ও সন্তানসম্ভবা?: মানে, ছয় মা-আ-আ-স ছুটি!
‘দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে কাজে ফেরার ইচ্ছা হলো?’—এভাবেই মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে স্বাগত জানানো হলো অফিসে। মনে হচ্ছিল ছুটি নিয়ে যেন কোনো অপরাধ করে বসে আছি। অফিসে নিজেকে অনাকাঙ্ক্ষিতও মনে হচ্ছিল। ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে অফিসে আজই যোগ দিলাম। একদিকে বাসায় ফেলে আসা মেয়েটির কথা বারবার মনে হচ্ছে, যার বয়স মাত্র পাঁচ মাস হতে চলেছে। অন্যদিকে সহকর্মীদের নিতান্ত অপরিচিত মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে ছয় মাসে আমাদের মাঝে বেশ এক দূরত্ব তৈরি হয়ে গেছে। আর এ কয়েক মাসে থেকে আমি অনেকখানি পিছিয়ে পড়েছি। আগে ব্যাংকে আমি রেমিট্যান্স ডেস্কে কাজ করতাম, এখন আমার ডেস্ক আরেকজন দেখছেন। নিশ্চয়ই মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা কোনো অপরাধের মধ্যে পড়ে না। তবে আমাদের দেশে অনেকের আচরণে সে রকমটিই মনে হয়।
অফিসে, অন্যরা যখন থেকে জানতে পারল আমি সন্তানসম্ভবা, তখন থেকে আমার প্রতি আচরণে পরিবর্তন লক্ষ করলাম। আগে যেসব কাজ আমাকে দেওয়া হতো, সেগুলো আমাকে কম দেওয়া হতে থাকল, যেহেতু সামনে আমি লম্বা ছুটিতে যাব। বুঝলাম যে সে বছর আমার রিপোর্টও হয়তো খারাপ দেওয়া হবে, যদিও কাজ আমি আগের মতোই করছিলাম। প্রচলিত ধারণা থেকে মনে করা হলো আমি পূর্ণ সময় দিতে পারছি না ও ভবিষ্যতেও পারব না। প্রমোশনের ক্ষেত্রে যেটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। তবে ক্যারিয়ারের কথা ভাবতে গেলে সন্তান নেওয়া সম্ভব হতো না। তবু ছুটি যে পাচ্ছি, সেটি অনেক বড় বিষয়। এভাবেই নিজের দুঃখের কথা বলছিলেন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মী রিনা আক্তার।
মাতৃত্বকালীন ছুটি কোনো দয়া বা বিলাসিতা নয়, এটি একজন মা ও তাঁর নবজাতকের মৌলিক অধিকার। কর্মক্ষেত্রে একজন নারীর সন্তানসম্ভবা হওয়াকে ‘বোঝা’ হিসেবে দেখার সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সুস্থ আগামী প্রজন্ম গড়তে হলে কর্মক্ষেত্রে মায়েদের জন্য একটি সহযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
আমাদের দেশে নারীদের ক্যারিয়ারের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি বড় একটি বাধা। এজন্য নারীদের অনেক সময়ই সহকর্মীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হয়। এমনকি নারীদের চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সেটি বাধা হিসেবে কাজ করে। যদিও সেটি তাদের কোনো অপরাধ নয়।
অবশ্য অন্য রকম অভিজ্ঞতাও আছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি, ক্যারিয়ারে এর প্রভাব ও পরবর্তীকালে চাকরিতে যোগদান সম্পর্কে জানতে কথা হচ্ছিল গণস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মী আজকিয়াতুন জেনান মলি ও এসপি মারুফা নাজনীনের সঙ্গে।
আজকিয়াতুন জেনান মলি গণস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে আছেন। তিনি বলেন, নারীদের জন্য গর্ভকালীন ছুটি ছয় মাস খুবই কম সময়। অনেকে ছুটি আগে নিয়ে নিলে সন্তানের চার মাস বয়সের সময়ই চাকরিতে যোগদান করতে হয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে সন্তানকে খাওয়াতে যাওয়া বা সন্তানকে নিয়ে অফিসে আসা খুব কম জায়গাই উৎসাহিত করা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে আমি খুবই ভাগ্যবান। চাকরিক্ষেত্রে গর্ভকালীন সময় ও পরে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে সব সময়ই সহযোগিতা পেয়েছি। আমার বেশ কয়েকজন সহকর্মী গর্ভকালীন ছুটি শেষে কর্মক্ষেত্রে যোগদানের পর তাদের সন্তানকে সঙ্গে করে অফিসে নিয়ে এসেছেন। তবে চাকরি আসলে প্রতিযোগিতা। এখানে সবাই প্রতিযোগী। এই গর্ভকালীন ছুটির কারণে অনেক সময় নারীকে সেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হয়। সহকর্মীদের কাছ থেকে নানাভাবে হেয় হতে হয়। আমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। এ ধরনের মন্তব্য তো খুবই সাধারণ—‘আপনাদের তো মজা, ছয় মাস কোনো কাজ না করেই বেতন পাবেন।’ আমি সে সময় সন্তানসম্ভবা, সাত-আট মাস চলছে। তখন মনে হয়েছে যে আমি অফিসে থেকেও নেই। কারণ, ছুটির কথা ভেবে অনেক কাজের সঙ্গেই আমাকে জড়ানো হচ্ছে না। সেভাবে আমি অনুভব করছিলাম যে সহকর্মীদের থেকে আমি পিছিয়ে পড়েছি। আবার অনেক দিন পর ছুটি
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
৳৯৯
এক মাস
৳৩০
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments