বুলগেরিয়া
দীর্ঘ সংগ্রামের পতাকাবাহী বুলগেরিয়ার শ্রমজীবী মানুষ ১৯৪৪ সালে রাষ্ট্রক্ষমতা অধিকার করে। ১১০,১০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই বলকান দেশটিতে ১ কোটির কাছাকাছি সংখ্যক মানুষ বসবাস করে।
সংগ্রামের প্রাচীনকাল
সুদূর অতীত থেকে বুলগেরিয়ার মানুষ বিদেশী আধিপত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এসেছে। বর্তমান বুলগেরিয়ানদের প্রাচীন পূর্বপুরুষ থেসিয়ানরা ছিল ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীর মানুষ। খ্রী.পূ. ৫ম শতকের মধ্যেই তাদের কয়েকটি শক্ত রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। সে সময়ে প্রতিনিয়তই গ্রীস, রোমসহ বিভিন্ন বিদেশী শক্তির সাথে তাদেরকে সংগ্রামে লিপ্ত হতে হয়। খ্রী.পূ. ২য় শতাব্দীতে তারা রোমানদের অধীনে চলে যেতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে রোম সাম্রাজ্য দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেলে বুলগেরিয়া পূর্ব রোম তথা বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের অধীনস্থ হয়। দাস সমাজের ধারক রোম সাম্রাজ্যের করতলগত থাকার সময়ে বুলগেরিয়ায় গোষ্ঠী জীবনের স্থলে দাস জীবনের প্রচলন হয়। পদানত জাতি হিসেবে সঙ্গত কারণেই ব্যাপক সংখ্যক বুলগেরিয় দাস গ্লানিকর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়। এই সময়ে হুন, গিতাল, জেপিডাল, এভারস প্রভৃতি আক্রমণকারী গোষ্ঠী দ্বারা আক্রান্ত হয়ে বুলগেরিয়বাসীর জীবনে আরও দুঃখের সূত্রপাত হয়েছিল।
খ্রিষ্টীয় ৭ম শতকে শ্লাভ বংশোদ্ভূত মানুষ দলে দলে এসে গোটা বলকান অঞ্চল প্লাবিত করে দেয়। বাইজানটান সাম্রাজ্যের শক্তিহীনতার এই সময়ে শ্লাভরা এসে দাসদের মুক্তি দিয়ে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করে। এক পর্যায়ে ৭টি বড় শ্লাভ গোষ্ঠী মিলে একটি বৃহৎ ইউনিয়ন গঠন করে। সেই সময়ে কৃষ্ণ সাগর ও কাম্পিয়ান সাগরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থানরত প্রোটো বুলগেরিয়ানদের ইউনিয়নের সাথে তারা মৈত্রী চুক্তি সম্পাদন করে এবং উভয় ইউনিয়ন মিলে বাইজানটান আধিপত্যকারীদের পরাস্ত করে প্রথম ঐক্যবদ্ধ বিশাল স্বাধীন বুলগেরীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। ৯ম শতকে থেকে তাদের অধিকাংশের ধর্মরূপে খ্রীষ্ট ধর্ম স্বীকৃত হয়। শ্লাভ ও প্রোটো বুলগেরিয়ানদের ভাষা মিলে শ্লাভোনিক ভাষা বিকশিত হয়। রাষ্ট্র গঠনের দুই শতাব্দীর মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে বুলগেরিয়া নিজস্ব পরিমণ্ডল গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। এ ভাবে সামন্ততান্ত্রিক পরিমণ্ডলে বুলগেরিয়ার জাতীয় চেতনা বিকাশ লাভ করে। কিন্তু দশম শতাব্দীতে এই দেশটি আবার বাইজানটান সাম্রাজ্যের অধীনে চলে যায়, অবশ্য তার দুই শত বছরের মধ্যে আবার স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। ত্রয়োদশ শতকে বুলগেরিয়া বেশ শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। এই সময়ে (১২৪২ খ্রী.) ঘটে দুর্ধর্ষ তাতারদের আক্রমণ। মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। একদিকে তাতারদের ধ্বংসযজ্ঞ অন্যদিকে যুদ্ধের জন্য রাজকর: এসবের ফলে মানুষ এলাকা ছাড়তে শুরু করে। শেষে নিরুপায় হয়ে কৃষক-জনতা সরকারী অস্ত্রাগার লুট করে তাতারদের ধাওয়া করে। শেষ পর্যন্ত তাতাররা দানিউব নদী পার হয়ে পিঠটান দেয়। কিন্তু তাতার ধাওয়াকারী কৃষক বাহিনীর বিলুপ্তি ঘটে না, বরং দিন দিন তা বাড়তে থাকে। কৃষকরা নিজেরাই একজনকে (আইভেলু) জার পদে অভিষিক্ত করে রাজধানীতে বিজয়ীর বেশে প্রবেশ করে। কিন্তু অচিরেই কৃষক জার নিহত হন। কালক্রমে দেশ চলে যায় তুর্কীদের হাতে দীর্ঘ সময়ের জন্য (১৩৯৬ সালে)।
তুর্কীরা সামন্তবাদী শাসন-শোষণ অব্যাহত রাখার সাথে সাথে দাস প্রথাও জিইয়ে রাখে। পঞ্চদশ শতকে ইউরোপে যে আধুনিকতার ঢেউ দোলা দেয় বুলগেরিয়া তুর্কী নাগপাশে আবদ্ধ থাকার কারণে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে। প্রথম থেকে খণ্ড খণ্ড বিদ্রোহ শুরু হয় তুর্কী আধিপত্যের বিরুদ্ধে। ১৭ শতকে এর তীব্রতা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়।
তুর্কীদের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বুলগেরীয়বাসীর প্রতিরোধ সংগ্রাম, বিশেষভাবে সক্রিয়তা প্রাপ্ত হয় অষ্টাদশ-উনবিংশ শতাব্দীতে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপের আধুনিক শিক্ষা তুর্কী অঞ্চলেও প্রবেশ করে এবং ঐ শতকের মধ্যভাগে ধর্মনিরপেক্ষ বুলগেরীয় স্কুল গড়ে ওঠে। ছাপাখানা চালু হওয়ায় কিছু দেশপ্রেমমূলক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বইটি হচ্ছে ‘হিস্টরী অব শ্লাভো বুলগেরিয়ান’ যা সচেতন বুলগেরিয়ানের মধ্যে বিশেষভাবে সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। তাছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে অনেক
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments