উপনিবেশের গল্প
দুঃসাহসী অভিযাত্রীদের অভিযান আমাদের পৃথিবীকে সবার কাছে পরিচিত করে তার বর্তমান রূপে তুলে ধরেছে। কিন্তু এমন এক সময় ছিল, যখন এই পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি জায়গা ছিল আমাদের অজানা। এর বিরাট বিরাট সাগর, হ্রদ, নদী-নালা, পাহাড়-মরুভূমির সামান্য অংশই মানুষের জ্ঞানের পরিধিতে ছিল। অবশ্য সভ্য দুনিয়ার অজানা জায়গাতেও যে মানুষের পদচারণা ছিল না, তোমরা তা ভেবোনা। তবে সেসব জায়গার আদি অধিবাসীরা তাদের আদিম সংস্কৃতি ও জীবন-জীবিকা নিয়ে সঙ্গোপনে ছিল বলে অগ্রসরমান সভ্যতার আলো থেকে তারা ছিল অনেক দূরে। দুঃসাহসী অভিযাত্রীরা অজানা দেশে পর্যটনের মাধ্যমে সভ্যজগতকে সেসব অজানা দেশের খোঁজ দিয়েছে। আবার একই সাথে সেসব অজানা দেশের মানুষও আস্তে আস্তে বৃহত্তর পৃথিবীর সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ লাভ করেছে।
এরকম কয়েকজন অভিযাত্রীর নাম করতে হলে প্রথমেই আসে যার নাম, তার দেশ ছিল ইতালিতে। মার্কোপোলো নামের এই পর্যটক দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করতে করতে একসময়ে উপস্থিত হয় সুদূর চীনদেশে। তার আসল উদ্দেশ্য যদিও ছিল ব্যবসা, তবু দেশে ফিরে ভীষণ উৎসাহ নিয়ে লিখতে বসে তার চমকপ্রদ ভ্রমণকাহিনী। মার্কোপোলোই প্রথম ইউরোপকে পরিচিত করে চীনের প্রাচীর, চীনাদের রীতিনীতি, আচার-ব্যবহার, সমাজ ব্যবস্থা ইত্যাদির সাথে। তার মাধ্যমেই ইউরোপ প্রথম জানতে পারে যে চীনারা সুদূর প্রাচ্যের অধিবাসী হলেও তারা বন্য বা অসভ্য নয়, বরং সে দেশের রয়েছে এক অনন্য নিজস্ব সভ্যতা ও সংস্কৃতি। চীনারা আবিষ্কার করেছে বারুদ, কাগজ, প্রাচীন ছাপাখানা ইত্যাদি। কাগজের আবিষ্কার হওয়ায় আগেকার যুগের চামড়া দিয়ে তৈরি বিশাল বিশাল বইপুস্তক অনাবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়। ইউরোপসহ বাকী পৃথিবী চীনাদের এই কাগজ তৈরির কায়দা থেকে কতটুকু উপকৃত হয়েছিল, তা এই ছোট্ট বইটি হাতে নিয়ে তোমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ।
মার্কোপোলোর ভ্রমণকাহিনী যখন ইউরোপিয়ানরা জানতে পারল তখন কি ঘটল জান? তখন যা হলো তাকে বলা যায় একটা বিষ্ফোরণ। এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে তারা চারদিকে বের হয়ে পড়তে চাইল—একদিকে আবিষ্কারের নেশায় আর সেই সাথে লাভেরও আশায়। প্রথমেই তাদের চোখ পড়ল কাছাকাছি আফ্রিকার দিকে। ভূমধ্যসাগরের উপকূলভাগ ছাড়া বাকি সমস্ত আফ্রিকা মহাদেশটির রহস্য তখনও তাদের কাছে অজানা, অজানা দুর্গম আফ্রিকায় লুকানো সম্পদের পরিমাণও। কিন্তু অভিযান বা পর্যটন সহজ নয় যদি টাকা-পয়সা, লোক-লস্কর, জাহাজ, ঘোড়া ইত্যাদি সাথে না থাকে। দুঃসাহসী অভিযাত্রীরা তাই ধর্না দিতে লাগলো ইউরোপের নানা দেশের রাজ-রাজরার দরবারে। তাদের সাহায্য নিয়েই দিকে দিকে তারা শুরু করল তাদের অভিযান। আর এ সমস্ত অভিযাত্রীদের সাহায্য করতে রাজারাও স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছিল, কারণ নতুন নতুন দেশ আবিষ্কার মানেই একদিকে যেমন ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, তেমনি অন্যদিকে সোনাদানা আর সম্পদ অধিকারের সুযোগ।
কালো আফ্রিকানরা প্রথমদিকে তাদের দেশে সাদা চামড়ার ইউরোপিয়ানদের দেখে যে খুব অবাক হয়ে গিয়েছিল, তা তোমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ। প্রথম দিকে তারা নাচগান আর উপহারের মাধ্যমে এইসব বিদেশিদের খুশি করতে চেয়েছে। সোনার সঠিক মূল্য জানা ছিল না বলে তারা ইউরোপিয়ানদের কাছ থেকে সামান্য কাঁচের টুকরাও সোনার বিনিময়ে কিনে নিয়েছে। অথবা কিনেছে গুলিবিহীন পুরোনো বন্দুক, যা শুধুমাত্র লাঠি হিসাবেই ব্যবহার করা যায়। চতুর ইউরোপিয়ানরা কালো আফ্রিকানদের এই সরলতা দেখে মনে মনে হেসেছে, আর এঁকে নিয়েছে পাহাড়-বন-নদীর বিস্তৃত মানচিত্র। ধীরে ধীরে তারা গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো—তার অপরিমেয় ঐশ্বর্য, অর্থাৎ সোনাদানা, খনিজ সম্পদ, মুল্যবান গাছ ও কাঠ ইত্যাদি সবই দখল করে নেয়। প্রায় প্রতিটি ইউরোপিয়ান দেশই তৈরি করল তাদের উপনিবেশ, অর্থাৎ দখল করা দেশ বা দেশের অংশ। এরচেয়েও হীন কাজ তারা যা করলো তা হলো কালো আফ্রিকানদের ধরে নিয়ে দলবেঁধে জাহাজে ভর্তি করে অন্যদেশে ক্রীতদাস হিসাবে বিক্রি করতে শুরু করল। সবচেয়ে বেশি ক্রীতদাস বিক্রি হয়েছে আমেরিকাতে,
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments