সোকোলনিকিতে নববর্ষ

মস্কোর শহরতলী সোকোলনিকি। একেবারে একটা বনের ধারে বলেই গাছটার জন্যে তাদের দূরে যেতে হয়নি। সবচেয়ে বড় আর সবচেয়ে সবুজ গাছটাকে বেছে নিয়ে তারা কেটে ফেলল আর সেটাকে নিয়ে এল অরণ্যের ইস্কুলে।

বাচ্চারা দেখল গাছটাকে শক্ত করে দাঁড় করাবার জন্যে সেটার তলায় কাঠের দুটো তক্তা ক্রশ্-চিহ্নের আকারে আঁটা হয়েছে। তারপর বাচ্চারা নিজেরাই যে-সব সাজাবার জিনিস তৈরী করেছিল সেগুলোকে একটা বড় বাক্সে ভরে নিয়ে এল ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ভোলোদিয়া। তার মধ্যে ছিল কাগজের ভালুক, খরগোস আর হাতি। কিন্তু সবচেয়ে যা ভালো সে ঐ লম্বা সাদা দাড়ি আর গোলাপী গালওলা বরফ-দাদু।

পরের দিন তারা সবাই সকাল-সকাল উঠে লেনিনের জন্যে অপেক্ষা করতে লাগল। বাইরে তখনো আলো রয়েছে, কিন্তু ছেলেরা ক্রমাগত সুপারিন্টেন্ডেন্টকে প্রশ্ন করে চলেছে: ‘লেনিন না এলে কী হবে?’


লেনিন দেখলেন বাচ্চার দল সবাই খুব চটপটে আর তৎপর, খেলাটাও জানে ভালো। চোখ বেঁধে তাদের ধরতে তাঁর অনেক সময় লাগবে। তাই তিনি এমন ভাব দেখালেন যেন সোজা হেঁটে যাচ্ছেন। আসলে কিন্তু হঠাৎ তিনি ঘুরে দাঁড়িয়ে তাঁর সবচেয়ে কাছে যে ছিল তাকে ধরে ফেললেন।


‘আবার যদি তুষার-ঝড় হয় তাহলেও কি তিনি আসবেন?’

সুপারিন্টেন্ডেন্ট পেত্রোগ্রাদের একজন প্রবীণ শ্রমিক। লেনিনকে তিনি অনেক বছর ধরে জানেন। তাই তিনি কী বলেন বাচ্চার দল সে কথা জানতে চাইছিল।

তিনি জোর দিয়ে বললেন, ‘তিনি আসবেন বলে থাকলে নিশ্চয়ই আসবেন।’

উৎসব আরম্ভ হবার সময় হয়ে গেছে, বাইরে তখন দারুণ এক তুষার-ঝড় চলেছে। পাইন গাছের ভেতর দিয়ে বাতাস শিস দিচ্ছে আর আকাশ থেকে দারুণ তুষার-পাত হচ্ছে।

দেরি হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তখনো লেনিন পৌঁছননি।

তারপর বয়স্কদের মধ্যে একজনকে তারা ফিসফিস করতে শুনল: ‘এ-রকম তুষার-ঝড়ের মধ্যে তিনি আসবেন বলে তো মনে হয় না।’

বাচ্চার দল আবার দৌড়ল বুড়ো সুপারিন্টেন্ডেন্টের খোঁজে।

খুব দৃঢ় স্বরে তিনি বললেন: ‘কিচ্ছু ভেবো না! মনে আছে তোমাদের কী বলেছিলাম: আসবেন বলে থাকলে নিশ্চয়-ই আসবেন তিনি।’

সবাই তারা অপেক্ষা করতে লাগল। জানালার শার্সিতে শুকনো তুষার ছাড়তে-ছাড়তে ঝড় গজরাচ্ছে। বাইরের অত হট্টোগোলের মধ্যে কেউ-ই শুনতে পেল না সামনের ফটকে একটা গাড়ী এসে থামল। গাড়ী থেকে লেনিন নামলেন।

তিনি ওপরতলায় গিয়ে টুপি আর কোট খুলে রুমাল দিয়ে মুখ থেকে ভিজে তুষার মুছলেন। তারপর সব বাচ্চারা যেখানে জমায়েত হয়েছে সোজা সেখানে হাজির হলেন।

সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে চিনতে পারল সবাই, কারণ ইতিপূর্বে অসংখ্যবার তাঁর ছবি তারা দেখেছে! তাহলেও সবাই প্রথমে আড়ষ্ট হয়ে পড়েছিল; লেনিনকে ঘিরে নির্বাক হয়ে মুগ্ধ-দৃষ্টিতে তারা দাঁড়িয়ে রইল।

লেনিনের কিন্তু খুব বেশী সময় লাগল না তাদের দিকে চেয়ে তিনি প্রশ্ন করলেন: কৌতুকভরা দৃষ্টিতে ‘বেড়াল-ইঁদুর খেলা কে-কে তোমরা জানো?’

বাচ্চাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় মেয়ে ভেরা প্রথমে উত্তর দিল: ‘আমি জানি!’

লেওশা নামে ছোট্ট একটি ছেলে চিৎকার করে উঠল: ‘আমিও জানি!’

লেনিন বললেন, ‘বেশ, তাহলে তুমি বেড়াল হও।’

গাছটাকে ঘিরে ছেলেরা গোল হয়ে দাঁড়াল। বাচ্চা মেয়ে কাতিয়া ইঁদুর সাজল। লেওশা কাতিয়ার পেছনে দৌড়তে-দৌড়তে প্রায় যখন তাকে ধরে ফেলেছে তখন সে লেনিনকে আঁকড়ে ধরল আর তিনি তাকে হুস করে শূন্যে তুলে ফেললেন।

‘বেড়ালটা এখন আর তোমাকে ধরতে পারবে না।’

তারপরে ইঁদুর হল সেনিয়া ছেলেটি। চট করে লেওশা তাকে ধরে ফেলল আর তখন তারা ভূমিকা বদল করল: সেনিয়া এখন বেড়াল, আর লেওশা ইঁদুর।

অনেকক্ষণ ধরে তারা খেলতে খেলতে ঘেমে উঠল।

হঠাৎ দরজাটা খুলে গেল আর থপথপ করে একটা বিরাট ধূসর হাতি ঢুকল। ছেলেরা ভীত হয়ে আর্তনাদ করে উঠল। অনেকেই তারা ধূসর পিয়ানো ঢাকাটাকে চিনতে পেরেছিল কিন্তু সেটার তলায় কারা

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice