মেসোপটেমিয়ার চিকিৎসা
মেসোপটেমিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান মূলতঃ এসেছে আসূরবানিপালের গ্রন্থাগার থেকে। আসিরীয়ার দ্বিগ¦ীজয়ী সম্রাট আসূরবানিপালের গ্রন্থাগার ইংরেজ পুরাতত্ত্ববিদ হেনরী লেয়ার্ড ১৮৫০ খৃষ্টাব্দে প্রাচীন নিনেভা শহরের ধ্বংসস্তূপ খনন কাজ চালানোর সময় খুঁড়ে বের করেন।
পৃথিবীর এই প্রাচীনতম গ্রন্থাগারের জন্য আমরা প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার সম্বন্ধে এতোকিছু জানতে পেরেছি। গ্রন্থাগারটি হচ্ছে খৃষ্টপূর্ব ৬৬৮ অব্দের। এই সময় থেকে আরো দেড় হাজার বছর আগের মৃৎফলক গ্রন্থাগারে পাওয়া গেছে। রাজা আসূরবানিপাল যেমন নিষ্ঠুর তেমনই বিদগ্ধ ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্যের মধ্যে যত লিখিত বস্তু অর্থাৎ মৃৎফলক ছিল তা যতই প্রাচীন হোক না কেনো সেগুলো তিনি তাঁর গ্রন্থাগারে আনিয়ে ছিলেন। ফলশ্রুতি হিসাবে আমরা পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতা সুমের থেকে শুরু করে তাঁর সময় (৬৬৮-৬৩১ খৃষ্টপূর্বাব্দ) পর্যন্ত সাহিত্য, বিজ্ঞান, কাব্য, দর্শন, ধর্ম ইত্যাদি এমন কোনো বিষয় নাই যা জানতে পারিনি। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার চিকিৎসা শাস্ত্র সম্বন্ধে এখানে উদ্ধৃত সমস্ত তথ্যই আসূরবানিপালের গ্রন্থাগারে প্রাপ্ত মৃৎফলক থেকে সংগৃহিত।
প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার চিকিৎসা বিজ্ঞান আলোচনা করার আগে চিকিৎসা সম্বন্ধে তাদের চিন্তাধারার কথা বলে নেয়া ভালো। মেসোপটেমীয়দের চিকিৎসাবিজ্ঞান ছিল যাদুবিদ্যা ভিত্তিক। রোগমুক্তির একটি ক্রিয়ামূলক অঙ্গ হিসাবেই রোগীকে ওষুধ খাওয়ানো হতো। এমনকি ওষুধ প্রস্তুত এবং সেবন প্রাণালীটাও ছিল যাদুবিদ্যা ভিত্তিক। চিকিৎসাশাস্ত্র এ রকম যাদুবিদ্যামূলক হবার কারণ মেসোপটেমীয়রা মনে করত যে রোগ হচ্ছে দেবতার শাপ, নৈতিক অধঃপতন, সব রকমের অপরাধ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে সামান্য ভুলভ্রান্তি এবং নিষিদ্ধ কোনো আইন লংঘন করলেই দেবতার কোপে পড়তে হতো। অপমানিত এবং ক্রুদ্ধ দেবতা সরাসরি অপরাধীর উপরে আঘাত হানতেন। চিকিৎসক এবং পুরোহিতরা রোগীর নানা রকম উপসর্গে বিভিন্ন দেবতার হাত আবিষ্কার করতেন। দেবতারা আবার ভূতও লেলিয়ে দিতেন। রোগীর বিভিন্ন অঙ্গ বিভিন্ন ভূত দখল করে বসত। আমাদের দেশের ভূতে অথবা জীনে পাওয়ার মতো ব্যাপার আর কি। এছাড়াও দেবতারা রোগকে ডাইনীর অথবা যাদুকরের উচ্চারিত মন্ত্রের শিকার করতে পারতেন। কাজেই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, রোগ মেসোপটেমিয়াদের কাছে অসুস্থতা নয়, বরঞ্চ ভূতে পাওয়া। রোগ মূলতঃ নৈতিক ত্রুটি অথবা বিচ্যুতি, একটি অধঃপতন, যা নাকি মানুষকে নৈতিকভাবে হীন এবং দৈহিকভাবে অসুস্থ করে তোলে। নোংরা মন সারাতে হলে মনের ওষুধ লাগে যা নাকি যাদু এবং তন্ত্রমন্ত্রই শুধু পারে। ওঝাকে এসে প্রথমে রোগী কি নৈতিকঅপরাধ করেছে সেটা বের করতে হতো তারপর মন্ত্র পড়ে ভূত তাড়ানো হতো এবং অবশেষে ক্রুদ্ধ দেবতাকে বলি এবং প্রার্থনার মাধ্যমে সন্তুষ্ট করার পালা।
তাই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার চিকিৎসাবিজ্ঞানের গোড়ায় গলদ রয়ে গিয়েছিল। দেবতা এবং ভূত প্রেতকে যদি অসুখের কারণ ধরা হয় তবে কখনই বৈজ্ঞানিক চিকিৎসাশাস্ত্র গড়ে উঠতে পারে না কারণ অসুুখ সম্পুর্ণ শারীরিক কারণে ঘটে থাকে অর্থাৎ কিনা শরীরের ভেতর গোলমাল হলেই রোগ হয়। অবশ্য এ ধরনের অদ্ভুত ধারণার কারণ আছে। ঐ সময় বিজ্ঞান এতো অনুন্নত ছিল যে চিকিৎসাশাস্ত্র বিজ্ঞান নির্ভর হওয়া সম্ভব ছিল না। মানুষ প্রকৃতি সম্বদ্ধে ছিল সম্পূর্ণ অজ্ঞ এবং জীববিজ্ঞান বলে কিছুই ছিল না। কাজেই অজানা শক্তি অর্থাৎ দেবতা এবং ভূতের ওপর নির্ভর করা ছাড়া মানুষ বিভিন্ন ঘটনার জন্য আর কাকে দায়ী করবে?
তবে শুধু মন্ত্র পড়েই তো আর ভূত তাড়ানো যায় না, তার সঙ্গে বাস্তব কিছু করতে হয়। মেসোপটেমীয়রা সেজন্য রোগীকে ওষুধ খাওয়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্র আওড়াতো। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক শ বছরের অনুশীলনের ফলে কতকগুলো ওষুধের ক্রিয়ামূলক দিক তারা বের করতে পেরেছিল। ওষুধ বলতে অবশ্য সবই ভেষজ। সুমেরীয়দের ওষুধ তৈরীর তালিকায় সাড়ে পাঁচশ বিভিন্ন মিশ্র বস্তুর উপাদানের মধ্যে আড়াইশই উদ্ভিজ। একশ কুড়ি আকরিক এবং একশ আশি পশু এবং অচেনা জিনিষের নাম আছে। কিন্তু
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments