‘কেন গণিত?’ কেন নয়?
লেখক: মীর মোশাররফ হোসেন
আমরা বরং ‘অংক’ নিয়ে কথা বলি। ছোটবেলায় গণিতকে আমরা বেশিরভাগ সময়ই ‘অংক’ বলতাম। আমরা কেন, বোধকরি সিংহভাগ শিক্ষার্থী এখনও একে এ নামেই চেনে। অথচ ‘অংক’ হচ্ছে ‘গণিত’ এর যুক্তি বোঝানোর প্রতীক। গণিত যদি ভাষা হয়, অংক তাহলে অক্ষর; গণিত যদি যুক্তি হয়, অংক তাহলে ‘টুলস’।
ছোট্ট এই পার্থক্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার দৈন্য। গণিতের ক্ষেত্রে যা ‘ভয়াবহতম’।
II ১ II
অন্য আলোচনায় ঢোকার আগে প্রথমে আমরা কিছু অনুষঙ্গ খুঁজি। এই যেমন গণিতে ‘ভালো’ হলে কি কি হয়? যেসব দেশের ছেলেমেয়েরা যুক্তিবাদী এবং অনুসন্ধিৎসু, সেসব দেশ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় বিজ্ঞান, বিশেষত গণিত শিক্ষায়। অধুনা ইউরোপ কিংবা আমেরিকা (ল্যাটিন এবং সেন্ট্রাল) নয়, গত শতকে এই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলো সোভিয়েত রাশিয়া। তার ফলশ্রুতিত, এককভাবে রাশিয়া ওই শতকে যতজন বিজ্ঞানীর জন্ম দিয়েছিলো, যত জীবনঘনিষ্ঠ প্রযুক্তির আবিষ্কার করেছিল, জীবনকে যতটুকু সহজ করতে পেরেছিলো, অন্য কোন দেশ তা পারেনি।
অবশ্য দেশটির স্নায়ুযুদ্ধকালীন প্রতিপক্ষও এ বিষয়ে খুব বেশিদিন পিছিয়ে ছিলো না, পিছিয়ে ছিলো না ইউরোপও।
এখন অবশ্য জাতীয়তাবাদী সব শক্তিই তাদের শিক্ষা ধারণায় গণিতপ্রীতির দিকে নজর দিয়েছে। ব্যতিক্রম বোধহয় আমরা। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলোও এই ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে যোজন যোজন দূর।
II ২ II
চলুন দেখি বাচ্চাদের গণিত শিক্ষা নিয়ে ‘আধুনিক গণিত অন্বেষা’ কি বলছে? তাদের ২০১২’র গণিতভীতি সংখ্যায় বলা হয়েছে—গণিতশিক্ষার উদ্দেশ্যগুলি নিম্নরূপ:
ক. গণিতে শিশুর জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা। যাতে শিশুর চিন্তাশক্তি ও যৌক্তিক ক্ষমতার বিকাশ ঘটে।
খ. গণিত শিশুকে কৌতূহলী ও অনুসন্ধিৎসু করে তোলা। যাতে তার গবেষণামূলক মনন তৈরি হয়। ভবিষ্যতে গাণিতিক সত্য অনুসন্ধানে উৎসাহী হতে পারে।
গ. দৈনন্দিন জীবনে ও পেশাগত প্রয়োজনে গণিতের ব্যবহারিক দিকে শিশুকে সক্ষম করে তোলা। যাতে সে গণিতের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে পারে।
গণিত একশ’ শতাংশ যুক্তিনির্ভর। যুক্তির পিঠে যুক্তি সাজিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে হয়। গণিতচর্চার সেই লক্ষ্য থেকে সরে আসলে গণিতের প্রতি ক্রমশ অনীহা আসবেই।
বিদ্যালয়ে যে গণিতচর্চা চলছে তার আমূল পরিবর্তন না করলে গণিতভীতি বাড়তেই থাকবে। আর খোঁজ চলবে গাণিতিক যুক্তি ব্যতিরেকে সহজ উপায়ে কী ভাবে ভালো নম্বর পাওয়া যায়। এমন অভিভাবক আছেন যারা, গণিতে শিক্ষার্থীর শুধুই বেশি নম্বর চান। শিক্ষার্থী কতটুকু গণিত বুঝছে, কতটুকু গণিত চিন্তা করতে শিখছে সে দিকে কোনও মাথাব্যাথা নেই।
আসল সত্য হল, সঠিক পথে গবেষণামূলক মনন তৈরির লক্ষ্যে গণিতচর্চা করা হলে গণিতে পিছিয়ে পড়া বা মাঝারি মানের শিক্ষার্থীরাও এগিয়ে আসবে। মনে রাখতে হবে গণিতে বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীরা নয়, গণিতের প্রতি অনুরাগী শিক্ষার্থীরাই গণিতে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা পায়।
II ৩ II
ওই একই পত্রিকা বলছে, গণিতভীতি শুরু হয় শিশুকাল থেকে। না হলে, সব শিশুই সুযোগ পেতো যুক্তিবাদী হয়ে ওঠার।
বাস্তবে গণিতের যে প্রয়োগ করা হয় তা সম্পূর্ণ রূপে সত্য নয়। প্রায় সত্যকে ‘সত্য বলে মেনে নেওয়া’ হয়। কেমন সেটা? যদি কাউকে বাজার থেকে এক কিলোগ্রাম ময়দা আনতে বলা হয়, দেখা যাবে, দাঁড়িপাল্লায় মাপা যে ময়দা আনা হয়েছে তা ইলেকট্রিক যন্ত্রে দেখাবে ১০০০.২ গ্রাম বা ৯৯৯.৯ গ্রাম হবে। অথচ তিনি আগেই মেনে নিয়েছেন ওটা হাজার গ্রাম এবং তার দামও মিটিয়ে ফেলেছেন হাজার গ্রামে।
তিনি যদি বলেন, তিনি বাজার থেকে ময়দা তুলাযন্ত্রের পরিবর্তে ওই ইলেকট্রিক যন্ত্রে মেপে আনবেন, তা হলেও সেই ময়দাকে পুরোপুরি হাজার গ্রাম বলে দাবি করা যায় না। কারণ, ওই ময়দা যদি ১০০০.০০০০০১ গ্রাম কিংবা ৯৯৯.৯৯৯৯৯ গ্রাম হয়, তা হলেও ওই যন্ত্র ওই ময়দাকে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
আকর্ষণীয় মূল্য
এক বছর
এক মাস
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে
সাবস্ক্রাইব করেছেন? আপনার একাউন্টে লগইন করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments