নারী মুক্তি : সুফিয়া কামাল ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

বেগম সুফিয়া কামাল এদেশের প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ও নারী মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক চরিত্র। মানব ইতিহাসে কেউ মহৎ হয়ে জন্মগ্রহণ করেন, কেউ স্বীয় সাধনায় মহত্ত্ব অর্জন করেন, আবার কারও ওপর মহত্ত্ব আরোপ করা হয়। আলোচ্য বেগম সুফিয়া কামালকে আমরা দ্বিতীয় শ্রেণিতে ফেলতে পারি। কারণ, মহত্ত্ব অর্জন করার জন্য তাকে নিরন্তর আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর গোড়া থেকে শেষাবধি প্রদেশের নারী আন্দোলনে ও সংগ্রামে সংম্পৃক্ত থেকে এবং নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ইতিহাসে আলোচনায় এসেছেন।

বরিশালের শায়েস্তায়াদের নবাব পরিবারে জন্ম নিয়ে তিনি কিভাবে নারীর স্বাধীনতা ও অধিকারের আন্দোলনে সামিল হন সে কাহিনী সকলেরই কমবেশি জানা। তার কর্মজীবন শুরু হয় আধুনিকতার অন্যতম স্মৃতিকাগার কলকাতায়। ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে তাঁকে সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব দেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন। কিন্তু সেই বছর আগস্টে যখন ভারত বিভক্তি এড়ানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়, তখন হিন্দু মহাসভার নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলাকে ভাগ করার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং তাতে মদদ যোগান কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বাংলার গভর্নর স্যার ফ্রেডারিক বারোজ বাংলাকে ভাগ করার বিরোধী ছিলেন। অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহারাওয়ার্দীও বাংলাকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করেছিলেন। বঙ্গীয় মুসলিম লীগের নেতা আল্লামা আবুল হাসেম, বঙ্গীয় কংগ্রেস নেতা কিরন শঙ্কর রায়, ফরোয়ার্ড ব্লক নেতা শরৎ বসু এবং আরও অনেকে বাংলাকে অবিভক্ত রাখার চেষ্টা করেছিলেন। এ ব্যাপারে তারা একটা চুক্তিতেও পৌঁছেছিলেন, কিন্তু মহাত্মা গান্ধী, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এবং পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর বিরোধিতার মুখে সে চেষ্টা সফল হয়নি। কেবল ভারত ইউনিয়নের সঙ্গে থাকতে চাইলে বাংলাকে ভাগ না করার কথা নেহেরু পরিস্কার ভাষায় এক চিঠিতে কিরন শঙ্কর রায়কে জানিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি তার প্রস্তাবের অনুকূল ছিল না। তাই কিরন শঙ্কর আর কোন টু শব্দ করেননি। স্যার বারোজ এবং পণ্ডিত নেহেরু উভয়ে পূর্ব বাংলাকে গ্রাম্য বস্তি মনে করতেন। সেই গ্রাম্য বস্তিকে জুড়ে দেয়া হয় পাকিস্তানের পশ্চিমাংশের সঙ্গে। এর উদ্দেশ্য পরিস্কার হয় নেহেরু ডকট্রিন থেকে। পণ্ডিতজীর ধারণা ছিল পূর্ব-বাংলা কখনও অর্থনৈতিকভাবে viable হবে না। তাই পুনরায় ঘরে ফিরে আসবে। কিন্তু তার সে আশাবাদ বাস্তবে রূপ নেয়নি। তবে স্বাধীন ও সার্বভৌম সত্তা অর্জন করতে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। এ বিষয়ে আর আলোচনা না বাড়িয়ে আমরা দেখবো রাজনৈতিক বিকাশধারার সঙ্গে তাল রেখে বেগম সুফিয়া কামালের জীবন কাহিনী কিভাবে বিকশিত হয়েছে।

ইতিহাসের অলংঘনীয় ইংগিতে সুফিয়া কামালকে ঢাকায় এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হয়। নতুন রাষ্ট্র, বিভিন্ন সমস্যায় আকীর্ণ। অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধান করা যখন জরুরি ছিল তখন পাকিস্তান আন্দোলনের সিপাহসালার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা সফরে এসে রাষ্ট্র ভাষার প্রশ্নে নতুন বিতর্কের জন্ম দেন। যা পাকিস্তানের আদর্শিক ভিত্তিকেই টলিয়ে দেয়। তিনি ক্ষেত্র তৈরি করে দেন ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী রাজনীতি চর্চার, যা নিয়ন্ত্রণ করে ভবিষৎ রাজনীতি। পাকিস্তানের দুই অংশের সংহতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রাজনৈতিক দল হিসেবেও মুসলিম লীগ তার প্রভাব ধরে রাখতে পারেনি। একাধিক প্রতিক্রিয়াশীল পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে জনমন থেকে মডারেট মুসলিম আদর্শের এই দলটি জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলে। তবে জমিদারি উচ্ছেদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দলটি কোনো কার্পন্য করেনি। সম্পূর্ন আইনী প্রক্রিয়ায় মুসলিম লীগ কাজটি সম্পন্ন করেন। খাজা নাজিমুদ্দিন-এর নেতৃত্বে গঠিত সরকার প্রজাস্বত্ব আইন পাশ করে এবং শেরে বাংলা আবুল কাসেম ফজলুল হক ঋণসালিশী বোর্ড গঠন করে জমিতে কৃষক প্রজাদের স্বত্ব কার্যকর করেন। যার ফল হয়েছিল সুদূরপ্রসারী। স্বল্প পরিসর সময়ে এখানে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির শুভ সূচনা হয়েছিলো। সাধারণ মানুষ বিকাশমান অর্থনীতির আর্শিবাদ ভোগ করার সুযোগ পেয়েছিল। দুর্বৃত্ত পুঁজির

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice