- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৮৮
- ২০০
কিরিল চামার
অনেক কাল আগে কিয়েভে ছিল এক প্রিন্স। আর কিয়েভের কাছেই থাকত নাগ। প্রতি বছর নাগকে ভেট দিতে হত: হয় কোনো নওল কুমার, নয় কুমারী। তারপরে তো একদিন প্রিন্সের মেয়েকে পাঠাবার পালা এল। করবার কিছু, নেই: প্রজারা পাঠিয়েছে, প্রিন্সকেও পাঠাতে হয়। নিজের মেয়েকে তাই নাগের কাছে ভেট পাঠাল প্রিন্স।
আর মেয়েটি এত সুন্দরী, এত মিষ্টি যে কাহিনীতে বলবার নয়, কলম, দিয়ে লিখবার নয়।
নাগ তার প্রেমে পড়ে গেল। একদিন মেয়েটি তাকে সোহাগ দেখিয়ে শুধাল: ‘আচ্ছা, দুনিয়ায় এমন লোক আছে যে তোমায় হারাতে পারে?’
নাগ বললে, ‘আছে, তেমন একজন আছে কিয়েভে, নিপার নদীর পাড়ে। বাড়িতে যখন আঁচ দেয়, ধোঁয়ায় আকাশ যায় ছেয়ে, আর নদীতে যখন চামড়া ভেজাবার জন্যে বেরয়, সে তো চামড়ার কাজ করে, চামার, তখন একটা নয়, একসঙ্গে নিয়ে যায় বারোটা গরুর চামড়া। নিপারের জলে চামড়া ফুলে ওঠে। আমি একবার চামড়া টেনে ধরেছিলাম, ওর তাতে কিছু, এসে যায় না: এমন টান দেয় যে আমাকে সমেতই পাড়ে টেনে তোলে আর-কি। কেবল এই লোকটাকেই আমি ভয় পাই।’
কন্যে কেবলি ভাবে কী করে এই খবরটা বাড়ি পাঠানো যায়, মুক্তি পেয়ে যাওয়া যায় বাবার কাছে। তার আশেপাশে জনপ্রাণী নেই, কেবল একটি পায়রা ছাড়া। সুখের দিনে কিয়েভে থাকতে তাকে সে পুষেছিল। অনেক ভেবে ভেবে শেষ পর্যন্ত চিঠি লিখল বাবাকে: ‘হেন তেন সব লিখে তারপর জানায়, তোমাদের ওখানে, বাবা, কিয়েভে একটি লোক আছে, নাম তার কিরিল, লোকে ডাকে কিরিল চামার বলে। বুড়ো লোকেদের দিয়ে ওকে বলে পাঠাও, নাগের সঙ্গে লড়ে আমায়, এই অভাগিনীকে সে কি বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিতে চায় না? আমার আপনার লোক, বাবা আমার, মিনতি করো ওর কাছে, কথা বার্তা বলে, ধনদৌলত দিয়ে। চলনে বলনে কোনো ঘাট হলে সে যেন মনে পুষে না রাখে, রাগ না করে। তোমার জন্যে, ওর জন্যে আমি সারা জীবন প্রার্থনা করব ভগবানের কাছে।’
এইসব লিখে পায়রার ডানার তলে চিঠিটা বেঁধে পায়রাকে উড়িয়ে দিল জানলা দিয়ে। মেঘের কোলে উড়ে গিয়ে পায়রা পৌঁছল প্রিন্সের আঙিনায়। ছেলেমেয়েরা দেখতে পেল পায়রাকে।
চোঁচাতে লাগল, ‘বাবা, বাবা, দেখ, দেখ, দিদির কাছ থেকে পায়রা এসেছে।’
প্রিন্সের প্রথমটা আনন্দ হয়েছিল, তারপর ভেবেচিন্তে দেখে মন খারাপ হয়ে গেল: ‘হতচ্ছাড়া পাষণ্ডটা আমার খুকিকে বুঝি মেরেই ফেলেছে।’ তাহলেও পায়রাকে হাতছানি দিয়ে ডাকল, দেখে তার ডানার নিচে চিঠি।
সেটা নিয়ে সে পড়ল: হেন, তেন, যাসব লিখেছে মেয়ে। অমনি সে তলব করল সমস্ত পাত্রমিত্র, মণ্ডলদের: ‘এমন কেউ কি আছে, লোকে যাকে কিরিল চামার বলে ডাকে?’
‘আছে প্রিন্স, থাকে নিপার পাড়ে।’
‘কী করে ওর মন পাওয়া যায় যাতে রাগ না করে, সব কথা শোনে?’ নানান সলাপরামর্শ করল তারা, তারপর পাঠাল সবচেয়ে বুড়ো লোকদের। এল তারা তার কুটিরে, ভয়ে ভয়ে দরজা একটু ফাঁক করেই একেবারে আঁতকে উঠল। দেখে: তাদের দিকে পিঠ ফিরিয়ে মেঝের ওপর বসে আছে খোদ চামার, হাত দিয়ে বারোটা চামড়া ডলছে। যারা এসেছিল, তাদের একজন ‘খ্যাক’ করে কেসে ফেলল৷
চমকে উঠল চামার, বারোটা চামড়াই ‘ফড়ড়, ফড়ড়’ করে ফেটে গেল। ফিরে চাইল চামার, ওরা একেবারে হাঁটু গেড়ে বসে। মাথা নোয়ায়, বলে, এই হয়েছে, সেই হয়েছে, প্রিন্স তোমার কাছে মিনতি করে পাঠিয়েছে। ও একেবারে চেয়েও দেখতে চায় না, কানেও তুলতে চায় না: রেগে আগুন কেননা বারোটা চামড়া ফেড়ে গেল ওদের জন্যে।
ওরা আবার মিনতি শুরু করল, সাধাসাধি করল, হাতে পায়ে ধরল। ও শুনতেই চায় না। সাধ্যিসাধনা করে করে শেষ পর্যন্ত চলে গেল মাথা নিচু করে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
রবীন্দ্রনাথের জন্ম কলকাতায় জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে। বাংলার সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি ও স্বাদেশিকচেতনা উন্মেষে যে পরিবার বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। রবীন্দ্রনাথের (১৮৬১-১৯৪১) বয়স যখন পাঁচ বছর, ১৮৬৬ সালে ঠাকুর পরিবারের সুহৃদ, রবীন্দ্রনাথের গৃহশিক্ষক রাজনারায়ণ বসু (১৮২৬-১৮৯৯) কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘জাতীয় গৌরবেচ্ছা সভা’ এবং ‘হিন্দুমেলা’ (১৮৬৭)। পরবর্তী সময় থেকে এ মেলার নামকরণ করা হয় ‘চৈত্রমেলা’। স্বাদেশিকতাবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যেই ১৮৭৮ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘সঞ্জিবনী সভা’। কিশোরকাল থেকেই রবীন্দ্রনাথ এসব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁরআত্মপরিচয়গ্রন্থে লিখেছেন:
জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর বৈপ্লবিক ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে বৈপ্লবিক সংগঠন ‘সঞ্জিবনী সভা’ নামে একটি গুপ্ত সমিতি স্থাপন করেছিলেন। সমিতির সভাপতি ছিলেন হিন্দুমেলার উদ্যোক্তা রাজনারায়ণ বসু
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments