-
এখানে রঞ্জার দেশ। এইখানে কান পাতি, রঞ্জাবতীর কান্না বাজে,
কতকাল কত রাত কসাড়ের গহিন জঙ্গলে মূর্ছাহত কাল সাঁঝে
পাথুরে মেঘের কাছে অফলা মাঠের মতো ঝিঁঝিঁ-ডাকা অথৈ রাত্তিরে
সেই কান্না বেজে চলে। আজ যায় কাল যায় দূরে লোনা সমুদ্রে তিমিরে
কত চর জেগে ওঠে, সমস্ত সুন্দরবনে হয়তো বসন্ত ফোটে গ্রামে
দখলের বাজনা বাজে নব বহুড়ির গান মাঝপথে ছিন্নলয়ে থামে।
মেঘের বেদনা চিরে ভূমিষ্ঠ রোদের মতো একটুকরো সোনা কে নেবে
রঞ্জার সমস্ত শিরা সেতারের তার হল কত কাল এই ভেবে ভেবে,
মাঘের দেউলে মাঠে কান্নার বেয়ালা বুকে আজ শুধু টানো দীর্ঘ ছড়
রঞ্জাবতী, রঞ্জাবতী; হৃদয়ে হৃদয়ে বুঝি ঝাপটায় সমুদ্রের ঝড়
কত না
-
সিমেন্ট ঘাঁটতে এমন ভাল লাগে রঘুর। দশটা আঙ্গুল সে ঢুকিয়ে দেয় সিমেন্টের স্তূপে, দু'হাত ভর্তি করে তোলে, আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে ঝুর ঝুর করে ঝরে যায়। হাত দিয়ে সে থাপড়ায় সিমেন্ট, নয় শুধু এলোমেলোভাবে ঘাঁটাঘাঁটি করে। যোয়ান বয়সে ছেলেবেলার ধুলোখেলার সুখ। কখনো খাবলা দিয়ে মুঠো করে ধরে, যতটা ধরতে চায় পারে না, অল্পই থাকে মুঠোর মধ্যে। হাসি ফোটে রঘুর ঠোঁটে। এখনো গঙ্গামাটির ভাগটা মেশাল পড়েনি—ও চোরামিটা কোম্পানি একটু গোপনে করে। কি চিকন মোলায়েম জিনিষটা, কেমন মিঠে মেঘলা বরণ। মুক্তার বুক দুটির মত। বলতে হবে মুক্তাকে তামাসা করে, আবার যখন দেখা হবে।
‘এই শালা খচ্চর!’
গিরীনের গাল, ছিদামের নয়। ছিদাম বিড়ি টানছে
-
দু'চার জন এমন একান্ত আত্মকেন্দ্রিক লেখক হয়তো বাংলাদেশেও আছেন যাঁরা এ প্রশ্নের জবাব দেবেন—‘ও নিয়ে মাথা ঘামাই না, কেননা সাহিত্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে ও কথা অবান্তর। লিখি ভরা মনে, আপন খেয়ালে।’ আর কিছু লেখক আছেন যাঁদের মাথাব্যথা অতি সংকীর্ণ এক রসিক সমজদার গোষ্ঠীর মন পাওয়া-না-পাওয়া নিয়েই। তার বাইরের বিপুল জনতার নিন্দা প্রশংসায় তাঁদের কিছু এসে যায় না।
এ ধরনের চিন্তার মধ্যে কতটা আন্তরিকতা আছে, আপন অক্ষমতা গোপনের সাফাই কি না এগুলি—সেকথা না তুলেও বলা চলে যে, এরা সমগ্র বাঙালী লেখক সমাজের মধ্যে মুষ্টিমেয় । অধিকাংশ লেখকই চান তাঁদের রচনা সবাই পড়ুক, সবাই তার তারিফ করুক। এই ইচ্ছা খুবই সুস্থ ও স্বাভাবিক।
-
বাংলাদেশ আজ মুক্ত। ইতিহাসের এক প্রচণ্ড অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার গৌরবে বাংলাদেশের আবালবৃদ্ধবণিতা আজ ভূষিত। অমিত শৌর্য নিয়ে স্বদেশের সত্তা, স্বার্থ ও সম্মানের জন্য সার্থক সংগ্রাম করেছেন সেখানকার বাঙালিরা। ভারতভূখণ্ডে এমন উদ্দীপনাময় ঘটনার সাক্ষাৎ কখনও মিলেছে মনে হয় না। বিশ্বের বৃত্তান্তে নতুন সংযোজনা করতে চলেছে বাঙালি—
ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়, তোমারি হউক জয় ৷
তিমির-বিদার উদার অভ্যুদয়, তোমারি হউক জয় ৷
ভারতের সৌভাগ্য ও গর্ব আজ এই যে পরম সৌহার্দ্য নিয়ে, বিপুল বিদেশী প্রতিকূলতায় সন্ত্রস্ত না হয়ে, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে সাধ্যাতিরিক্ত সহায়তা দিতে সে চেয়েছে এবং পেরেছে। আর আমরা—যে যেখানে আছি—যারা মায়ের কোলে শুয়ে প্রথম কথা বলতে শিখি বাঙলা ভাষায়, তারা
-
বড়দিনের মরশুমে এবার উদয়শঙ্করের নৃত্যানুষ্ঠান একটি বিশেষ আকর্ষণ। প্রায় ২০ বৎসর পূর্বে, শঙ্কর যখন উদয়শিখরে তখন তাঁর নৃত্য দেখবার সৌভাগ্য হয়েছিল। সেই শ্রদ্ধা, বিস্ময়বোধ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়েই গেলাম তাঁর নৃত্যানুষ্ঠান আবার দেখতে। কিন্তু অধিকাংশ দর্শকেরই মতো হতাশ হয়ে ফিরে এলাম। অনূভব করলাম উদয় আজ অস্তাচলে। এ অনুভূতির পেছনে বিক্ষোভ ততটা নেই যতটা আছে বেদনা।
রবীন্দ্রনাথের পর শঙ্করই ছিলেন বহির্বিশ্বে ভারতের সাংস্কৃতিক দূত। তাঁর আবির্ভাব ভারতের নৃত্য তথা সংস্কৃতি জগতে একটা মস্তবড় ঘটনা। রবীন্দ্রনাথ সাহিত্য ও সঙ্গীতে, শিশিরকুমার মঞ্চে যে নবযুগের সৃষ্টি করেছেন, শঙ্কর তা করেছেন নৃত্যে। ক্ষয়িষ্ণু, সামন্ততন্ত্রী সমাজে, ভারতের ঐ বর্ষশালী প্রাচীন নৃত্যকলা আশ্রয় নিয়েছিল বারবণিতালয়ে। এই যুগে রবীন্দ্রনাথই
-
চিকিৎসকেরা পাভলভকে জানেন একজন বিশিষ্ট শারীরবিদ্যা-বিশারদ হিসাবে; শর্তাধীন পরাবর্ত (কনডিশন্ড্ রিফ্লেক্স)-ক্রিয়ার আবিষ্কারক হিসাবে। শারীরবিদ্যায় (ফিজিওলজি) তিনি মাত্র একটি নতুন পরিচ্ছেদ যোগ করেছেন—এই ভ্রান্ত ধারণা নিরসনের স্থান এই প্রবন্ধে নেই। চিকিৎসাবিদ্যায় পাভলভ প্রত্যয়ের প্রভাব সম্বন্ধে অতি সংক্ষেপে একটি কথা মাত্র আলোচনা করছি। চিকিৎসাবিদ্যার এবং মনোবিদ্যার ছাত্রদের ও জনসাধারণের মধ্যে পাভলভ সম্বন্ধে ঔৎসুক্য জাগানোই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য।
জীববিদ্যা, শারীরবিদ্যা, মনোবিদ্যা প্রভৃতি চিকিৎসাবিদ্যার শাখাপ্রশাখায় পাভলভীয় প্রত্যয় যুগান্তর এনেছে। শর্তাধীন পরাবর্তের মাধ্যমে পাভলভ মহা-মস্তিষ্কের (সেরিব্রাম) উপর যে-সব গবেষণামূলক পরীক্ষা করেছেন, শারীরবিদ্যায় যে-ধরনের কাজ তাঁর আগে আর কেউ করেননি। এক নতুন মস্তিষ্ক বিদ্যা তথা শারীরবিদ্যা পাভলভ গড়ে তুলেছেন, যার ফলে চিকিৎসা-বিদ্যার মূল সূত্র আজ সোভিয়েট দেশ
-
লেখক: রঞ্জন ধর
আমাদের মণিদা,কমরেড মণি সিংহ, আর ইহজগতে নেই। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৩১ ডিসেম্বর তাঁর জীবনের অবসান ঘটল। মণিদা নেই, কিন্তু তিনি রেখে গেছেন তাঁর দ্বারা সুদীর্ঘকাল ধরে পরিচালিত কৃষক সংগ্রাম ও কমিউনিস্ট পার্টি গড়ার এক ইতিহাস।
চল্লিশ দশকের যুক্ত বাংলার কৃষকদের মধ্যে, বিভিন্ন জেলায়, দেখা দিয়েছিল এক অপ্রতিরোধ্য শ্রেণী সংগ্রামের জোয়ার। ময়মনসিংহ জেলায় এই সংগ্রামের নেতৃত্বে ছিলেন মণি সিংহ। আর তাঁর সঙ্গে ছিলেন কারামুক্ত একদা সন্ত্রাসবাদী বিপ্লবীরা যাঁদের অধিকাংশ এই জেলায় কারামুক্তির পর যোগ দিয়েছিলেন কমিউনিস্ট পার্টিতে। চল্লিশ দশকের আগে জমিদার ও জোতদার প্রধান এই জেলায় কৃষক আন্দোলন বলতে কিছু ছিল না। আন্দোলন গড়ার পিছনে ছিল
-
দেবতারা সত্যিই একটি উপযুক্ত বিধান দিয়েছেন—গরিবেরাও হাসতে পারবে।
কুঁড়ে ঘরে শুধুই যে কান্নাকাটি, হা-হুতাশ শোনা যায়, তা নয়; প্রাণখোলা অনেক হাসিও সেখানে ওঠে। এমনকি, বলতে গেলে, যখন কাঁদা উচিত, তখনই বরং হেসে ওঠে গরিবেরা।
এই দুনিয়াটা আমার ভালোই জানা। আমার বাবা হলেন সুস পরিবারের লোক (নুন সংক্রান্ত জাতিবাচক পদবীবিশেষ, উত্তর ভারতের নুনিয়াদের মতো—অনুবাদক) নুনিয়াদের তখন দারুণ অভাব অনটনের অবস্থা। একটা ইঞ্জিন কারখানায় দিনমজুরের কাজ করতেন বাবা। এই সময়কার দিনগুলো নিয়ে তাঁর তখন আর কোন অহংকার ছিল না, কারই বা থাকে! অথচ এ দিনগুলোও কিন্তু মিথ্যা ছিল না।
আর এও মিথ্যে নয় যে ছেলেবেলার এই কটি বছরে আমি যতো হেসেছি, তেমন
-
সময়টা তখন অগ্রহায়ণের শেষ। শীত পড়েছে বেশ। উত্তরে হাওয়া বইছে। গা-কাঁপিয়ে, রক্ত জমিয়ে আনে বুঝি। আকাশে মেঘের দেখা নেই। গাঢ় নীল রঙের আকাশটা ঝক্ ঝক্ করছে রঙের দীপ্তিতে।
রাস্তার দুপাশে বিস্তৃত ধানের খেত। সোনালী ফসলের চোখ-জুড়ানো সমারোহ। ধানের শীষের উপর রাতের শিশির টল টল করছে আর সকাল বেলার সূর্যের আলোয় ঝিকমিক করছে রূপোলি বিন্দুর মতো।
একছিলিম তামাক টানবার জন্য কাস্তেটা পাশে রেখে বসল প্রাণকেষ্ট। মালসার ঘুঁটের আগুনটা উসকে দিল হাত দিয়ে। অন্ধকার থাকতেই ধান কাটতে বেরিয়েছে সে। কড়া শীতে হাত দুটো অবশ হয়ে এসেছে। একটু গরম হয়ে নেবে সে তামাক টানতে টানতে। গায়ে জড়ানো পাতলা কাঁথাটা কাজে ব্যাঘাত ঘটালেও ছাড়তে
-
দুর্ভাগ্যের কথা হলেও সত্য যে, প্রায় আদিকাল থেকেই শিল্পসাহিত্যের মার্কসবাদী দৃষ্টি ভ্রান্তি ও বিচ্যুতির মধ্যে যতটা প্রকাশ্য, তার সঠিক ও নির্ভুল ব্যবহারে ততটা নয়। আমরা ভিত ও ওপরতলার উপমাসূত্রে বস্তুজীবন ও শিল্পসাহিত্যমনের পরোক্ষ, জটিল ও দূরান্বয়ী সম্পর্কের কথা বলাবলি করেছি অনেক—কিন্তু কার্যত শিল্পসাহিত্যের বিচারে সেই ভারসাম্যের প্রমাণ রেখেছি সামান্যই। শুধু স্তালিন যুগের ঝ্দানভীয় অন্ধতাকে দোষ দিলে কী হবে, স্বয়ং মার্কস বা এঙ্গেলসকেও তো অনেক সাবধানবাণী উচ্চারণ করে যেতে হয়েছে, নিজেদেরই আবিষ্কৃত তত্ত্বের ভ্রান্ত প্রয়োগের জন্য খেদ করতে হয়েছে। আর এখনও পর্যন্ত, অনেক ঠেকে, অনেক জেনেও, মার্কসীয় শিল্পতত্ত্বের প্রথম ভ্রান্তির পুনরাবৃত্তি দেশে দেশে।
আমাদের দেশের অভিজ্ঞতাতেই আসা যাক। এখনও, এমন কী
-
চিকিৎসা শাস্ত্র যুগে যুগে
লেখক: ড. অশোককুমার বাগচী
প্রকাশক: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্যদ
বাংলা ভাষার প্রকাশনার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ বিগত কয়েক বছরে নিজেদের মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠা করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র, রামেন্দ্রসুন্দর, রবীন্দ্রনাথ, জগদীশচন্দ্র প্রমুখের সান্তর প্রয়াসে জ্ঞানবিজ্ঞানের নানা গভীর জটিল তত্ত্ব আলোচনার যে সমৃদ্ধ ঐতিহ্যে বাংলাভাষার উত্তরাধিকার, সাম্প্রতিক সেই ধারাটি ক্ষীয়মাণ। এই সেদিন পর্যন্ত বাংলায় গুরুগম্ভীর বিষয়ের সরস প্রাঞ্জল আলোচনা আমাদের নজর কেড়েছে। সম্প্রতি, কয়েকটি উজ্জ্বল ব্যতিক্রমের কথা ছেড়ে দিলে, তন্নিষ্ঠ শাস্ত্র আলোচনা বাংলায় দুর্লক্ষ্য। এই পরিবেশে, সরকারি আনুকূল্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্যদ জ্ঞানবিজ্ঞানের বহুধাবিস্তৃত শাখার বই বাংলায় প্রকাশ করার দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রথম দিকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের টেক্সট বই
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
- শিল্পকলা
- স্মৃতিকথা
- চলচ্চিত্র
- মার্কসবাদ
- জীবনী
- সমাজতন্ত্র
- পাকিস্তান
- মুক্তিযুদ্ধ
- লোককাহিনী
- অনুবাদ
- ছোটগল্প
- কবিতা
- রবীন্দ্রনাথ
- গদ্য
- সোভিয়েত ইউনিয়ন
- দর্শন
- লেখক
- নৃত্য
- ওষুধ
- আলোচনা
- বই
- রোজনামচা
- চীন
- জাতীয়তাবাদ
- ক্রিকেট
- উদ্ভাবন
- বিজ্ঞান
- ভারত
- সমাজ
- ছড়া
- দুর্ভিক্ষ
- বাংলা
- যুদ্ধ
- চিরায়ত
- সমালোচনা
- ঢাকা
- পশ্চিমবঙ্গ
- নাট্যশালা
- ফ্যাসিবাদ
- আধ্যাত্মিকতা
- গদ্যকাব্য
আর্কাইভ
লেখক
- অন্নদাশঙ্কর রায় (১)
- অরুণ সেন (১)
- আনিসুজ্জামান (১)
- আন্তোনিও ফ্রাঞ্চেস্কো গ্রামশি (১)
- আলবার্ট আইনস্টাইন (১)
- আশুতোষ ভট্টাচার্য (১)
- ইভান তুর্গেনেভ (১)
- এরস্কিন কাল্ডওয়েল (১)
- কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত (১)
- গোপাল হালদার (৫)
- গৌরী আইয়ুব দত্ত (১)
- চিন্মোহন সেহানবীশ (১)
- জহির রায়হান (১)
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১)
- দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় (১)
- ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় (১)
- নিবারণ পণ্ডিত (১)
- পশুপতি ভট্টাচার্য (১)
- প্রক্রিয়াধীন (৩৬)
- বিজন চৌধুরী (১)
- বিষ্ণু দে (১)
- মমতাজুর রহমান তরফদার (১)
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১)
- ম্যাক্সিম গোর্কি (১)
- রণেশ দাশগুপ্ত (১)
- লিও ট্রটস্কি (১)
- শান্তিময় রায় (১)
- শিবনাথ চট্টোপাধ্যায় (১)
- সত্যেন সেন (১)
- সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার (১)
- সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় (১)
- সুব্রত বড়ুয়া (১)
- সুশীল জানা (১)
- হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (১)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.