন ক্ষুধা অনুভব করলেন তখন থেকে সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। ক্ষুধাই হচ্ছে সব সমস্যার মূল ভিত্তি। বিশ্বের প্রথম মানব যখন প্রথম মহিলার দেখা পেলেন তখন দ্বিতীয় সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই দুটি সমস্যা আপনারা জানেন দুটি ভিন্ন ধরনের ক্ষুধার ফলে সৃষ্ট। কিন্তু এদের মাঝে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তাই বর্তমানে যতগুলি সামাজিক, রাজনৈতিক ও যুদ্ধ-সমস্য। রয়েছে সবকিছুর পেছনে উপরোক্ত দুটি ক্ষুধার সংযোগ পরিলক্ষিত হয়।

বর্তমান যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পেছনে হাজার হাজার নিহত মানুষের লাশের স্তূপের মাঝে আমরা সাম্রাজ্যবিস্তারের প্রবল ক্ষুধাই দেখতে পাই।

ক্ষুধা যে-কোন ধরনের হোক না কেন, অত্যন্ত মারাত্মক। স্বাধীনতাকামী মানুষকে যদি শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখা হয় তাহলে বিপ্লব অবশ্যম্ভাবী।

একখণ্ড রুটির ভূখাকে যদি অনবরত অনাহারে রাখা হয় তাহলে অনন্যোপায় হয়ে সে অপরের মুখের গ্রাস কেড়ে নেবে। পুরুষকে যদি নারী দর্শন থেকে বিরত রাখা হয় তখন সম্ভবত সে সমগোত্রের পুরুষ অথবা পশুর মাঝে নারীর প্রতিচ্ছবি দেখার ব্যর্থ চেষ্টা করবে।

বিশ্বের সব দুর্গতি ও দুর্ভোগের মূল কারণ ক্ষুধা। ক্ষুধা মানুষকে ভিক্ষা করতে বাধ্য করে, অপরাধের দিকে ধাবিত করে। ক্ষুধা চরমপন্থী হওয়ার শিক্ষা দেয়। ক্ষুধা নারীকে সতীত্ব বিক্রী করতে বাধ্য করে। ক্ষুধার জ্বালা ভীষণ জ্বালা। এর আঘাত অত্যন্ত মারাত্মক। ক্ষুধা মানুষকে পাগল করে তোলে, কিন্তু পাগলামো ক্ষুধার সৃষ্টি করে না।

পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের লেখক হন, তিনি প্রগতিবাদী বা গোঁড়া, বৃদ্ধ বা যুবক, তাঁর সম্মুখে বহু সমস্যা থাকে। বিষয়বস্তু নির্বাচন করে তিনি বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে লিখে থাকেন, কখনও কারও দাবির পক্ষে কখনও কারও বিরুদ্ধে।

আজকের সাহিত্যিকের সাথে নীতিগতভাবে পাঁচ শত বছর পূর্বের সাহিত্যিকের তেমন বিশেষ পার্থক্য নেই। প্রত্যেক জিনিসের উপর কালের গতিতে পুরাতনের উপর নয়া লেবেল লাগানো হয়। তা অবশ্য মানুষ লাগান না, যুগই তা সমাধা করে। আমাদের আজ তরুণ লেখক বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। আগামীতে আমাদেরকে পুরাতনের লেবেল এঁটে আলমারীতে বন্ধ করা হবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমাদের বেঁচে থাকা মূল্যহীন এবং আমরা অযথা শক্তি ক্ষয় করেছি। ঘড়ির কাঁটা যখন বারো থেকে দুই-এর দিকে এগিয়ে যায় তখন অন্যান্য অক্ষর বেকার হয়ে পড়ে না। সমগ্র চক্রাকার ঘুরে ঘড়ির কাঁটা আবার ঐ এক-এর স্বানে ফিরে আসে। এটাই ঘড়ির নিয়ম আর পৃথিবীর রীতিও তাই।

আজকের নতুন সমস্যা অতীতের পুরাতন সমস্যার মধ্যে মূলত বিশেষ তারতম্য নেই। আজকের দুষ্কর্মের বীজ হয়তো অতীতেই বপন করা হয়েছে। যৌন-সমস্যা যেমন আধুনিক লেখকের সম্মুখে রয়েছে তেমনি অতীতেও প্রাচীন লেখকদের কাছে একই সমস্যা বিদ্যমান ছিল। অতীতে লেখকরা প্রাচীন রীতিতে এই সমস্যাকে তুলে ধরেছেন, আমরা একে নিজস্ব ঢং-এ লিপিবদ্ধ করছি।

আমি জানি না আমাকে কেন বার বার যৌন সমস্যা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। কারণ লোকেরা আমাকে প্রগতিবাদী লেখক নামে আখ্যায়িত করেছে, কারণ আমার কয়েকটি গল্প যৌন সমস্যা নিয়ে লিখিত। নতুবা কেন জানি না আজকের তরুণ লেখকদেরকে কিছুসংখ্যক লোক ‘যৌন বিকারগ্রস্থ’ বলে সাহিত্য, ধর্ম ও সমাজ থেকে কলমের খোঁচায় বহিষ্কার করতে চান। কারণ যাই হোক না কেন, আমি আমার দৃষ্টিভঙ্গী ও মনোভাব ব্যাখ্যা করছি। রুটী আর পেট, নারী ও পুরুষের সম্পর্ক সনাতন ও চিরস্থায়ী। রুটী ও পেটের মধ্যে কোনটি বেশী গুরুত্বপূর্ণ এবং নারী-পুরুষের মধ্যেকার প্রয়োজনীয়তা কার বেশী তা বলা মুশকিল। কারণ আমার ক্ষুধার্ত পেট রুটী চায়। কিন্তু পেটের ন্যায় গমও আমার পেটের জন্য লালায়িত কি না

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice